আ.লীগের অফিস পুড়িয়েছিলেন জঙ্গি জোবায়ের

2016_07_27_21_12_58_GgNhKpjsDP98ujPhoFgmCYbzaaVpo6_originalজাতীয় ডেস্ক : রাজধানীর কল্যাণপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের সময় নিহততের মধ্যে একজন জোবায়ের হোসেন (২২)। তার বাড়ি নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের পশ্চিম মাইজদী গ্রামে। তার বাবা আবদুল কাইয়ুম। তিনি নোয়াখালী সরকারি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র।

এলাকাবাসী জানায়, ২০১৩ সালে জামায়াত-শিবিরের টানা হরতাল অবরোধ চলাকালীন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের অফিসে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন জোবায়ের। সেদিন পুলিশের গুলিতে তিনি আহতও হয়েছিলেন।

জোবায়ের হোসেনের বাবা আবদুল কাইয়ুম বুধবার বিকেলে বাংলামেইলকে জানান, গত ২৫ জুন থেকে নিখোঁজ ছিল তার ছেলে জোবায়ের। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পায়নি তার পরিবার। প্রায় ১৭ দিন পরে ১২ জুলাই ছেলেকে নিখোঁজ দেখিয়ে সুধারাম থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজবাড়িতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহতদের ছবি বিভিন্ন অনলাইন, টেলিভিশন ও ফেসবুকে প্রকাশিত হলে চোখ পড়ে জোবায়েরের বাবার। একটি ছবি তার ছেলের বলে প্রথমে ধারণা করেন। এরপর পুলিশ রাতেই আবদুল কাইয়ুমকে বিষয়টি অবহিত করলে ছবি দেখে তিনি তার ছেলেকে শনাক্ত করেন।

ছেলে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল কিনা? এমন প্রশ্নের কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি জঙ্গি জোবায়েরের বাবা। তবে স্থানীয়রা বাংলামেইলের কাছে দাবি করেন, জোবায়ের ২০১৩ সালে জামায়াত-শিবিরের টানা হরতাল অবরোধ চলাকালীন নাশকতায় জড়িত ছিল। এক পর্যায়ে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুড়িয়ে দেয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল। সেদিন পুলিশ তাকে লক্ষ্য গুলি ছুড়লে সে আহতও হয়েছিল।

আবদুল কাইয়ুম অভিযোগ করে বাংলামেইলকে জানান, একই বাড়ির খালেদ মোহাম্মদ আলী প্রকাশ বাহাদুর (৪৫) নামে তার এক প্রতিবেশি জামায়াত রাজনীতির সঙ্গি জড়িত ছিল। এই বাহাদুরই তার ছেলে জোবায়েরকে বিপথে নিয়ে গেছে।

কাইয়ুম বাংলামেইলকে বলেন, ‘বাহাদুরের বাবা ছিলেন স্বাধীনতা বিরোধী। মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজাকার ছিলেন। একাত্তরের ৭ ডিসেম্বর নোয়াখালী মুক্ত হয়। ওই দিনই মুক্তিযোদ্ধারা বাহাদুরের বাবাকে হত্যা করে।’

স্থানীয়রা বাংলামেইলকে জানান, জোবায়েরকে বিপথে নেয়া বাহাদুর দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ছিল। আজ থেকে ৬/৭ বছর আগে সে দেশে ফিরে আসে। তবে দেশে আসার পরে সে কোনো কাজ করতো না। কোথায় কোথায় থাকতো কেউ জানতোও না। কয়েকদিন পর পর বাড়ি ফিরতো। তবে বাড়ি ফিরে এলেই জোবায়েরসহ স্থানীয় কিছু যুবককে সঙ্গে নিয়ে নানা অপকর্ম করতো। বাহাদুর জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।

সর্বশেষ গত ৪ মে থেকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বাহাদুরকে। এ ঘটনার প্রায় দেড় মাস পড় ১৪ জুলাই তার স্ত্রী সাহেদা বেগম সুধারাম থানায় জিডি করেন।

বাহাদুরের চাচা এ ব্যাপারে বাংলামেইলকে জানান, নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগে বাহাদুর তার একটি জমি বিক্রির বায়না করে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ছাড়ে। তার আচার আচরণ ছিল সন্দেহজনক। শুধুই বাইরের লোকজনের সঙ্গেই নয়, বাহাদুর তার আপন ভাইসহ বাড়ির প্রায় সব লোকের সঙ্গে ঝামেলায় জড়াতো। এর মধ্যে অনেককে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। এই বাহাদুরের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক ছিল জোবায়ের হোসেনের।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ইলিয়াছ শরীফ বাংলামেইলকে জানান, সম্প্রতি জেলা থেকে ৬ জন নিখোঁজের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে জোবায়ের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতে পারে বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার কল্যাণপুরে ৯ জঙ্গি নিহত হওয়ার পর ছবি প্রকাশিত হলে জোবায়েরের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। তারা ছবি দেখে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে বুধবার পুলিশের তত্ত্বাবধানে তার বাবাসহ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনকে ঢাকায় লাশ শনাক্ত করার জন্য পাঠানো হয়।

এসপি আরো বলেন, জঙ্গি কর্মকাণ্ডে বাহাদুর সম্পৃক্ত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বাহাদুরের বিষয়ে তার স্ত্রী এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

এদিকে, নিখোঁজদের সর্বশেষ তালিকায় নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার ছয়ানী টবগা গ্রামের মাকছুদের রহমান কিশোরের ছেলে হাফেজ হাবিবুর রহমান ওরফে ইয়াছিন (১৬) নামে একজনের নাম প্রকাশিত হয়। সে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী চৌরাস্তার দারুল কোরআন মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। তার সম্পর্কে পুলিশ তদন্ত করছে বলেও এসপি জানান।

অপরদিকে, গেল ৬/৭ মাস আগে থেকে পশ্চিম মাইজদী গ্রামের রাজমিস্ত্রি হোসেন আহমেদ তুহিন (৩৮) নিখোঁজ। বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার পুলিশ তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নেয়। পুলিশ সুধারাম থানায় এ ব্যাপারে জিডিও করেছেন।

প্রসঙ্গত, র‌্যাবের প্রকাশিত নিখোঁজের তালিকায় নিহত জোবায়ের হোসেনসহ ৬ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই তালিকার নিখোঁজ অন্যরা হচ্ছেন- সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও দক্ষিণপাড়ার রণগাজী মিয়াজী বাড়ির আবুল হাশেম ছেলে মাঈন উদ্দিন, একই উপজেলার আমকি গ্রামের খালেক মেম্বার বাড়ির সায়েদুর করিমের ছেলে ইজাজুল হক, বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার পৌর করিমপুর ৪নং ওয়ার্ডের রুহুল আমিনের ছেলে ইউসুফ, একই উপজেলার ভবভদ্রী গ্রামের ভাষাণ দেবনাথের ছেলে অয়ন দেবনাথ এবং চাটখিল উপজেলার ছয়ানী টগবা গ্রামের মাকছুদুর রহমান কিশোরের ছেলে হাফেজ হাবিবুর রহমান।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like