দুদক নিজেই আইন মানে না : চেয়ারম্যান

নিউজ ডেস্ক : দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিজেই আইন মানে না বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান  ইকবাল মাহমুদ। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির খসড়া কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা-(২০১৬-২০২১) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুশিল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা হয়তো কেউ জানেন না, আমাদের এই প্রতিষ্ঠানে (দুদক) আইন মানা হয় না। আইনগতভাবে ৩০ দিন হচ্ছে অনুসন্ধানের সময়, সেই অনুসন্ধান কাজ চলে চার বছর, আবার কখনো ১০ বছর’।

দুদকের এই চেয়ারম্যান কর্মকর্তাদের এসব কর্মকাণ্ডের একটি দিক উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের এক উপপরিচালক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চেয়েছেন। আবার একজন পরিচালক (ডিরেক্টর) সেই একই তথ্য চেয়েছেন। আবার দেখা গেলো তার তিন বছর আগে আনা সেই তথ্য আমাদের অফিসেই জমা আছে। তাহলে আমরা কী করবো!’

তিনি এসব কর্মকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে ‘ডিসক্রিশন’ বা ‘ইচ্ছানুযায়ী’ কাজ করার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদেরসহ সরকারি কাজকর্মে অথবা মাল্টিন্যাশনাল কাজে আমরা ডিসক্রিশন (ইচ্ছাধীনতা) কমানোর কাজ করছি। যত ডিসক্রিশন কমাবেন তত দুর্নীতি কমবে। আমাদের যত সমস্যা এই ডিসক্রিশনের জন্য।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা অনেকেই দুদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন- যেমন বড় কিছু ধরা হচ্ছে না। আমরা সেই অভিযোগ মাথা পেতে নিচ্ছি। তবে এক্ষেত্রে আমাদের পরিবেশ, সমস্যা ও সময় সব কিছুই আপনাদের বিবেচনা করতে হবে।’

তবে একদিন সবকিছু ভালো হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সত্য একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই। আপনারা দেখছেন শ্লথ গতীতে হলেও মানুষের জবাবদিহীতার জায়গা তৈরি হচ্ছে।’ শুধু দুদকে নয়, সরকারের বিভিন্ন জায়গায় জবাবদিহীতা হচ্ছে বলেও যোগ করেন তিনি।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের শুধু দুর্নীতির জন্য ধরপাকড় করলেই হবে না। মূল থেকে দুর্নীতি নির্মূলের জন্য শিক্ষা থেকে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তবে এখন স্কুলেও বিভিন্ন ধরণের দুর্নীতি হয়। শিক্ষায় আলোকিত হওয়াও বদলে মানুষ পুলোকিত হচ্ছে। শিক্ষায় গোল্ডেন ফাইভ, সার্টিফিকেট এগুলোই এখন যথেষ্ঠ। তবে এসব সার্টিফিকেট দিয়েও এখন কিছু হচ্ছে না। চাকরির জন্য ঘুষের প্রয়োজন হচ্ছে, তাই সার্টিফিকেট কাজে আসছে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার সর্বশেষ কথা হলো- সুশাসনের অভাবটাই অটোমান সম্রাজ্য পতনের মূল কারণ ছিল। তাই দুর্নীতির কারণে একটা সমাজ ধ্বংস হতে পারে। এজন্য আমাদের সবাইকে সোচ্চার হওয়া দরকার। এই দুর্নীতি লাগাম টেনে ধরা দরকার আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।’

দুদক কমিশনার ড. নাসির উদ্দিন আহমেদের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির, বিশিষ্ঠ সমাজ বিজ্ঞানী মিজানুর রহমান শেলী, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, সুসাশনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ এবং দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান প্রমুখ।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like