এক রিডারের ভাগে ১৩ হাজার ৪৭ মিটার !

pdb-sm20160621103004

চট্টগ্রাম ডেস্ক:  বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল হিসেবে পরিচিত বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চট্টগ্রামের অধীনে রয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার ৮ লাখ ৩৫ হাজার গ্রাহক।  আর বিশাল এ গ্রাহকের মিটার রিডিং সংগ্রহে রিডার আছেন মাত্র ৬৪ জন।

ফলে হিসেব করে দেখা যাচ্ছে, প্রতি রিডারকে মাসে প্রায় ১৩ হাজার ৪৭ জন গ্রাহকের মিটার রিডিং সংগ্রহ করতে হচ্ছে।  অথচ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একজন রিডারের প্রতি মাসে ১২শ ৫০ জন গ্রাহকের রিডিং সংগ্রহ করার কথা।

পিডিবি চট্টগ্রাম সূত্র জানায়, এই অঞ্চলের অধীনে মিটার রিডারের ১২৩টি পদ রয়েছে।  এর মধ্যে ৫৯টি পদই শূণ্য।

এদিকে মিটার রিডার সংকটের কারণে বিশাল এ অঞ্চলে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বর্তমানে কর্মরত মিটার রিডারদের। ফলে রিডাররা অধিকাংশ গ্রাহকের মিটার রিডিং না করেই অনুমান নির্ভর বিল ধরিয়ে দিচ্ছেন।

এরকম ভুতুড়ে বিল পাওয়ার অভিযোগ প্রতিনিয়ত জমা হচ্ছে পিডিবি চট্টগ্রাম কার্যালয়ে। আবার কর্তৃপক্ষ মিটার রিডারদের এ বিষয়ে ধরলে তাদেরও রেডিমেট উত্তর থাকে ‘এক মাসে এত হাজার গ্রাহকের মিটার রিডিং করা কীভাবে সম্ভব।’

ফলে মিটার রিডার সংকটের এ দায় দিচ্ছেন গ্রাহকরা। তারা প্রতিমাসেই খরচ হওয়া ইউনিটের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে যাচ্ছেন।

অনুমান নির্ভর বিলের বিষয়টি স্বীকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পিডিবি চট্টগ্রামের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রায় ক্ষেত্রেই অনুমান নির্ভর বিল গ্রাহকদের দেওয়া হচ্ছে তা একেবারেই সত্য। এর মূল কারণ মিটার রিডার সংকট।  মাত্র ৬৪ জনের পক্ষে ৮ লাখ ৩৫ হাজার গ্রাহকের ঘরে ঘরে গিয়ে মিটার রিডিং করা অসম্ভব। ফলে মিটার রিডাররা প্রতি মাসে মিটার রিডিং না করে তিন চার মাস অন্তর অন্তর গ্রাহকদের মিটার রিডিং করেন।  প্রথম রিডিংয়ে যত ইউনিটের রিডিং পাওয়া যায় তা পরের মাসগুলোতে একটু কম-বেশি হারে ইউনিট খরচ দেখিয়ে অনুমান নির্ভর বিল তৈরি করে দেন।  যারা কিছুটা সচেতন তারা এটি ধরতে পারছে, আমাদের অভিযোগও দিচ্ছে। কিন্তু অধিকাংশ গ্রাহকই এটা নিয়ে মাথা ঘামায় না। লোকবল সংকট কাটলে এই হার কমে যেতে পারে।’

চট্টগ্রামে পিডিবির গ্রাহক সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অথচ ত্রিশ বছরেরও বেশি আগের জনবল কাঠামো দিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। আবার সেই পদগুলোর মধ্যেও অধিকাংশ পদই শূণ্য।

পিডিবি চট্টগ্রাম সূত্র জানায়, শুধু মাঠ পর্যায়ে কাজ করা মিটার রিডার পদে নয়, অন্যান্য পদগুলোতেও লোকবল সংকট রয়েছে।  মিটার পরিদর্শক পদের ৩০টির মধ্যে ২টি, সিনিয়র মিটার ইন্সপেক্টর পদের ৯টির মধ্যে ৪টি, সহকারী সুপারভাইজার (গ্রাহক) পদের ৯টি পদের মধ্যে ৭টি এবং সুপারভাইজার (ডাটা) ৩টি পদের মধ্যে ১টি পদ শূণ্য।

তবে পিডিবি সূত্র জানায়, মিটার রিডারদের সাহায্যর জন্য অস্থায়ীভিত্তিকে কিছু সাহায্যকারী কর্মী নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। তাদের নিয়োগ দেওয়া হলে এ সমস্যা অনেকাংশই লাঘব হবে বলে পিডিবির কর্মকর্তাদের বিশ্বাস।

-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like