মহানায়ক প্রস্থানের ছয় বছর

বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এক সব্যসাচী শিল্পী বুলবুল আহমেদ। নির্মাণে, অভিনয়ে জীবদ্দশায় নিজে যেমন মেতে ছিলেন, মাতিয়েছেন রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্রের শ্রোতা-দর্শকদেরও। বাংলা চলচ্চিত্রে তার মতো প্রশান্ত সৌম্য চেহারার অভিনেতা আর আসেননি। শ্রুতিমধুর পৌরুষ-দীপ্ত কন্ঠের আভিজাত্য সুদর্শনতার সাথে মানিয়েছিলো খুব। ‘মহানায়ক’ খ্যাত ঢাকার ছবির ‘দেবদাস’ হিসাবে চিরস্মরণীয় এ কীর্তিমানের আজ ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী।

এ মহানায়কের স্মৃতিকে চিরভাস্বর করে রাখতে প্রতিবারের মত এবারও তার আলোচনাসভা ও প্রামান্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে ‘স্বপ্নলোক’। আজ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে দেশের জনপ্রিয় শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক কর্মীবৃন্দসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন- মঞ্চসারথী আতাউর রহমান, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব সোহানুর রহমান সোহান, এফ আই মানিক, নাট্যাভিনেতা ঝুনা চৌধুরী, গাজী রাকায়েত, এস এ হক অলিদ, মোঃ মোস্তফা কামাল রাজ, চয়নিকা চৌধুরী এবং বুলবুল আহমেদ এর সহধর্মিনী ডেইজী আহমেদ।

​৪৪ বছরের মিডিয়া জীবনে বুলবুল আহমেদ প্রায় তিনশ নাটক এবং দুই শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেন। বুলবুল আহমেদ অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র হচ্ছে দুই নয়নের আলো, আর সর্বশেষ টিভি নাটক হচ্ছে ২০০৯ সালে শুটিংকৃত বাবার বাড়ি। টিভিতে বুলবুল আহমেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক হচ্ছে মালঞ্চ, ইডিয়েট, মাল্যদান, বড়দিদি, আরেক ফাল্গুন, শেষ বিকেলের মেয়ে। এর মধ্যে ইডিয়েট নাটকে বুলবুল আহমেদের অভিনয় বেশ প্রশংসিত হয়।

১৯৭২ সালে আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমামের অনুপ্রেরণায় সিনেমায় কাজ শুরু করেন বুলবুল আহমেদ। ১৯৭৩ আবদুল্লাহ ইউসুফ ইমামের (ইউসুফ জহির) মুক্তি পাওয়া ছবি ‘ইয়ে করে বিয়ে’র মাধ্যমে প্রথম বড় পর্দার দর্শকদের সামনে নায়ক হিসেবে আর্বিভাব ঘটে তার। বছর খানেক বিরতির পর আবার বড় পর্দায় আসেন আবদুল্লাহ আল মামুনের অঙ্গীকার ছবির মাধ্যমে। এরপর একে একে কাজ করেন ধীরে বহে মেঘনা, রূপালী সৈকতে, সীমানা পেরিয়ে, সূর্য কন্যা, জন্ম থেকে জ্বলছি সহ বেশ কিছু দর্শকনন্দিত ছবিতে। ১৯৮৭ সালে চাষী নজরুল ইসলামের ‘দেবদাস’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নিজেকে অমর করেন এ অভিনেতা।

চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি কয়েকটি ছবিও পরিচালনা করেন বুলবুল আহমেদ। বুলবুল আহমেদ পরিচালিত উল্লেখযোগ্য ছবি হচ্ছে ওয়াদা, মহানায়ক, ভালো মানুষ, রাজলক্ষ্মী-শ্রীকান্ত, আকর্ষণ, গরম হাওয়া, কত যে আপন প্রভৃতি। এর মধ্যে শেষের চারটি ছবি প্রযোজনাও করেন তিনি।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like