সাত হাজার টাকার পোশাকে লাভ সাড়ে ১২ হাজার

BG-1-mobail-court-at-shopin20160616193206

চট্টগ্রাম ডেস্ক:  মিমি সুপার মার্কেটের ইয়াং লেডি নামের দোকানে মাত্র ৬ হাজার ৯৯৫ টাকা কেনা ‘ফ্লোর টাচ’ ড্রেস বিক্রি করা হচ্ছে সর্বনিম্ন ১৯ হাজার ৫০০ টাকায়।  প্রতিটি ড্রেসে বিক্রেতা লাভ করছেন ১২ হাজার ৫০৫ টাকা।  শুধু তাই নয়, টেরিবাজার থেকে কাপড় কিনে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে আমদানি করা কাপড় বলে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এমন চিত্র উঠে আসে।

ঈদ বাজারে পোশাক বিক্রি এখন ডাকাতিতে রূপ নিয়েছে মন্তব্য করে তাহমিলুর রহমান  বলেন, মিমি সুপার মার্কেটের ‘ইয়াং লেডি’ দোকানে একটি কাপড়ে ১২ হাজার ৫০৫ টাকা লাভ করলেও আরেকটি কাপড়ের ক্রয়মূল্য ছিল ৪ হাজার ৫৫০ টাকা।  যার বিক্রয় মূল্য ছিল ১৪ হাজার ৫০০ টাকা।  বিভিন্ন গোপন কোডে লেখা ছিল এসব পণ্যের দাম, যা ক্রেতাদের বোঝার কোনো উপায় নেই।  তাই বিক্রেতা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকছেন।  ঠকিয়ে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষকে।

মিমি ছাড়াও আফমি প্লাজা, সানমার শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে ক্রয়মূল্যের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের ক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য দেখতে পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মিমি সুপার মার্কেটের আঁচল, আকর্ষণ; আফমি প্লাজার সেলিব্রেশন্স, সুরুচি কালেকশন, পারফিউম ওয়ার্ল্ড, লন্ডন লুক; সানমারের নিউ বাসাবিসহ প্রায় ২০টি দোকানে দামের ব্যপক অসামঞ্জস্যতা দেখা যায়। কেউ কেউ দেখাতে পারেননি ক্রয়মূল্যের রশিদ। অনেকে বলেন, তারা রশিদ রাখার বিষয়টি জানতেন না। এ সব মার্কেটে প্রথমবারের মতো অভিযান হওয়ায় কঠোরভাবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

রোববার পর্যন্ত তাদের এ বিষয়গুলো ঠিক করে নেওয়ার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসব মার্কেটে কেন্দ্রীয় সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে সব ব্যবসায়ীকে চারটি নির্দেশনা দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।  সেগুলো হচ্ছে ক্রয়মূল্যের রশিদ সংরক্ষণ ও বিক্রেতাকে রশিদ দিতে হবে, সব মার্কেটে অভিযোগ বাক্স রাখতে হবে এবং ক্রেতার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে।

অভিযানে অংশ নেন শিক্ষানবিস নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়স মোদার আলী ও তানিয়া মুন, সদরঘাট থানা ক্যাবের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস, এএম তৌহিদুল ইসলাম, চিটাগাং চেম্বারের কর্মকর্তা মো. মোকাম্মেল হক খান এবং মিমি সুপার মার্কেট, আতমি প্লাজা ও সানমার শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী নেতারা। পুলিশ ও  আনসার সদস্যরাও ছিলেন অভিযানে।

এদিকে কর্নেল হাট বাজারে চারটি দোকানে মূল্য তালিকা না থাকায় পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির রহমান সানি, তাহমিদা আক্তার ও আবদুস সামাদ শিকদার।

ব্যটারি গলিতে মূল্য তালিকা না থাকা, অতিরিক্ত মূল্যে পণ্য বিক্রি ও ওজনে কারচুপির জন্য চার ব্যবসায়ীকে ১৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আবার চকবাজারের রবিন বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য তৈরির কারণে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফোরকান এলাহী অনুপম, অনুপমা দাস ও হাসান বিন মোহাম্মাদ আলী।

-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like