চার লেনের দুই মহাসড়ক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক : ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ-জয়দেবপুর চার লেন মহাসড়ক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (২ জুলাই) সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই মহাসড়ক দুটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনের পর থেকে যান চলাচলের জন্য মহাসড়ক দুটি খুলে দেয়া হয়েছে। এখন থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক মাত্র সাড়ে ৪ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পৌঁছানো যাবে।

এ সময় দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নতুন এই দুই সড়কের চার লেন উদ্বোধন করায় মানুষ যানজট থেকে মুক্তি পাবেন। স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যেতে পারবেন। ঈদ উপহার হিসেবে এ রাস্তা দেশের মানুষকে উৎসর্গ করলাম।’

রাজধানীর গুলশানে রেস্তোরাঁয় অভিযানে ছয় জঙ্গি মারা গেছে এবং তাদের একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপারেশন সফল হয়েছে, কমান্ডো অপারেশনে ১৩ জনকে বাঁচাতে পেরেছি। কয়েকজনকে বাঁচাতে পারিনি, তবে সন্ত্রাসীদের ছয়জনই মারা গেছে, একজন ধরা পড়েছে।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের জানান, মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ১৯২ কিলোমিটার সড়কে ২৩টি ব্রিজ, ২৪৩টি কালভার্ট ও ১৪টি বাইপাসসহ আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হয়েছে। চার লেন মহাসড়কের মাঝখান দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছানুযায়ী বিশেষ কিছু বৃক্ষরোপণ করা হবে। এরপর আগামী বছরের শেষ ভাগ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ২২৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তুতিপর্ব শুরু করা হবে।

এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের পাশাপাশি ময়মনসিংহ-জয়দেবপুর চার লেনের সড়কও একই সময়ে উদ্বোধন করা হবে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী জানান, ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কটি অর্থনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়কপথে যোগাযোগ যুগোপযোগী, সহজতর, দ্রুত, যানজটমুক্ত ও উন্নততর করার লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ঢাকা-চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুততর, নিরাপদ, যানজটমুক্ত ও সহজতর হলো, যা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের কাঁচপুর (মুক্তিসরণী) হতে দাউদকান্দি পর্যন্ত অংশে এক মিটার প্রশস্থ ডিভাইডারসহ চারলেনে উন্নীতকরণের কাজ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সমাপ্ত হয়। এ মহাসড়কের দাউকান্দি হতে চট্টগ্রামের সিটি গেইট পর্যন্ত ১৯০.৪৮ কিলোমিটার অংশকে চারলেনে প্রশস্তকরণ প্রকল্পটি এডিপিভুক্ত অনুমোদিত প্রকল্প।

মোট ১৫টি প্যাকেজর মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। এরমধ্যে সড়ক নির্মাণে ১০টি প্যাকেজ ও সেতু নির্মাণে ৩টি প্যাকেজ তথা মোট ১৩টি প্যাকেজ, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বিষয়ে ১টি ও আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে জনবল নিয়োগে ১টি প্যাকেজ রয়েছে।

৩য় সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি অর্থায়ন করছে জাপান ঋণ মওকুফ তহবিল-জেডিসিএফ।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ি হতে কাঁচপুর অংশ ইতোমধ্যে আটলেনে উন্নীত করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হওয়ায় এ সড়কের উপর যানবাহন এবং পণ্যবাহী পরিবহনের চাপ ক্রমশ বাড়ছে। এ মহাসড়কে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতি সেতু তিনটি বাড়তি যানবাহনের চাপ মোকাবেলা করতে পারছে না। এ বাস্তবতায় সরকার জাইকার অর্থায়নে ৩টি সেতুর পাশে আরো নতুন ৩টি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করেছে। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে সরকার সদ্যসমাপ্ত চারলেন মহাসড়কের পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে।

শিল্পাঞ্চল গাজীপুর জেলা এবং কৃষিজাত পণ্যের ভাণ্ডার বৃহত্তম ময়মনসিংহ জেলার জনসাধারণের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নে জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে ঢাকা হতে ময়মনসিংহ যাতায়াত করতে প্রায় চারঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হতো। এখন ভ্রমণসময় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এছাড়া গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ হতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে পরিবহন সময় ও ব্যয় কমে এসেছে।

ইতোপূর্বে জয়দেবপুর হতে ময়মনসিংহ পর্যন্ত যাতায়াতে মাওনা চৌরাস্তার যানজট ছিল অসহনীয়। প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের মাওনায় একটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বর্তমানে যানজট ছাড়াই যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সম্ভব হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৮৭ কিলোমিটার জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কটিতে মিডিয়ান নির্মাণসহ ১৫৫টি কালর্ভাট, ৫টি নতুন সেতু, ১টি ফ্লাইওভার, ১টি রেলওভার পাস, পথচারীদের নিরাপদ সড়ক পারাপারের লক্ষ্যে ৪টি স্টিল ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে।

সড়কটির নুন্যতম প্রশস্ততা ২১.২ মিটার এবং বাজার ও বানিজ্যিক অংশে প্রশস্ততা প্রায় ২৫-৩৫ মিটার। এ সড়কের বিশেষ দিক হলো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সড়কের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাস-বেসহ ৩ হাজার ৪২৫ মিটার কংক্রিট পেভমেন্ট নির্মাণ।

মহাসড়কে ভ্রমণ আনন্দদায়ক ও পরিবেশবান্ধব করতে ঋতুর সঙ্গে মিল রেখে নানা প্রজাতির গাছ এবং ঋতুভিত্তিক ফুলগাছ রোপন করা হয়েছে। মহাসড়কটি দৃষ্টিনন্দন করতে গাজীপুরে সংরক্ষিত বনাঞ্চল অংশে মিডিয়ান নয় মিটার প্রশস্ততায় সংরক্ষণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি ৪টি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হয়। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এসডব্লিউও (পশ্চিম) যৌথভাবে অত্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করে প্রকল্পটির কাজ শেষ করেছে।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like