মিতু হত্যা : ভোলাসহ তিনজন রিমান্ডে

চট্টগ্রাম ডেস্ক: পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার সন্দেহভাজন তিন আসামিকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে চট্টগ্রামের একটি আদালত। রোববার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হারুনুর রশীদের আদালত ডিবির করা ১০ দিনের রিমান্ড অাবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

যাদের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে তারা হলেন, হত্যাকাণ্ডে অস্ত্র সরবরাহকারী এহতেশামুল হক ভোলা, মূলহোতা মুছার ভাই সাঈদুল ইসলাম সাকু ও কিলিং মিশনে ব্যাকআপ টিমের সদস্য শাহজাহান।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পরদিন পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিআই)। তবে মামলার মূল তদন্তে আছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ঘটনার পর গত ২৬ জুন থেকে গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন সময়ে সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেয়া শাহজাহান, ওয়াসিম, আনোয়ার, অস্ত্র সরবরাহকারী এহতেশামুল হক ভোলা, তার সহযোগি মনিরকে গ্রেপ্তার করে।

এ ছাড়াও মূল হোতা মুছার ভাই সাইদুল শিকদার সাকুকেও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সরবরাহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে ওয়াসিম ও আনোয়ার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন।

যদিও গত ৫ জুলাই ভোরে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ঠান্ডাছড়ি এলাকায় অন্যতম সন্দেহভাজন রাশেদ ও নবী গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন, পুলিশ যাদেরকে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ দাবি করে আসছে।

নাটকীয়ভাবে নিজের স্ত্রীকে হত্যার গুজব ছড়িয়ে এসপি বাবুল আক্তারকে গত ২৫ জুন মধ্যরাতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে টানা ১৫ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় ডিবি কার্যালয়ে।

পরে তাকে বাসায় যেতে দিলেও তার বিরুদ্ধে একটি মহল কখনো স্ত্রী মিতুর ‘পরকীয়ার গুজব’ আবার কখনো মুছার স্ত্রী পান্নার সঙ্গে বাবুল আক্তারের ‘পরকীয়ার গুজব’ ছড়িয়ে দেয়।

সোমবার (৪ জুলাই) বাবুল আক্তারকে কোনোদিন দেখেননি কিংবা স্বামীর মুখেও তার নাম শোনেননি বলে সংবাদ সম্মেলন করে জানান মিতু ‍হত্যার ‘মূল আসামি’ কামরুল শিকদার মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার।

তবে হত্যাকাণ্ডের ৪১ দিন পরেও ডিবি এখনো হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদঘাটন করতে না পারার পাশাপাশি মূলহোতা মুছাকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

-বাংলামেইল২৪ডটকমম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like