দেশে ফিরে আপিল করবেন তারেক

রাজনীতি ডেস্ক : বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে মুদ্রা পাচার মামলায় আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

তিনি জানান, ‘আইনের বিধান অনুযায়ী, তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরে না আসলে এ মামলায় তার পক্ষে আপিল করা সম্ভব নয়।’

শুক্রবার (২২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান খন্দকার মাহবুব হোসেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান বিভিন্ন মামলা মাথায় নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে রয়েছেন। শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টাসহ আরও দুর্নীতি, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

খন্দকার মাহবুব দাবি করেন, তারেক মুদ্রা পাচারের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। এমনকি বিদেশের কোনো ব্যাংকেও তার একটি পয়সাও নেই। কিন্তু তারপরেও তাকে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে।

‘তার অপরাধ, তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র এবং বিএনপির অন্যতম নেতা ও আমাদের আগামীদিনের সেনাপতি’, বলেন এ আইনজীবী।

তারেককে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি, পর্যুদস্ত ও জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই সরকার ২০০৩-০৬ সালের ঘটনার ওপর ২০০৯ সালে মামলা করে এবং তার অনুপস্থিতিতে সাজা দেয়া হয়েছে, দাবি খন্দকার মাহবুবের।

হাইকোর্টে মামলার শুনানির সময়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই সাজা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। কারণ, হাইকোর্টে একতরফাভাবে বিচার করা হয়েছে। সেখানে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কোনো আইনজীবী বক্তব্য রাখতে পারেননি। একটি লোকের (তারেক রহমান) হাত-পা বেঁধে দিয়ে তাকে দুর্নীতিবাজ বলে অর্থ পাচার করেছে বলা হলো। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে আমরাই বা কোথায় যাব, আর দেশের সাধারণ মানুষই বা কোথায় যাবে?’

সরকারের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘এখনও সময় আছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য আদালতের শরণাপন্ন না হয়ে রাজপথে আসুন। এ ব্যাপারে রাজপথে ফয়সালা করি। আর যদি আদালতে আসতেই হয়, তাহলে সঠিকভাবে সঠিক ব্যক্তি দিয়ে তদন্ত করিয়ে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণের ব্যবস্থা করুন। পেছনের দরজা দিয়ে যদি সাজা দেয়ার চেষ্টা করেন তাহলে এর পরিণতি ভাল হবে না। দেশে আইনের শাসন ধ্বংস হয়ে যাবে। মানুষের বিচার ব্যবস্থার ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান  যখন বাংলার মাটিতে আসতে পারবেন, তখন এই মামলায় আমরা আপিল করব। আপিল করে আমরা দেখাব, মামলাটি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে হয়েছিল। ফৌজদারি মামলার কোনো লিমিটেশন নেই। ২০ বছর, ৩০ বছর বা যেকোনো সময় ফৌজদারি মামলা করা যায়। আমি বিশ্বাস করি, এই মামলায় একদিন সুবিচার হবে। তখন দেশের মানুষ জানতে পারবে, তারেক রহমানকে অন্যায়ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য সরকার সাজা দিয়েছে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে এই মামলাটি করা হয়েছে এবং তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। সুতরাং আইনের বিধান অনুযায়ী, যে পর্যন্ত না তারেক রহমান বাংলাদেশে আসেন এবং এখানে হাজির হন, ততক্ষণ পর্যন্ত তার পক্ষে আপিল করা সম্ভব নয়।’

গতকাল বৃহস্পতিবার আইনমন্ত্রী বলেছেন, বিচারিক আদালতে বিচারকদের প্রভাবিত করে রায় দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সুপ্রিম কোটের এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, ‘এই কথা আমিও বলি। তাদের (আইনমন্ত্রী) কথা অনুযায়ী, বিএনপির পক্ষে যদি বিচারিক আদালতকে প্রভাবিত করা সম্ভব হয়, তাহলে সরকারপক্ষ কতটা প্রভাবিত করতে পারেন বিংবা কোন পর্যন্ত যেতে পারেন, সেটা আপনারাই (গণমাধ্যম কর্মী) ভাবুন।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইমলাম খান; ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ; সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবর রহমান সরোয়ার, খায়রুল কবির খোকন; সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, ঢাকা মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like