হায়দরাবাদের জয়ে আলো ছড়ালেন মুস্তাফিজও

srh-vs-gl.jpg.image.784.410

ক্রীড়া ডেস্ক: ‘যেখানেই খেলি না কেন দেশের মাথা উঁচু করতে চাই।’-নবম আইপিএলে হায়দরাবাদের হয়ে সবগুলো ম্যাচই খেলেছেন বাংলাদেশের বিস্ময় বালক ‘দ্য ফিজ’ মুস্তাফিজুর রহমান। প্রতিটি ম্যাচেই যথারীতি বাংলাদেশকে গর্বিত করে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার ২০ বছরের তরুণ। শুক্রবারও তার অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে হায়দরাবাদ জিতে গেলো ৫ উইকেটে। এদিন আগে ব্যাট করে গুজরাট নির্ধারিত ২০ ওভারে তুলেছিল ১২৬ রান। ওই রান এক ওভার হাতে রেখে ৫ উইকেট হারিয়েই টপকে গেছে হায়দরাবাদ। এই জয়ে ৮ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে চার নম্বরে উঠে এসেছে মুস্তাফিজের দল। ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে গুজরাট যথারীতি দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে।

গুজরাটের ১২৬ রান তাড়া করতে যেমন শুরু করা দরকার ঠিক তেমনটাই করেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার এবং শিখর ধাওয়ান। এক প্রান্তে ধাওয়ান রয়েসয়ে থাকলেও ওয়ার্নার ছিলেন তার মতোই। ১৭ বলে এক চার, দুই ছক্কায় ২৪ রানে ধাওয়ান কুলকার্নির বলে ফিরে যান ওয়ার্নার। সুবিধা করতে পারেননি কেন উইলিয়ামসনও (৬)। আর সেট হয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি মোজেস হেনরিকুইস (১৪)।

টি২০ বিশ্বকাপে চোটে পড়া যুবরাজ সিং গুজরাট ম্যাচ দিয়েই ফিরেছেন। কিন্তু ফেরাটা তিনি রাঙাতে পারলেন না। ১৪ বলে মাত্র ৫ রান করে ফিরে গেছেন যুবরাজ। তবে একপ্রান্ত ধরে রেখে শেষ অবধি দলের জয় নিয়ে তবেই ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন শিখর ধাওয়ান। ৪০ বলে ছয় চারের সাহায্যে তিনি অপরাজিত থাকেন ৪৭ রানে। এছাড়া দীপক হুদার ব্যাট থেকে এসেছে ১২ বলে ১৮ রান। ডুয়েইন ব্রাভো ১৪ এবং কুলকার্নি ১৭ রান দিয়ে পেয়েছেন ২টি করে উইকেট।

এরআগে রাজিব গান্ধী স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিং বেছে নেন হায়দরাবাদ অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। শুরুতেই ভুবনেশ্বর কুমার ক্যারিবিয়ান তারকা ডুয়েন স্মিথকে (১) মুস্তাফিজুরের ক্যাচ বানিয়ে অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণ করেন। সেট হওয়ার আগেই থামতে হয়েছে আরেক ওপেনার ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে (৭)। ওয়ার্নারের ক্যাচ বানিয়ে তাকে ফেরান মোজেস হেনরিকুইস। পঞ্চম ওভারে অধিনায়ক রায়নাকে (১০ বলে ২০) কট এন্ড বোল্ড করেন ভুবনেশ্বর।

২৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন রীতিমতো কাঁপছে গুজরাট। সেই চাপকে আরও বাড়িয়ে দেন ষষ্ঠ ওভারে বল করতে আসা মুস্তাফিজুর। তিনি শূন্য রানে দিনেশ কার্তিককে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করান।

তারপরও গুজরাট শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১২৬ রানের পুঁজি পেয়েছে অসি তারকা অ্যারণ ফিঞ্চের ব্যাটে ভর করে। তিনি শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে তিন চার, এক ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ৫১ রানে। এছাড়া ডুয়াইন ব্রাভো এবং রবিন্দ্র জাদেজা দুজনই ১৮ রান করে করেন। এদিনও হায়দরাবাদের সবচেয়ে সফল বোলারের নাম মুস্তাফিজুর। তার ৪ ওভার থেকে গুজরাটের ব্যাটসম্যানরা সাকুল্যে নিতে পেরেছেন ১৭ রান। বিনিময়ে পেয়েছেন ২টি উইকেট।

মুস্তাফিজ শেষ ওভারে একটি ছক্কা খেয়েছেন। তার বাকি ওভারগুলো ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম ওভারে ২ রান দিয়ে তুলে নিয়েছেন কার্তিকের উইকেট। দ্বিতীয় ওভারে উইকেট না পেলেও মাত্র ১ রান দিয়েছেন। তৃতীয় ওভারে দিয়েছেন ৬ রান। আর শেষ ওভারে জাদেজার উইকেট নিয়ে দিয়েছেন ৮ রান। সবমিলে মুস্তাফিজ ডট বল দিয়েছেন ১৪টি। বাকিদের মধ্যে ভুবনেশ্বর ২৮ রানে ২টি এবং বারিন্দ্রর স্রান ২১ ও হেনরিকুইস ২৪ রান দিয়ে পেয়েছেন ১টি করে উইকেট। ইনিংসের শুরুতেই স্মিথ এবং রায়নার উইকেট নেওয়ায় ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ভুবনেশ্বর কুমার।

-বাংলামেইল২৪

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like