মাহে রমজানের শিক্ষা ও করণীয়

ramadan coxsbazartimesইসলাম ডেস্ক : রমজানের মাসে পবিত্র কুরআন নাযিল করা হয়েছে। যা মানুষের জন্য পথ প্রদর্শক এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী এক নির্ভুল মানদন্ড। অতএব, তোমাদের মধ্যে যারাই এ মাসের সাক্ষাৎ পাবে তারা যেন অবশ্যই সিয়াম পালন করে। রমজান মাস এমন একটি মাস যার প্রথম ১০ দিন হলো রহমত, মাঝের ১০ দিন হলো মাগফিরাত এবং শেষের ১০ দিন হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি।

রমজান মাস সংযমের মাস, পরিশুদ্ধির মাস। এ মাসে যদি কেউ তার গোলামের কাজকে সহজ করে দেয়, তবে আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।” (তিরমিজী এবং বায়হাকী)

রোজাদারকে ইফতার :
যে কেউ কোনো কিছু দিয়ে ইফতার করাবে তা তার জন্য মাগফিরাতের কারণ হবে এবং দোযখ থেকে বাঁচার উপায় হবে। আর ঐ ব্যক্তি রোজাদারের সমান সওয়াব লাভ করবে যদিও রোজাদারের সওয়াবে কোনো কমতি হবেনা।”

আর যাদের রোজাদারকে কোনো কিছু দিয়ে ইফতার করানোর সাধ্য নেই, তারা কি করবেন?

হ্যা, আল্লাহ তাদেরকে পুরস্কার দেবেন, যারা পানি মিশ্রিত একটু দুধ, একটি খেজুর অথবা শুধু পানি দিয়ে রোজাদারকে ইফতার করাবে। আর যে রোজাদারকে পূর্ণ তৃপ্তি সহকারে আহার করাবে আল্লাহ তাকে বিশেষ পানি পান করাবেন যা জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত তার থেকে তৃষ্ণা দূর করে দেবে।

রমজান কুরআন নাযিলের মাস, কুরআনের উৎসবের মাস, এ মাসে কুরআনের পূর্ববর্তী নাযিলকৃত সমস্ত অংশ জিবরাঈল (আ.) কে পড়ে শোনাতেন রাসূল (সা.)। আমরা কি এ মাসে পুরো কুরআন পড়ার পরিকল্পনা গ্রহন করেছি?

রমজান বরকতের মাস :
নফল কাজগুলোর জন্য ফরজের সমান বরকতের ওয়াদা করা হয়েছে এ মাসে। আর প্রতিটি ফরজের জন্য এর ৭০ গুন সওয়াব দেয়া হয়েছে। রমজানে শয়তানকে আবদ্ধ করে রাখা হয়। কিন্তু আমরা কি নিজেদেরকে শয়তানী প্ররোচণা থেকে মুক্ত করতে পেরেছি?

রমজান সংযমের শিক্ষা দেয় :
আমাদের প্রাত্যহিক প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রে সংযম অবলম্বন করার শিক্ষা দেয় রমযান। প্রয়োজনের বেশি ব্যয় এবং ভোগ-বিলাসের ইচ্ছা দমন করার শিক্ষা দেয়। রমজান সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও অংশীদারীত্বের মাস। আমরা কি এ বিষয়গুলো অনুধাবন করার চেষ্টা করেছি?

দুনিয়াব্যাপী আমাদের যে অসংখ্য মুসলিম ভাই-বোন বিপদক্লিষ্ট জীবন যাপন করছেন, সেহরী এবং ইফতারের জন্য যাদের কোনো খাবার হয়তো জুটবেনা, শান্তিতে রাত জেগে নফল ইবাদত করার মতো নিরাপত্তা যাদের নেই, তাদের জন্য সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানানোর শিক্ষা দেয় রমজান।

বাজে কাজ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা :
আমরা কি অপ্রয়োজনীয় ও বাজে কাজে সময় ব্যয় করা ছাড়তে পেরেছি? অথবা আমরা কি এ সমস্ত অর্থহীন কাজ কারবার থেকে বিরত থাকার জন্য কোনো বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি?

রমজান মাস মিথ্যা-ফাসেকী ও ঝগড়া থেকে বিরত থাকার মাস। আমরা কি মিথ্যা বলা ছাড়তে পেরেছি? ফাসেকী আমল ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া থেকে বাঁচার জন্য কোনো সত্যিকার ন্যায়ানুগ পন্থা অনুসরণের শিক্ষা দেয় রমযান মাস।

অশ্লীলতা বিমুক্তি ও আত্মশুদ্ধির মাস :
সব ধরনের অশ্লীলতা ও খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয় রমযান। কারণ বছরের অন্যান্য দিনগুলোতে আমরা মুসলমানেরা যে যাই করি না কেন, এ মাসে সব ধরনের খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করি। এ কাজ গুলো রমযান মাস চলে গেলেও ধরে রাখার চেষ্টা করলে জীবন হবে সুন্দর। নিজেকে পরিবর্তন করার জন্য সর্বোত্তম মাস রমজান মাস।

রোজা রাখা ফরজ :
সালমান ফারিসী (রাঃ) বলেছেন, “রসূলুল্লাহ (সঃ) শা‘বানের শেষ দিন আমাদের জন্য খুত্বা (বক্তৃতা) দিলেন। তিনি বললেন, ‘হে লোক সকল! তোমাদের কাছে এক সুমহান মাস উপস্থিত। এটি একটি অতীব বরকতময় মাস, যে মাসে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।এ মাসে রোজা রাখাকে আল্লাহ্ তোমাদের উপর ফরজ করে দিয়েছেন এবং রাত্রি কালীন নামাজকে নফল করেছেন। যে এ মাসে একটি ফরজ কাজ করলো সে মূলত, অন্য মাসে ৭০টি ফরজের সমান কাজ করল। এটি হচ্ছে অন্যদের সাথে ভাগাভাগি করে নেয়ার মাস।

বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত :
মুখস্ত করন এবং জিকিরে সময় ব্যয় করতে আমাদের এ মাসে।আমাদের নামাজে এবং অন্যান্য ইবাদতে আরো অনেক বেশী আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। সাথে সাথে অভ্যস্ত হতে হবে আত্মবিচারে। “রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন,“যে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান এবং নিষ্ঠা ও আত্মবিচার (ইহ্তিসাব) সহকারে রমজানের রোজা পালন করেন আল্লাহ তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন।” (বুখারী-মুসলিম)। তাই প্রত্যেকটি ইবাদতেই আমাদের নিষ্ঠার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like