ডিবি থেকে ফিরে ‘আপসেট’ বাবুল আক্তার

babul akter-1নিউজ ডেস্ক: রাতের বেলা ডিবি কার্যালয়ে টানা ১৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদে মানসিকভাবে ‘আপসেট’ হয়ে পড়েছেন পুলিশ সুপার  (এসপি) বাবুল আক্তার। এমনটাই জানিয়েছেন তার নিকটজনেরা।

গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর খিলগাঁও মেরাদিয়ায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ডিবির লোকেরা তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর শনিবার বিকেলে বাসায় ফিরেন বাবুল আক্তার। ফিরে গোসল করেই দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়েন তিনি।

রোববার বাবুল আক্তারের শ্বশুর মোশারফ হোসেন জানান, বেলা দেড়টায়ও তিনি রুম থেকে বের হননি।

তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার বিকেলে বাসায় ফেরে বাবুল। এরপর গোসল করে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়েছে। এখনও সে দরজা খোলেনি।’

এদিকে দুপুরে বাবুল আক্তারের শ্যালিকা শায়লার মোবাইল ফোনে কল করা হলে ফোনটি রিসিভ করেন তার স্বামী সাঈদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাবুল ভাই এখনো রুম থেকে বের হননি। উনি মানসিকভাবে আপসেট।’

বাবুল আক্তারকে কী বিষয়ে জিজ্ঞাসবাদ করা হয়েছে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের তদন্তের স্বার্থে তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। ক্রিমিনালদের কাছ থেকে যে সব তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো বাবুলের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) কামরুজ্জামানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘একটা জরুরি বৈঠকে আছি। পরে কথা বলছি।’ অবশ্য তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

এর আগে, শুক্রবার রাত ১টার দিকে বাবুল আক্তারকে শ্বশুরবাড়ি থেকে ডেকে নেয়া হয় ডিবি কার্যালয়ে। পরদিন শনিবার বিকেল ৪টায় তিনি শ্বশুরকে ফোন করে বলেন, ‘আমি রিলিজ হয়েছি। এখন বাসায় ফিরছি।’

ওইদিন মোবাইল ফোনে বাবুল আক্তার বলেন, ‘আমাকে কেউ গ্রেপ্তার করেনি। যেহেতু আমি মামলার বাদী, তাই তদন্ত সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে আলোচনা করার জন্য আমাকে ডাকা হয়েছিল।’

উল্লেখ্য, গত ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পরদিন পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিআই)। তবে মামলার মূল তদন্তে আছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যদিও সবগুলো সংস্থা মিলে এখন পর্যন্ত এ ঘটনার তেমন কোনো ক্লু খুঁজে বের করতে পারেনি।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, মিতু হত্যায় সরাসরি জড়িত সন্দেহে আবু মুছা (৪৫) ও এহতেশামুল হক ভোলা (৩৮) নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশের একটি ইউনিট। এরা দু’জনই এসপি বাবুল আক্তারের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে তারা মিতুকে হত্যা করেছে অথবা সাহায্য করেছে।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like