সাংবাদিক দেখেই ক্ষুব্ধ ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক : ‘প্রেস কেন, কে আসতে বলেছে? আমি তো আসতে বলিনি।’ অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে সোমবার রাতে ঢাকার হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে এমন অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ঘটনায় হতবাক হন উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীরা। কারণ বিদেশে যাওয়া ও আসার সময় সাধারণত বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে থাকেন বিএনপির মহাসচিব।

অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিতে ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে গত ৫ জুলাই সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিমানে সস্ত্রীক ঢাকা ত্যাগ করেন বিএনপির মহাসচিব। পরদিন দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছান তারা। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমকে এমন তথ্য জানানো হয়।

তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেমিনারের প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান মির্জা ফখরুল। অস্ট্রেলিয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে থাকেন। ফলে এবারের ঈদ মেয়ের সঙ্গে সেখানেই উদযাপন করেন ফখরুল দম্পতি।

প্রায় সপ্তাহব্যাপী অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে সোমবার (১১জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে ঢাকার হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মির্জা ফখরুল। তবে এর আগে রাত ১০টা থেকেই গণমাধ্যম কর্মীরা বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে কথা বলার জন্য যথারীতি ১নং টার্মিনালের ভেতরে অপেক্ষা করতে থাকেন। অবশেষে শেষ হলো তাদের প্রতিক্ষার প্রহর।

পৌনে দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের ভেতর থেকে বের হয়ে এলেন মির্জা ফখরুল। কিন্তু সেখানে সাংবাদিকদের দেখেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি। বললেন, ‘এখানে প্রেস কেন, কে আসতে বলেছে? আমি তো আসতে বলিনি।’

এরপর সাংবাদিকরা ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনিও তাদের ঈদ শুভেচ্ছা জানান। এরপর বলেন, ‘এখানে কথা বলার কিছু নেই। আমি আমার মেয়ের সঙ্গে ঈদ করতে সস্ত্রীক অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলাম। আমার স্ত্রী ওখানে আছেন। আমি মেয়ের সঙ্গে দেখা করে চলে এসেছি।’

তবে এ সময় অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণের বিষয় নিয়ে কোনো কথা বলেননি বিএনপির মহাসচিব। এমনকি এ বিষয়ে সাংবাদিকদেরও কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত চলে যান।

মির্জা ফখরুলকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে যুবদল সহ-সভাপতি ফরহাদ হোসেন আজাদ ও তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. ইউনুসসহ ঘনিষ্ঠ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-এমপিরা বরাবরই বলে আসছেন, বিএনপির এখন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। একমাত্র মিডিয়াই তাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছে। গণমাধ্যম বিএনপিকে কাভারেজ দেয়া বন্ধ করে দিলে তাদের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে।

এদিকে বিএনপিও বিভিন্ন সময় বলেছে, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও গণমাধ্যম তাদের সংবাদ প্রচার ও প্রকাশ করে চলেছে। এ জন্য গণমাধ্যমকে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে ধন্যবাদও জানানো হয়েছে। তারা বলেছে, আমাদেরকে বাইরে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। ফলে গণমাধ্যমের সহযোগিতায় আমরা আমাদের বক্তব্য ও অবস্থান দেশবাসীর কাছে তুলে ধরছি, দলীয় কর্মকাণ্ডকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

এ জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কিন্তু সোমবার রাতে বিমানবন্দরে মির্জা ফখরুলের এ ধরনের আচরণে গণমাধ্যম কর্মীরা একইসঙ্গে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হন।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like