বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে

2016_04_18_01_06_06_fTdNchacPpPEIiByUaVq7x52nyqr55_original

অর্থনীতি ও বাণিজ্য ডেস্ক: সরকার আসন্ন বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।  

শনিবার শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড আয়োজিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তি দেয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান।

মুহিত বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার আগে বিদ্যুতের সংকট ছিল, সেটা এখন ঠিক হয়েছে। আমরা এখন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে নজর দিচ্ছি। এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে কম থাকলেও শিক্ষাতে বড় বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রাইমারি শেষ করা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্য থেকে ৬০ ভাগ মাধ্যমিক শেষ করে। তবে এই সরকারের আমলেই এটি ৮০ ভাগে নিয়ে যাওয়ার পরীকল্পনা আছে। আর ২০২৪ সালে এটিকে শতভাগে নিয়ে যাওয়া হবে।’

ব্যাংকটির চেয়ারম্যান একে আজাদের খেলাপি ঋণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জানা মতে খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের মত। কিন্তু খেলাপি ঋণ ২০ শতাংশের বেশির কথা বলা হলো, এটা হতে পারে। বাজেটের পর আমরা ব্যাংকারদের নিয়ে বসবো, এ বিষয়ে আলাপ করবো। বর্তমানে খেলাপি নিয়ে কম কথা বলছি।’

শিক্ষাঋণের বিষয়ে মুহিত বলেন, ‘শিক্ষাঋণের বিষয়ে আমরা আগে ভেবেছি, কিন্তু সাহস পাইনি। আমাদের জীবন মানের উন্নয়ন হচ্ছে। এখন এটা নিয়ে ভাবা যেতে পারে।’

এ সময় খেলাপি ঋণের বিষয়ে একে আজাদ বলেন, ‘এখন যে ১০ শতাংশ খেলাপি ঋণের কথা বলা হচ্ছে সেটা প্রকৃত সংখ্যা নয়। সেটা ২০ শতাংশের বেশি হবে। আমাদের যে অর্থঋণ আদালত আছে সেখানে এসব মামলা গেলে সুরাহা হয় না। এর জন্য বাজেটে আলাদ বরাদ্দ রাখা উচিত যা দিয়ে একে আরও যুগোপযোগী করা যেতে পারে।’

দুটি কারণে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতির শিকার হয়ে যেসব ঋণ খেলাপি হয় তাদের কথা ধরা যাবে না। কিন্তু এক ধরনের লোক আছে, যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করে, তাদের ধরার জন্য আলাদা করে কাজ করতে হবে। আর খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারলে ঋণে সুদহার ১০ থেকে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

আমাদের দেশে শিক্ষার প্রসার হলেও মানের খুব একটা উন্নয়ন হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘এজন্য আমাদের শিক্ষার্থীরা পাশের দেশগুলোতে গুরুত্ব পাচ্ছে না। দেশের চাকরি-বাকরিতেও তেমন একটা ভালো করতে পারছে না। তবে শিক্ষা শেষে যাতে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়া যায় সেজন্য বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারকে কাজ করা দরকার।’

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিএসআর ফান্ডের ওপর যে ৩৭ শতাংশ ট্যাক্স আছে তা কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন একে আজাদ। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শিক্ষা উপকরণের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দরিদ্র ছাত্রছাত্রীরা অনেক সময় তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে না। তাদের পাশে বিত্তবানরা থাকলে এবং সহযোগিতার হাত প্রসারিত করলে তারা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের সঙ্গে দেশের মূল্যবান জনসম্পদে পরিণত হবে, দেশ সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবে।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন- শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. তৌহিদুর রহমান, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরমান আর চৌধুরী, পরিচালক ফকির আখতারুজ্জামান, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ আরো অনেকে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কলেজ, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অস্বচ্ছল পরিবারের ৫০০ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তির চেক দেয়া হয়।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like