আজ মাগফিরাতের প্রথম জুমা

ramjan-lugo-1

নিউজ ডেস্ক: রহমত দশকের পর আজ থেকে মাগফিরাতের প্রথম দশক শুরু। এবারের মাগফিরাত দশকে দুটি জুমার নামাজ আদায়ের ভাগ্য হবে মুসল্লিদের। যদিও জুমার দিনটি নিজেই ইবাদতপূর্ণ। তথাপি রোজার মাসের জুমার দিনগুলো আরো বেশি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও ইবাদতে পরিপূর্ণ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের প্রথম ১০ দিন রহমতের, দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত লাভের এবং তৃতীয় ১০ দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তিলাভের।’ (মিশকাত)

তাই ইবাদতপূর্ণ এই দিনে আমাদের মহান আল্লাহ তায়অলার নৈকট্যের আশায় বেশি বেশি ইবাদত করা উচিত।

জুমার দিন সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মমিনরা! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেয়া হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের উদ্দেশ্যে দ্রুত ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ করো।’ (সূরা জুমা: ৯)

জুমার আজানের আগেই সব কর্মব্যস্ততাত্যাগ করে জুমার নামাজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে মসজিদে গমন করা মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব। এইদিনটি মুসলমান জাতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে মানুষ যে দোয়া করে তাই কবুল হয়। এ দিনে বিশেষ কিছু আমলও রয়েছে, যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।

হজরত আউস ইবনে আউস (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি জুমার দিনে ভালোভাবে গোসল করবে, সকাল সকাল প্রস্তুত হয়ে হেঁটে মসজিদে গমন করে ইমাম সাহেবের কাছে বসবে এবং মনোযোগী হয়ে তার খুতবা শ্রবণ করবে এবং অনর্থক কর্ম হতে বিরত থাকবে, তার প্রত্যেক কদমে এক বছরের নফল রোজা এবং এক বছরের নফল নামাজের সওয়াব আল্লাহ পাক তাকে দান করবেন। (নাসাঈ শরিফ ১৫৫)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন- ‘যে উত্তমরূপে ওজু করবে অতঃপর জুমার মসজিদে গমন করবে এবং মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শ্রবণ করবে তার এ জুমা থেকে পূর্ববর্তী জুমাসহ আরও তিন দিনের গোনাহগুলো ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি খুতবা শ্রবণে মনোযোগী না হয়ে খুতবা চলাকালীন কঙ্কর-বালি নিয়ে নাড়াচাড়া করলো, সে যেন অনর্থক কাজ করল।’ (মুসলিম শরিফ : ১/২৮৩)

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, মহানবী (সা.)বলেছেন- যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহফ তেলাওয়াত করবে তার (ঈমানের) নূর এই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত চমকাতে থাকবে। (মেশকাত শরিফ : ১৮৯)

হজরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন- জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, কোনো মুসলমান ওই মুহূর্তে আল্লাহর কাছে যা কিছু প্রার্থনা করবে অবশ্যই আল্লাহপাক তাকে তা দান করবেন। সুতরাং তোমরা ওই মূল্যবান মুহূর্তকে আসরের পর থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত তালাশ কর। (আবু দাউদ : ১/১৫০)

উপরোক্ত হাদিসগুলোর দ্বারা প্রমাণিত, জুমার দিনে মুসলমানদের জন্য কর্তব্য হচ্ছে, সব ব্যস্ততা ত্যাগ করে আজানের আগেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে মসজিদে গমন করা, খুতবা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা, খুতবা চলাকালীন কথা-বার্তা বলা থেকে বিরত থাকা। জুমার দিনে যে কোনো সময় সূরা কাহফ তেলাওয়াত করা এবং জুমার দিনে আল্লাহ তায়ালার কাছে বিশেষভাবে প্রার্থনা করা। বিশেষ করে রমজানের মাসের মাগফিরাত দশকের জুমার দিন এই ইবাদত বেশি বেশি করে আদায় করা উচিত।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like