৫ অভিযোগে এমপি হান্নানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন

আইন-আদালত ডেস্ক : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫টি অভিযোগে ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকার জাতীয় পার্টির বর্তমান সাংসদ এমএ হান্নানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এসময় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা প্রমূখ।

পরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমণ্ডির তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ৪১তম এ তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান, জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক এবং এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের ৩(১), ৪(১) ও ৪(২) ধারা অনুসারে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, গুম, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এম এ হান্নানসহ (৮০) এ মামলার পাঁচ আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। অন্য চারজন হচ্ছেন- এম এ হান্নানের ছেলে রফিক সাজ্জাদ (৬২), ডা. খন্দকার গোলাম সাব্বির আহমদ (৬৪), মিজানুর রহমান মিন্টু (৬৩) ও মো. হরমুজ আলী (৭৩)। পলাতক তিন আসামি হচ্ছেন- ফখরুজ্জামান (৬১), আব্দুস সাত্তার (৬৪) ও খন্দকার গোলাম রব্বানী (৬৩)।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২১ এপ্রিল থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রিশাল উপজেলায় তারা অপরাধগুলো সংঘটিত করেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান গত বছরের ২৮ জুলাই থেকে তদন্তকাজ সম্পন্ন করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১ অক্টোবর প্রসিকিউশনের আবেদনক্রমে এ মামলার আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে ওইদিনই ঢাকায় গ্রেফতার হন এম এ হান্নান ও তার ছেলে রফিক সাজ্জাদ। ময়মনসিংহ সদর ও ত্রিশালে গ্রেপ্তার হন বাকি তিনজন।

গত বছরের ১৯ মে এমপি হান্নানসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহমানের স্ত্রী রহিমা খাতুন।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like