মাত্র ৯ শতাংশ শরণার্থী আশ্রয় দিয়েছে সবচে ধনী ৬ দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শরণার্থী সমস্যা বর্তমান বিশ্বের মানবিক সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ সমস্যা নিরসনে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো সব সময়ই নানা উপদেশমূলক কথা বলে থাকে। অথচ বাস্তবে এক্ষেত্রে তাদের নিজেদের অবদান নেই বললেই চলে। বিশ্বের সবচে ধনী ছয়টি দেশ মিলে আশ্রয় দিয়েছে মাত্র নয় শতাংশ শরণার্থীকে।

সম্প্রতি দারিদ্র্য বিমোচন বিষয়ক সংস্থা অক্সফ্যাম’র এক প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য। এতে দেখা যায়, বিশ্বের সবচে ধনী ছয়টি দেশ সারা পৃথিবীর মোট সম্পদের প্রায় ৬০ শতাংশের মালিক হওয়া সত্ত্বেও শরণার্থীদের আশ্রয়দানে তাদের অবস্থা অবদান নেই বললেই চলে।

অক্সফ্যাম’র প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য মিলে বিশ্বের মোট সম্পদের ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশের মালিক। অথচ তারা আশ্রয় দিয়েছে মাত্র ২১ লাখ শরণার্থী, যা মোট শরণার্থী সংখ্যার ৮ দশমিক ৯ শতাংশ।

আবার এই ৮ দশমিক ৯ শতাংশ শরণার্থীর তিনভাগের একভাগ আশ্রয় দিয়েছে জার্মানি একাই। বর্তমানে জার্মানিতে শরণার্থী সংখ্যা ৭ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪০ জন। বাকি ১৪ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে উন্নত অন্য পাঁচ দেশ। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৯৩৭ জনকে আশ্রয় দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

শরণার্থীদের আশ্রয়দানের এই তালিকা তুলে ধরেন অক্সফ্যাম’র নির্বাহী প্রধান মার্ক গোল্ডরিং। শরণার্থী আশ্রয়দানে উন্নত দেশগুলোর অবস্থানকে তিনি ‘লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন।

বিপরীত দিকে দেখা যায়, বিশ্বের মোট সম্পদের মাত্র দুই শতাংশের মালিক হয়েও জর্দান, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, পাকিস্তান, লেবানন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা আশ্রয় দিয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ শরণার্থী। অর্থাৎ বিশ্বের মোট শরণার্থীর ৫০ শতাংশের আশ্রয় মিলেছে এই দেশগুলোতে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র ২০১৫ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, সহিংসতা, যুদ্ধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত গৃহহীন হয়েছে বিশ্বের ৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষ, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সিরিয়া যুদ্ধের কারণে গৃহহীন হয়েছে সবচে বেশি সংখ্যা মানুষ।

গৃহহারা এসব মানুষের বেশিরভাগই পাড়ি জমিয়েছে জর্দান এবং তুরস্কে। সবচে বেশি সংখ্যা শরণার্থী আশ্রয় দিয়েছে এই দুটি দেশই। জর্দান আশ্রয় দিয়েছে ২৮ লাখ শরণার্থী এবং তুরস্ক আশ্রয় দিয়েছে ২৭ লাখ ৫০ হাজার শরণার্থী।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like