টেকনাফে আটক ৪ জঙ্গি এখনো বিজিবি হেফাজতে

saudi & ebrahim

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজারটাইমসডটকম, ৩১ জুলাই: কক্সবাজারের টেকনাফে শনিবার আটক হওয়া রোহিঙ্গা জঙ্গি সহ ৪ জন এখনো বিজিবির হেফাজতে রয়েছে। এ ব্যাপারে বিজিরি পক্ষে কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও একাধিক সূত্র বলছে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

সূত্র বলছে, আটক রোহিঙ্গা জঙ্গি ছালাউল ইসলাম এবং সৌদি নাগরিক আবু সালেহ আল আহম্মেদ গাম্মীর সাথে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া টেকনাফের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভী রফিক উদ্দিন, বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ উদ্দিন। তবে সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির দাবী জঙ্গি আটক করার কথা শুনে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন।

ট্রাস্কফোর্স অভিযানে নেতৃত্বদানকারি টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ ইকবাল রোববার দুপুরে জানান, অভিযানে আটক ৪ জন বিজিবি হেফাজতে রয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অভিযান শুরুতে তিনি সংসদ সদস্যকে ঘটনাস্থলে দেখেছেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, আটক ৪ জন এখনো পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়নি। করলেই পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Coxs Pic- Salaul islamজানা যায়, আরএসও’র সামরিক বাহিনীর প্রধান হাফেজ সালাউল ইসলাম। গোয়েন্দা সূত্র মতে, সালাউল ইসলাম ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠন আরএসওর সঙ্গে জড়িয়ে যান। তিনি কক্সবাজারের হ্নীলা জামেয়া দারুসুন্নাহ ও জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়াসহ বেশ কয়েকটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করার পর সৌদি আরব চলে যান। আরএসওর মাধ্যমেই সৌদি আরবসহ বিদেশি বিভিন্ন মহলের সঙ্গে তার সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর বাংলাদেশে আরএসও’র কার্যক্রমে মূল দায়িত্বে চলে আসেন তিনি। মূলত, আরএসও’র সামরিক ও অর্থ বিভাগের সমন্বয় করেন হাফেজ সালাউল। এ কাজ করে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ধনকুবের ও জঙ্গি গোষ্ঠীর আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। পরে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি গোষ্ঠীর অর্থায়নে কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফ, রামু ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে কাজ শুরু করেন তিনি। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে কক্সবাজারের লিংকরোডের দক্ষিণ মহুরীপাড়া এলাকায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আল হারামাইন সংস্থার আড়ালে সালাউল স্থায়ী আস্তানা গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। ওই এলাকায় কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার দানবীর দুদু মিয়ার কাছ থেকে মসজিদ স্থাপনের নামে ১০ শতক জমি চেয়েনেন সালাউল। আর ওই ১০ শতক জমিতে ভর করে দুদু মিয়া এবং এলাকার মানুষের বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে প্রায় ৩ একর সরকারি পাহাড়ি জমি দখল করে নেন। নির্বিচারে পাহাড় কেটে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে ইমাম মুসলিম (রা.) ইসলামিক সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১৩ সালে ২১ মার্চ টেকনাফের হ্নীলার একটি মাদ্রাসায় গোপন বৈঠককালে আরএসওর শীর্ষ নেতা হাফেজ সালাউল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। তাকে ১৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার শহরে জামায়াত-শিবিরের তান্ডবের ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত তাকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। কিন্তু, জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ আদালতে যে প্রতিবেদন দাখিল করেন তার উপর ভিত্তি করে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান সালাউল।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like