টেকনাফের ইয়াবা ‘ভুট্টো’র সন্ত্রাসের কাহিনী

TEKNAF-PIC-18.08.15নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজারটাইমসডটকম, ১৩ মে : টেকনাফের ইয়াবাপাড়া খ্যাত ‘নাজির পাড়ার’ এজাহার মিয়ার ছেলে নুরুল হক ভূট্টো (৩৫) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত একজন শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। ইয়াবা ব্যবসার সুবাদে তিনি আজ কোটিপতি।
শুধু ইয়াবা ব্যবসাতেই তার অপরাধ সা¤্রাজ্য সীমাবদ্ধ নয়। রীতি-মতো নিজের নামে বাহিনী গড়ে তুলে অন্যের জমি জবরদখল, লোকজনকে জিন্মি করে টাকা আদায়, ভাড়াটে সন্ত্রাসী লালন ও মানবপাচারসহ তিনি বিভিন্ন অপরাধকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বিঘেœ। তার লালিত সন্ত্রাসীর বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, অস্ত্র, জমি জবরদখল ও প্রতিপক্ষের লোকজনের উপর সশস্ত্র হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে টেকনাফ থানায় ডজনের বেশী মামলা রয়েছে।
কিন্তু এসব মামলায় তিনি একাধিকবার জেলে গেলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও জড়িয়ে পড়েন পুরোনো অপরাধ জগতে। প্রভাবশালী লোকজনের সঙ্গে তার রয়েছে গভীর সখ্যতা। ফলে দিনের পর দিন তার অপরাধের মাত্রা বেড়েই চলছে। বরাবরেই দূধর্ষ এ অপরাধী থেকে যাচ্ছে আইনের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২০১৫ সালে টেকনাফ সদরের শিলবুনিয়া পাড়ায় বসতবাড়ীতে হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে কুপিয়ে জখম করে শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান নুরুল হক ভূট্টো। এছাড়া একই এলাকার কালু নামের এক ব্যক্তির বসতবাড়ী ও মোটর ভাংচুর এবং হাতের এক আঙ্গুল কেটে নেন তিনি। সাবরাং এলাকার এক ব্যক্তির হাতের কব্জি কেটে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে তার দ্বারা। একই এলাকার জাফর নামের দু’ব্যক্তির একজনের মাথার চুল ন্যাড়া করে দেয়া এবং আরেকজনের কান কেটে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে ভূট্টোর বিরুদ্ধে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাস কক্সবাজারে বেড়াতে আসা ২ পর্যটক অপহরণের শিকার হন ভূট্টোর সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজনের হাতে। ওইবছর ২৪ সেপ্টেম্বর বাহিনী প্রধান ভূট্টোর আস্তানা থেকে উদ্ধার করে অপহরণের শিকার ২ পর্যটক ঢাকার আশুলিয়া থানার হাসান আলীে ছেলে মোহাম্মদ আকিব ও সিরাজগঞ্জ জেলার শাহদাতপুর থানার তৈয়ুজাল মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ মজনুকে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগে টেকনাফ থানায় অপহরণ মামলা রজ্জু রয়েছে।
এছাড়া গত ২০১৪ সালে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে প্রতিপক্ষ টেকনাফের দক্ষিণ জালিয়াপাড়ার মো. পুতুইন্যার ছেলে মো. ইসমাইলকে মাথায় ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটে। গত ২০১৫ সালের ২১ মার্চ জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেপ্রতিপক্ষকে হুমকীর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় জিডি দায়ের করা হয়।
টেকনাফ থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ঈদের নামাজ শেষে বাড়ী ফেরার পথে ভূট্টো বাহিনীর সদস্যদের প্রকাশ্যে ছোঁড়া এলোপাতাড়ী গুলিতে আহত টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া প্রবাসী দুদু মিয়ার কন্যা নিহা মনি (৪) নামে এক শিশু। এতে শিশুটির একটি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনায় টেকনাফ থানায় ১৯/৪২৫ নং মামলা, ২০ হাজারের বেশী ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় বিজিবির দায়ের করা ১৩১/৪২ নং মামলা, নাজির পাড়ার মৃত শেখ আহমদ সিকদারের ছেলে নজির আহমদকে হত্যার উদ্দ্যেশে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা করে। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১ মে টেকনাফ থানায় ৫৩/৩৬০ নং মামলা, অপহরণের আরেক অভিযোগে ২০১৩ সালের ৬ নভেম্বর টেকনাফ ১৩ নং মামলাসহ অসংখ্য মামলা ও অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নুরুল হক ভূট্টোর সন্ত্রাসী বাহিনীতে সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে তার ভাগিনা নুরুল আবছার ও হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে।
সর্বশেষ শুক্রবার বিকালে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়ায় খবর সংগ্রহ করতে গেলে সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান ভূট্টোর নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ৬ সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। এই দিন দুপুরে নাজির পাড়ার পূর্ব মাঠ এলাকায় বিজিবি অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নুরুল হক ভূট্টো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। মিয়ানমার থেকে নাজির পাড়া হয়ে পাচার হওয়া ইয়াবার অধিকাংশ চালান নিয়ে আসেন তিনি। শুক্রবার বিজিবির অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানটিও ছিল ভূট্টোর।

কিন্তু প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এ গডফাদার রয়ে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যদিও কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, এ ভূট্টো যে কোনভাবে গ্রেফতারের নিদের্শ দেয়া হয়েছে।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like