মেজর জিয়া ও তামিমকে ধরিয়ে দিলেই ৪০ লাখ টাকা

2016_08_02_12_40_15_k3D3DBk8f8v5TZLlT3b8Liu0UdwCF9_original

মেজর জিয়া ও তামিম চৌধুরী

নিউজ ডেস্ক :  গুলশান-শোলাকিয়াসহ সম্প্রতি সংঘটিত বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিহামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম পলাতক মেজর (বরখাস্ত) জিয়া ও তামিম চৌধুরীকে ধরিয়ে দিলে ২০ লাখ টাকা করে মোট ৪০ লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পুলিশ প্রধান এ কে এম শহিদুল হক। এদের দুজনকে গুলশানের হলি আর্টিসান, শোলাকিয়ায় হামলায় ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, ‘তামিম চৌধুরী গুলশান হামলার আগে দেশেই ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার পরে সে বিদেশে চলে যেতে পারে, যেহেতু জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) অর্থায়ন বিদেশ থেকেই হয়।’

মেজর জিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জিয়া আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের (এবিটি) সমন্বয়কের কাজ করেছে। জিয়াও দেশের বাইরে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।’

পুলিশ জানায়, তামিমের পুরো নাম তামিম আহমেদ চৌধুরী। তার বাবা শফিক আহমেদ চৌধুরী, মা খালেদা শফি চৌধুরী। তাদের বাড়ি সিলেটের বিয়ানিবাজার থানার দোবাক ইউনিয়নের বড়গ্রাম সাদিমাপুরে। তামিমের বর্তমান পাসপোর্ট নম্বর : এএফ-২৮৩৭০৭৬ ও পুরনো পাসপোর্ট নম্বর এল-০৬৩৩৪৭৮।

তামিম চৌধুরীর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর : ১৯৮৬০০৯১২৪১০০১৩৪২। তার জন্ম ১৯৮৬ সালের ২৫ জুলাই। সর্বশেষ তিনি দুবাই থেকে ইত্তেহাত এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসেন ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর।

অন্যদিকে মেজর জিয়ার পুরো নাম সৈয়দ মো. জিয়াউল হক। তার বাবা সৈয়দ মো. জিল্লুল হক। তাদের বাড়ি মৌলভীবাজারের মোস্তফাপুর গ্রামে। জিয়ার সর্বশেষ ব্যবহৃত ঠিকানা ছিল : পলাশ, ১২ তলা, মিরপুর, সেনানিবাস, ঢাকা। তার পাসপোর্ট নম্বর এক্স-০৬১৪৯২৩।

জিয়ার বাবার বর্তমান ঠিকানা : বাড়ি নম্বর ৫১২ (৩য় তলা), রোড নম্বর-০৯, বারিধারা, ডিওএইচএস, ঢাকা।

২০১২ সালে এক ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টায় চাকরি হারান মেজর জিয়া। এই ঘটনার পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহরিরের সংশ্লিষ্টতা আছে বলে ধারণা করা হয়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, চাকরি হারানোর পর থেকেই তিনি এবিটির সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব নেন। সামরিক প্রশিক্ষণ দেন দু’শতাধিক সদস্যকে। পরবর্তীতে এই প্রশিক্ষিত সদস্যদের মাধ্যমে লেখক-প্রকাশক, ব্লগার ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের হত্যার টার্গেট সেট করে কিলিং মিশন পরিচালনা করেন, এমন তথ্যও রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কথিত বাংলাদেশ সমন্বয়ক তামিম চৌধুরীকে গুলশান হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের একজন বলে চিহ্নিত করে গোয়েন্দারা।

২০১৩ সালে কানাডা থেকে ঢাকায় আসেন তামিম। কল্যাণপুরে জঙ্গিদের গোপন ডেরায় বৈঠক ও সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য তাদের উজ্জীবিত এবং আর্থিক সহায়তা দিতেন বলেও এর আগে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like