মানুষ যেন ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন

নিউজ ডেস্ক : সরকারি কর্মীদের জনসেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে মানুষ যেন ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা পায় সেদিকে বিশেষভাবে নজর দেয়ার জন্য তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

শনিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জনপ্রশাসন পদক-১৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনে সরকারি কর্মকর্তাদের উৎসাহ দিতে এই প্রথম এ ধরনের পদক চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, আমরা মুসলমান, ধর্ম পালন করি। এখানে সবাই স্ব স্ব ধর্ম পালন করে। কিন্তু বেহেস্তে গিয়ে হুর-পরী পাওয়ার জন্য মানুষ খুন করতে হবে-এটা ইসলামের শিক্ষা নয়।’

মাঠ পর্যায়ে মানুষ যেন ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা পায় সেজন্য সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য রাখার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশকে এগিয়ে নিতে গেলে নানা সমস্যা আসবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু দিন আগে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ১০ ঘণ্টায় আমরা সেদিনের জিম্মি ঘটনার অবসান করি। বাংলাদেশেই একমাত্র দেশ, যারা এরকম ঘটনা মাত্র ১০ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অনেককে উদ্ধার করতে পেরেছে। এরকম একটার পর একটা ঝামেলা আসে আমরা প্রতিবারই দক্ষতার সঙ্গে মোকাবেলা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন সরকার গঠন করি তখন ঘোষণা দিয়েছিলাম জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করব। ঠিক তেমনভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদেরও কাজ হচ্ছে জনগণের সেবা করা, জনগণের কল্যাণ করা। কাজেই সেই সেবার মনোভাব নিয়ে সবাইকে স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যেসব পদোন্নতি বন্ধ ছিল, সেগুলোতে ব্যাপকহারে পদোন্নতি দিয়েছি। আমরা এ পর্যন্ত ১১৯ জন সচিব, ৬৯৪ জন অতিরিক্ত সচিব ১ হাজার ৪৮৫ জন যুগ্ম সচিব ১ হাজার ৪৯৯ জন উপ-সচিবকে ইতোমধ্যে পদোন্নতি দিয়েছি। এ পদোন্নতি শুধু এখানে নয় সব জায়গাতেই দিয়েছি। দেশের ইতিহাসে এত পদোন্নতি কখনো হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘২০০৯ সালে আমরা সকলের বেতন ৬১ ভাগ বৃদ্ধি করি। ২০১৫ সালে
আবার বেতন ১২৩ ভাগে উন্নীত করা হয়েছে। প্রায় ১৮৪ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। আর এই বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে তারা যেন পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারে। পাশাপাশি সরকারি কাজে যেন আরো গতিশীলতা আসে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এই দেশটা ছিল যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ। জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছরে এই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলেছেন। এই সময় তিনি দেশের রাস্তা ঘাট, ব্রিজ মেরামত করে পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র কাঠামো তৈরি করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি
আদায়ে কাজও তিনি করেছেন।’

আজ আমরা যেখানে কাজ করতে যাই সেখানেই দেখতে পাই এর ভিত্তি করে দিয়ে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা অর্থনৈতিকভাব যতেষ্ট শক্তিশালী। আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনার ৯০ ভাগ এখন নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বাস্তবায়ন করতে পারি। বাজেট বৃদ্ধি হচ্ছে, রিজার্ভ সন্তোষজনক, মাথাপিচু আয় বেড়েছে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রশাসনে কর্মরত সকলের সহযোগিতায় আমরা এসব কাজ সফলভাবে করতে পেরেছি।’

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like