ভাইয়ের হাতে খুন পাকিস্তানি মডেল

Qandel_beloch1468656788বিনোদন ডেস্ক : ভাইয়ের হাতে খুন হয়েছে সমালোচিত পাকিস্তানি স্যোশালমিডিয়া তারকা এবং মডেল কান্দিল বালোচ। শনিবার (১৬ জুলাই) মুজাফফরবাদের গ্রিন টাউন এলাকার নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন খোলামেলা ভিডিও এবং সাহসী বক্তব্য দিয়ে প্রায়ই সমালোচিত এবং বিতর্কিত হয়েছেন কান্দিল বালোচ।  কান্দিল বালোচের প্রকৃত নাম ফৌজিয়া আজীম। তবে কান্দিল নামেই সবার কাছে বেশি পরিচিত ছিলেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, কান্দিল বালোচকে তার ভাই ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট ও মডেলিং ছেড়ে দেয়ার জন্য হুমকি দিয়েছিলেন। প্রথমে টিভি চ্যানেলে বলা হয়েছিল- কান্দিলের ভাই তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে।

বালোচ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন খোলামেলা ছবি পোস্ট করতেন। এ জন্য তাকে সমালোচনা এবং বিদ্রুপের মুখে পড়তে হয়েছে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তার এ ছবি নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘এই সমাজে কোনো কিছুই ভালো না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সবই খারাপ।’

গত এক সপ্তাহ মুলতানে ছিলেন কান্দিল। তার সপ্তাহ তিন আগে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন অথরিটির কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন বালোচ। তিনি জানিয়েছিলেন, তার জীবন হুমকির মুখে। তাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।  সম্প্রতি আশিক হোসেন নামে এক ব্যক্তি কান্দিলকে তার স্ত্রী বলে দাবি করেন। বিয়ের ব্যাপারটি স্বীকার করে কান্দিল জানিয়েছিলেন, ১৭ বছর বয়সে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। তার স্বামী এবং সন্তান সম্পর্কে কান্দিল একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘আমার স্বামী আমাকে মারধর করত। সে কখনো আমার সন্তানকে বলেনি আমি তার মা। সে আমাকে সব সময় নির্যাতন করত। এক বছর পর আমি আমার সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে দারুল আমানে আশ্রয় নেই।’

অন্যদিকে হোসেনের দাবি তাদের প্রেমের বিয়ে ছিল। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এখনো একটি চিঠি রয়েছে যেটি কান্দিল রক্ত দিয়ে লেখেছিল। সে আমার কাছে একটি বাঙলো এবং গাড়ি চেয়েছিল।’  পাকিস্তানের দক্ষিণ পাঞ্জাবের দেরা গাজী খান জেলার শাহ সদর দিনে আদিবাসী-এলাকায় বেড়ে উঠেছিলেন কান্দিল বালোচ। বাস হোস্টেস হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু তার। এরপর মডেলিংয়ে যোগ দিয়ে নিজের নাম বদলান তিনি।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like