জঙ্গিবাদ দমনে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান বিএনপির

রাজনীতি ডেস্ক : জঙ্গিবাদ অবিলম্বে দমন করা না গেলে দেশ আরো ভয়াবহ অবস্থার দিকে চলে যাবে- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তা প্রতিরোধে সব রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। আর বিরোধী দলকে বাইরে রেখে এই ভয়াবহ সমস্যার সমাধান করা যাবে না বলেও দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

পবিত্র মাহে রমজানের ১৫তম দিন মঙ্গলবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

“সহাবস্থান, পরমত সহিষ্ণু ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে আগামী দিনের জাতীয় নেতৃত্ব বিকাশে ডাকসু নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা”- শীর্ষক এ আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা ছাত্রদল।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই। এই সরকার গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। আজ মানুষের গণতান্ত্রিক ও ভোটের অধিকার নেই। মানুষ কথা বলতে পারে না। বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হয় না। এক কথায়, বাংলাদেশের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন হয়ে পড়েছে।’

সরকার জঙ্গিবাদ নিয়ে মিথ্যাচার করছে- এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমনের কথা বলে সরকার গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য- জঙ্গিবাদ দমন নয়, জঙ্গিবাদের বিষয়টি ব্যবহার করে বিরোধী দলসমূহকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়া। সেজন্য গুপ্তহত্যার ঘটনায় তারা প্রকৃত অপরাধীদের না ধরে এর দায় বিরোধী দলের ওপর চাপাচ্ছে। আর যাদেরকে ধরছে তাদেরকে ক্রসফায়ারে হত্যা করছে। এর মধ্য দিয়ে তারা সত্যকে গোপন করে জনগণকে বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিরোধী দলকে বাইরে রেখে এই ভয়াবহ সমস্যার সমাধান করা যাবে না।’

সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অনেক হয়েছে। দেশ ধ্বংস করে দিয়েছেন। উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদ দমন করা না গেলে দেশ আরো ভয়াবহ অবস্থার দিকে চলে যাবে। তাই এটাকে বন্ধ করার চেষ্টা করুন। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সব রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন। অন্যথায় এই ভয়াবহ সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়ার কোনো উপায় নেই।’

দেশবাসীর সামনে ঘোর অন্ধকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রমেই অন্ধকারের দিকে চলে যাচ্ছি। এর থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। আশার কথা, সুড়ঙ্গের অপরপ্রান্তে আমরা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আর সেই আশার আলো হচ্ছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যিনি সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন, এখনো করছেন। তাই আসুন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অধিকার আদায়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।’

ঢাবি ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন- ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, সাবেক প্রো-ভিসি ইউসুফ হায়দার, শিক্ষক অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির, ঢাবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি তানভীর রেজা রুবেল, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের প্রমুখ।

ইফতার মাহফিলে ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এজমল হোসেন পাইলট, তারেক উজ্জামান তারেক, আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, মনিরুজ্জামান রেজিন, মামুন বিল্লাহ, ইখতিয়ার রহমান কবির, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, মনিরা আক্তার রিক্তা, মিয়া মো. রাসেল, আব্দুর রহিম হাওলাদার সেতু, মিজানুর রহমান সোহাগ, বায়েজিদ আরেফিন, মির্জা ইয়াছিন আলী, মেহবুব মাসুম শান্ত, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, তপন কুমার বসু (মিন্টু), আরিফা সুলতানা রুমা, মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়া, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, মেহেদী হাসান, সৈয়দ মাহমুদ, আরাফাত বিল্লাহ খান, রাহেলা হক রঞ্জু; ঢাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দী ও সাধারণ সম্পাদক তুহিন কান্তি দাস প্রমুখ।

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সাবেক নেতা আজিজুল বারী হেলাল, শফিউল বারী বাবু, আব্দুল কাদের ভুইয়া জুয়েল, আমিরুজ্জামান খান শিমুল ও আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন প্রমুখ।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like