জাতীয় পার্টির অষ্টম জাতীয় সম্মেলন আজ

2016_05_14_10_39_13_lrmTr0bPsDuoyPYTZym8yw8QvIDMyf_original

রাজনীতি ডেস্ক :   সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চার বছর পর আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির অষ্টম জাতীয় সম্মেলন। 

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর রমনার ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তন ও পার্শ্ববর্তী মাঠে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দলটির ইতিহাসে জাকজমকপূর্ণভাবে এই সম্মেলন সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে সকল প্রস্ততি সম্পন্ন করা হয়েছে।

সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান-মহাসচিবসহ গূরুত্বপূর্ণ কোনো পদেই পরিবর্তন আসছে না। থাকছে না কোনো চমকও তবে দলটির শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সম্মেলনকে দেখছেন ‘শক্তি’ প্রদর্শনের অংশ হিসেবে।

এদিকে সম্মেলনে যোগদানের জন্য সারাদেশ থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও ডেলিগেট এবং কাউন্সিলররা বৃহস্পতিবার হতে ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, আত্মীয়দের বাসা বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। সম্মেলনে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন ঢাকার আশ-পাশের জেলাগুলো থেকে জাপার নেতাকর্মীরা। তারা বাস, ট্রাক ভাড়া করে ছুটছেন ঢাকার দিকে।

এরআগে এই সম্মেলনের তারিখ তিন দফা পরিবর্তন করা হয়। গত ১ জানুয়ারিতে জাতীয় সম্মেলন করার কথা থাকলেও সে সময়ে অনেক জেলার সম্মেলন সম্পন্ন না হওয়ায় তারিখ পেছানো হয়েছে। ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ইতোমধ্যে দলটি ৩০ বছর পার করেছে।

সকাল ১০টায় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। প্রথম পর্বে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাধারণ সম্মেলন ও সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করবেন পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার। দুপুর ২টা থেকে মিলনায়তনে কাউন্সিলরদের নিয়ে মূল সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

দ্বিতীয় পর্বে জাতীয় পার্টির ৭৬টি সাংগঠনিক জেলা থেকে আসা ১৯ হাজার ৭শ’ কাউন্সিলর অংশ নেবেন। ডেলিগেট থাকবেন আরো প্রায় ৫০ হাজার।

দলের নেতারা জানিয়েছেন, সম্মেলনে সারাদেশ থেকে কাউন্সিলর এবং ডেলিগেটসহ ২ লক্ষাধিক নেতাকর্মী যাতে করে যোগ দিতে পারেন সেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এজন্য জেলায় জেলায় বাস ভাড়ার টাকাও পাঠানো হয়েছে। এক্ষেত্রে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল , মানিকগঞ্জ ও উত্তরবঙ্গ থেকে লোক বেশি টার্গেট।

মূলত এই সম্মেলনে জাতীয় পার্টি তাদের সর্বোচ্চ শক্তি জানান দিতে চায়। শুধু তাই নয় দলের চেয়ারম্যান এরশাদ, রওশন এরশাদ ও সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসন হওয়ায় জাপার এমপিরাও সম্মেলন সফল করতে মাঠে নেমেছেন। সম্মেলনের আগমুহূর্তে পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব রহুল আমিন হাওলাদার হেলিকপ্টারযোগে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন।

এদিকে জাপার সম্মেলনের প্রস্তুতি দেখতে শুক্রবার বিকালেও ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন পরিদর্শন করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। রমনা এলাকা বিলবোর্ড ও ফেস্টুনে ছেঁয়ে গেছে। বানানো হয়েছে ডজনখানেক তোড়ন।

জাতীয় পার্টির এই সম্মেলনে শীর্ষ কোনো পদেই পরিবর্তন আসছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আগেই নিজেকে আমৃত্যু পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়েছেন। সিনিয়র কো চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারের পদেও পরিবর্তন হবে। এই পদে অন্য কেউ আসছে না। ফলে সম্মেলনে পার্টির চেয়ারম্যান, মহাসচিব, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান এবং কো-চেয়ারপদে নির্বাচন কিংবা কোনো প্রকার ভোট হচ্ছে না। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তারা নির্বাচিত হচ্ছেন।

এই সম্মেলনকে দলের নেতা-কর্মীরা নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন টিকিয়ে রাখার নিয়মরক্ষার কাউন্সিল বলে মনে করছেন। সম্মেলনে রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও গঠনতন্ত্রের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। তবে পার্টি চেয়ারম্যান একক ক্ষমতা সংবলিত ৩৯ ধারার কোনো পরিবর্তন এই সম্মেলনে হচ্ছে না।

জাপার কোনো পদেই পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকার কথা শুক্রবার রাতেই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি সাংবাদিকদের সম্মানে নৈশভোজে বলেন, ‘এই কাউন্সিলে দলের গূরুত্বপূর্ণ কোনো পদেই পরিবর্তন আসবে না। তবে, দলের ত্যাগী ও দুর্দিনে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়ণ করা হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের এই সম্মেলনের মাধ্যমে পদ থেকে বাদ দেয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে এরশাদ বলেন, সবাইকে নিয়ে পার্টিকে শক্তিশালী করা হবে। কাউকে বাদ দেয়া হবে না।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমির হাওলাদার বাংলামেইলকে বলেছেন, ‘এই সম্মেলনে সারাদেশ থেকে দুই লক্ষাধিক নেতাকর্মী অংশ নেবে বলে আশা করছি। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টি আবারো ঘুরে দাঁড়াবে এবং আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরি করবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি যে একটি ফ্যাক্টর, তা আমরা প্রমাণ করবো।’

তিনি আরো বলেন, এটি হবে জাতীয় পার্টির ইতিহাসে সবচেয়ে জাকজমকপূর্ণ সম্মেলন হবে। ইতিহাসে এই সম্মেলন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

-বাংলামেইল২৪ডটকম

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like