গুপ্তহত্যা তাদের কাছে ‘আর্ট অব কিলিং’

coxsbazartimes.com-_original

রাজনীতি ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন, ‘পাকিস্তানের এজেন্ট বা দালালরা যারা এদেশে আছেন, তাদের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। তারা হত্যাকে একটা আর্টে পরিণত করেছিল। যাকে আমি বলি, আর্ট অব কিলিং। কীভাবে হত্যা করতে হবে, কত দ্রুত করতে হবে, হত্যা করে কীভাবে পালিয়ে যেতে হবে এ সমস্ত কাজে তারা পারদর্শী হয়ে উঠছিল। যেগুলো করতো আল-বদর, আল-শামস বাহিনী। সেই ধারাতে ২০০১ থেকে ৬ পর্যন্ত যতগুলো আক্রমন হয়েছে সব একই রকমের।’

শুক্রবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘তখন আমরা জানতাম, শিবির এবং জামায়াত হল একে অপরের ছত্রছায়া। আর ওই জামায়েতের শক্তি হল বিএনপি। এরা সবসময় এক সঙ্গে কাজ করতো। আর শিবির এবং ছাত্রদল এদের মধ্যে আমি খুব একটা পার্থক্য দেখি না। তাদের মধ্যে মানুষ মারার যে আর্ট ছিল, রগ কাটা এর মধ্যে একটি। কারণ, তারা জানতো কোন রগটি কাটলে মানুষ দ্রুত মারা যায়। তারপর আস্তে আস্তে বোমাবাজি।’

এইচটি ইমাম আরো বলেন, ‘২০০৬ সালে তাদের স্লোগান ছিল ‘মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী’। তারপর এটা ২০১৩ সালে রূপ নিয়েছে হেফাজতে ইসলামে। ওখান থেকে লেজ গুটিয়ে চলে গেলেও এখন তারা নিয়েছে ভিন্ন পথ। কারণ, যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয়, যারা সমাজের শত্রু, মানুষের শত্রু এরা কখনো শোধরাবার নয়। এরা ওই স্লোগানেই বিশ্বাসী। আর তাই তারা তাদের অস্ত্র আরো শাণিত করেছে। এখন তাদের হাতে চাপাতি আর বন্দুক। আর এ পদ্ধতিতে প্রত্যেকটি জায়গাতে একই কায়দায় হত্যা করা হচ্ছে। এরা এমন কৌশল বের করেছে যে, কত দ্রুত হত্যা করা যায়।’

তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় যতগুলো গুপ্তহত্যা হয়েছে তার প্রায় গুলোই গুছিয়ে এসেছে। সুরাহা হয়ে এসছে। আমরাও এ বিষয়গুলো জানি। কিন্তু সব তথ্য প্রকাশ করা যায় না। কীভাবে কখন কোথায় হত্যা করা হচ্ছে এর যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। এ যোগসূত্র থেকে আমরা পাচ্ছি যে, শিবির এবং ছাত্রদল এবং তাদের মাথা যারা অর্থাৎ ছত্রছায়া দিচ্ছে যারা। তারা হলেন জামায়াত এবং বিএনপি। এবং তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ জামায়েতে ইসলামী পাকিস্তান, আল কায়দা, তালেবান, সিরিয়ার আইএস, মুসলিম ব্রাদার হুড, নাইজেরিয়ার বোকো হারাম, সোমালিয়ার আল সাবাবের একই সূত্রে গাঁথা। আর এরা মানবতার শত্রু।’

এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিজের দোষ ঢাকার জন্য শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য দিচ্ছে বলে মন্তব্য করে এইচটি ইমাম বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী ও দেশের সাবেক প্রধান মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের প্রধান ও দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নাম ধরে ডেকেছেন। কতটুকু বেয়াদব হলে এমন শিষ্টাচার বহির্ভূত কথা বলতে পারেন তিনি।’

প্রধানমন্ত্রীর এ রাজনৈতিক উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘এ আপত্তিকর আচরণ আমার মনে হয় আর কিছুতেই সহ্য করা যায় না। কান টানলে যেমন মাথা চলে আসে। তেমনি সব সূত্র থেকেই দেখা যায় তিনি (খালেদা জিয়া) চলে আসেন। এর জন্য আগে থেকেই ‘অফেনস ইজ দ্যা বেস্ট ডিফেন্স’ পদ্ধতি তারা (বিএনপি) গ্রহন করেছে। এতে কোনো কাজ হবে না।’

এসময় এইচটি ইমাম বলেন, ‘মিডিয়াতে আপনারা দেখছেন, পাকিস্তানের রাজনীতিবীদরা কী নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছে। আর আমাদের দেশে তারা (বিএনপি) যেভাবে কথা বলছে, তা মিলিয়ে দেখেন দুয়ে দুয়ে চার।’

‘পাকিস্তান ১৯৭১ সালের পর থেকে এখনো পর্যন্ত আমাদের মানসিকভাবে মেনে নিতে পারেনি। তার সব সময়ই তারা চায় কীভাবে আমাদের ক্ষতি সাধন করবে।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like