টেকনাফে অস্ত্র ও ইয়াবা মামলার আসামীকে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দিল পুলিশ

police image picনিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজারটাইমসডটকম, ১৭ জুন: টেকনাফ থানার পুলিশ গ্রেফতারের পর থানা থেকে ছেড়ে দিলেন অস্ত্র ও ইয়াবা মামলার এজাহার ও চার্জশীটভূক্ত এক আসামীকে। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের উৎকোচ নিয়ে এ আসামীকে ছেড়ে দেন পুলিশের এ কর্মকর্তা। বিষয় ধামাচাপা দিতে একই নামের আরেক ব্যক্তিকে আটককে থানায় নিয়ে এসেছিল পুলিশ। তবে শেষ পর্যন্ত নিরাপরাধ এ ব্যক্তিকেও ছেড়ে দেয়া হয়।

স্থানীয় লোকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ১৫ জুন বুধবার দুপুরে টেকনাফ থানার এএসআই আলমগীরের নেতৃত্বে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরুণতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকার মনু মিয়ার ছেলে মো: সলিম প্রকাশ সেলিমকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এব্যাপারে ১৬ জুন বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়। কিন্তু যে দিন খবর প্রকাশিত হয় ওই দিন তাকে এলাকায় ফের দেখা গেছে প্রকাশ্যে।

সূত্র জানান, টেকনাফ পৌর এলাকার নাইট্যং পাড়ার মনু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সলিম ওরফে সেলিম (২৬) অস্ত্র ও ইয়াবা সংক্রান্ত দুইটি মামলার পলাতক আসামী। গ্রেফতার হওয়ার পর টেকনাফ থানার ওসিকে মোটা অংকের টাকা দিলে তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

টেকনাফ থানার একটি সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারী সন্ধ্যায় সাড়ে ৬ টার সময় গোপন সংবাদে খবর পেয়ে তৎকালীন থানার ওসি মো: আতাউর রহমান খোন্দকার, এসআই আলমগীর, এএসআই মো: সেলিম উদ্দীন, এএসআই জহির আলমসহ পুলিশের একটি টিম টেকনাফ সদর ইউনিয়নের তুলাতুলী ঘাটস্থ সাগরপাড়ে অভিযান চালিয়ে মো: সিদ্দিক নামে একজনকে আটক করে। এসময় আরো ৩ জন পালিয়ে যায়। আটক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪০ হাজার ইয়াবা, ঘটনাস্থলের আশেপাশ থেকে পালিয়ে যাওয়াদের ফেলে দেওয়া দু’টি দেশীয় তৈরী এলজি, ১০ রাউন্ড কার্তুজ ও একটি চোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এএসআই মো: সেলিম উদ্দীন বাদী হয়ে আটক ব্যক্তি নতুন পল্লানপাড়ার মৃত লাল মিয়ার ছেলে মো: সিদ্দিক প্রধান করে পুরান পল্লানপাড়ার সিরাজ মেম্বারের ছেলে মো: রফিক, মৃত কালা মিয়ার ছেলে ফিরোজ ও নাইট্যংপাড়ার সলিম নামে পলাতক আসামী করে টেকনাফ থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দু’টি মামলা রুজু হয়েছিল। যার নং- ৬২ ও ৬৩। তাং ২৩-০১-২০১৫ইং।

ইতিমধ্যে এ দুইটি মামলায় আদালতে চাজর্সীট দেওয়া হয়েছে। টেকনাফ থানার মামলা নং- ৬২, অভিযোগপত্র নং- ২৫২/তাং ৩১-০৫-২০১৫ইং। ধারা ১৯৯০ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ০৪,১২এর ১৯ (১) টেবিল ৯ (খ)২৫। অপর মামলা নং-৬৩। অভিযোগপত্র নং- ২৮০/তাং ০২-০৬-২০১৫ইং। ধারা ১৮৭৮ সনের অস্ত্র আইনের ১৯ এ। এ দু’টি মামলায় সলিম আসামী। একে গ্রেফতার করার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও তাকে ছেড়ে দেয়া নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা।

আর এ থেকে রক্ষা পেতে পরের দিন ১৬ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টেকনাফ পৌর এলাকার নাইট্যং পাড়ার মোহাম্মদ কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ সলিম নামে (৬২) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাকে মনু মিয়ার পুত্র সেলিম বলে আদালতে প্রেরণেরও চেষ্টা চালায় পুলিশ। যদিও স্থানীয় লোকজন তার আইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয় পত্র) দেখিলে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

টেকনাফ থানার ওসি আবদুল মজিদ এ বিষয়টি স্বীকার করে জানান, মামলার আসামী মনে করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টেকনাফ পৌর এলাকার নাইট্যং পাড়ার মোহাম্মদ কাশেমের ছেলে মো. সলিম উল্লাহ (৬২) নামের এক জেলেকে গ্রেপ্তার করে। তার জাতীয় পরিচয়পত্র যাছাই করে গ্রেপ্তার সলিম ওই মামলার আসামী নয় বলে পুলিশের কাছে প্রতীয়মান হয়। পরে রাতেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ”

তবে অস্ত্র ও ইয়াবা মামলা আসামী মনু মিয়ার পুত্র সেলিমকে গ্রেফতারের বিষয়টি সত্য নই বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, এটা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like