আ.লীগে নারী কোটা পূরণে সংশয়!

রাজনীতি ডেস্ক : দলের সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ পদে নারীদের রাখতে হবে। আর এ প্রতিশ্রুতি পূরণে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল ২০২০ সাল পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনের এমন প্রতিশ্রুতি মেনে নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মত ২০০৮ সালে নিবন্ধন নিয়েছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নিবন্ধন নেয়ার পর ২০০৯ ও ২০১২ সালে সম্মেলন করেছিল দলটি। সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের দেয়া শর্ত পূরণে নারী সদস্যদের এক-তৃতীয়াংশ পদে রাখার শর্ত ২০২০ সালের মধ্যে পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গঠনতন্ত্রে সংশোধনী আনা হয়েছিল। কিন্তু নিবন্ধিত সময় থেকে বর্তমান হিসেবে গুনে গুনে ৮টি বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও ক্ষমতাসীন দলের কমিটিতে জায়গা করে নেয়া নারী সদস্য সংখ্যা শতকরা হিসাবে মাত্র ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

আট বছরের হিসাব টেনে পরিসংখ্যান বলছে, আওয়ামী লীগসহ কোনো রাজনৈতিক দলই প্রতিশ্রুতির ধারেকাছেও পৌঁছেনি। আর কমিটিতে নারীদের পদ দেয়ার ধারাবাহিকতায় প্রতিশ্রুতি পূরণে আওয়ামী লীগের সময় লাগবে আরও ২৮ বছর! কিন্তু হাতে আছে মাত্র চার বছর। এর মধ্যে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলটি সম্মেলন পাবে দুটি। কমিটিতে স্থান দিতে হবে শতকরা হিসেবে আরও ২৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ নারীকে। এ সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুতি কোটা পূরণে দলটির মধ্যে দেখা দিয়েছে সংশয়!

এক-তৃতীয়াংশ পূরণ না হওয়ার মধ্যেই তৃতীয় দফা পিছিয়ে আরেকটি সম্মেলনে তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর। আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টরা বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে। এ ব্যাপারে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার আশ্বাস মিলেছে বলে দাবি করছেন তারা। তবে কীভাবে বাকি চার বছরে এই অর্জন সম্ভব হবে, তা কেউই স্পষ্ট করতে পারেননি।

আওয়ামী লীগের কমিটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সভানেত্রী শেখ হাসিনার পর দলের গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদে মতিয়া চৌধুরী ও দীপু মনি। সভাপতিমণ্ডলীর ১২ জন সদস্যের মধ্যে নারী সদস্য রয়েছেন ৪ জন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ১৩১ সদস্যর মধ্যে নারী ৭ জন এবং উপদেষ্টা পরিষদের ৩৪ জনের মধ্যে নারী ২ জন। সভাপতিমণ্ডলীতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য পূরণ হলেও অন্যান্য স্তরে তাদের হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম, যা নিয়ে হতাশ দেশের নারীনেত্রীরা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে প্রতিশ্রুতির ভাল একটা অংশ পূরণ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে দলের নেতারা সব সময়ই আলোচনা করেন। আমাদের আস্থার জায়গা দলের সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুল-উল আলম হানিফ বিষয়টি প্রসঙ্গে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের দেয়া শর্ত মাথায় রেখে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়ার মতো যোগ্য নারী নেতৃত্ব গড়ে উঠছে। তাদের মধ্য থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করে দলের কমিটিতে আনা হবে। শর্ত পূরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করি, এই সম্মেলনে এর কিছুটা হলেও পূরণ হবে।’

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like