মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি জোরপূর্বক জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ

avijug imageনিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজারটাইমসডটকম, ০৬ আগস্ট: কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদে এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি প্রতিপক্ষের লোকজন জোরপূর্বক জবরদখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ভূক্তভোগী পরিবার কক্সবাজার সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের গোমাতলী এলাকার মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে আব্দুল শুক্কুর ৭১’র রণাঙ্গনের একজন মুক্তিযোদ্ধা। বিগত ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মুক্তি নম্বর- ২১৬৯৫ এবং স্মারক নম্বর- মুবিম/সা/কক্সবাজার/প্র-৩/২৮/২০০২/৪৯। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী সেতারা বেগম এখনো প্রতিমাসে স্বামীর অনুকূলে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পান।

সেতারা বেগম বলেন, কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ মৌজার শিয়াপাড়ায় ১৯৭২-৭৩ সালে ৪৪৭ নম্বর বন্দোবস্তি মামলামূলে দেড় একর জমি বরাদ্ধ পান। যার আরএস খতিয়ান নম্বর- ৩২৭৩ ও আরএস দাগ নম্বর- ১০০১। যা বিএস ২ নম্বর খতিয়ানের বিএস ১৫০১ দাগের অন্দর। উল্লেখিত জমির বিএস খতিয়ান সৃজনের জন্য কক্সবাজার সাব জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত বিগত ২০০০ সালের ২৮ জুলাই আব্দুল শুক্কুর এর অনুকূলে বিএস খতিয়ান সৃজনের জন্য আদেশ প্রদান করেন। যার নম্বর-১৫/২০০০ ইং।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সন্তানদের নাবালক অবস্থায় আমার স্বামী মারা যান। তাঁর নামে বন্দোবস্তি মামলার অনুকূলে বরাদ্ধ পাওয়া জমির পাশে আগে থেকে সাড়ে ৩ কানি বনবিভাগের খাস জমির উপর পৈত্রিক ভিটে-বাড়ী ছিল। ওই সূত্রে আমার স্বামীর নামে বন্দোবস্তির অনুকূলে বরাদ্ধ পাওয়া জমিও তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করে আসছিল বোন মাহমুদা খাতুন ও ছৈয়দা খাতুন। এ নিয়ে আমার স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে বোনদের স্বামী ও সন্তানরা বন্দোবস্তি পাওয়া জমি ভোগ-দখল করতে দেয়নি। পরবর্তীতে তারা দীর্ঘসময় থেকে ওই জমি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টা করে আসছে। আমাদেরও নানাভাবে হুমকী-ধমকীসহ হয়রানী করে আসছে।’

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সেতারা বলেন, ‘গত ২৪ জুলাই আমি সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে বিরোধীয় ওই জমি দেখতে যাই। এসময় আমার ননদদের স্বামী জাফর আলম ও বাদশা মিয়া তাদের সন্তানদের নিয়ে বাধা প্রদান করেন। এক পর্যায়ে বাদশা মিয়ার ছেলে শফিউল আজম ও তার সঙ্গে থাকা সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এ নিয়ে গত ২৫ জুলাই কক্সবাজার সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য তারা এখনো নানাভাবে হুমকী-ধমকী দিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার সদর থানার এস.আই মনোয়ার হোসেন জানান, এক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা ও তাদের উপর হামলার ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিরোধীয় জমিতে কোন পক্ষকে দখলে না যেতে স্থানীয় ইউপি সদস্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওই জমির এখন স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিন্মায় রয়েছে। বিষয়টি আপতত সামাজিকভাবে মিমাংসার চেষ্টা চলছে।

ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল শুক্কুর জানান, বিরোধীয় জমি এখন তার জিন্মায় রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশে বিরোধীয় জমিতে কোন পক্ষকে দখলে যেতে দিইনি।
হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শফিউল আজম অভিযোগ অস্বীকার করেন বলেন, জমি বিরোধের মূল ঘটনাকে আড়াল করতে তারা এখন মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like