তাপস হত্যায় চবির ২৯ ছাত্রলীগ কর্মী অভিযুক্ত

2016_05_02_16_29_00_p7C22rllfGQfeopjZIj3vtcuiUkFXT_original

চট্টগ্রাম ডেস্ক :  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী তাপস সরকার হত্যা মামলায় চবির ২৯ ছাত্রলীগ কর্মীকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুজ্জামান আশার গুলিতেই তাপস খুন হন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

সোমবার বিকেলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুন্সী মশিয়ার রহমানের আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই’র পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।

তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘তাপস হত্যায় ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুজ্জামান আশাকে প্রধান আসামি করে মোট ২৯ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে। মোট ৬ পৃষ্টার এই অভিযোগপত্রে মোট ৩২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মতে, ছাত্রলীগ নেতা আশরাফুজ্জামান আশার গুলির আঘাতেই তাপস সরকারের মৃত্যু হয়। আর ব্যালিস্টিক রিপোর্ট অনুযায়ী ৭ দশমিক ৬৮ ক্যালিবার পিস্তলের গুলিতে নিহত হন তাপস। তাই দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অনুযায়ি তাকে প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরেক আসামি এরশাদ হোসেনকে হুকুমের আসামি করার পাশাপাশি রুবেল দে, শাহরিদ শুভ, প্রদীপ চক্রবর্তীকে দণ্ডবিধির ৩০৭ ধারায় (হত্যাচেষ্টা) অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে ৫ থেকে ২৮ নম্বর পর্যন্ত অন্য অভিযুক্তদের সাধারণ ধারায় (১৪৩ ও ৩২৩) অভিযুক্ত করা হয়েছে।’

মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে প্রধান আসামি আশাসহ ১৪ জন পলাতক রয়েছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজ। এছাড়া এজাহারভূক্ত আসামি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক রুপন বিশ্বাস ভারতে পলাতক থাকায় তাকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্রে গত বছরের বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদ বেদীতে ফুল দিতে গিয়ে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ হয় ছাত্রলীগের ‘ভিএক্স’ গ্রুপও ‘সিএফসি’ গ্রুপের মধ্যে চলা এ সংঘর্ষে গুলিবিব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের সিএফসি গ্রুপের কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃত বিভাগ প্রথম বর্ষের ছাত্র তাপস সরকার নিহত হওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে খুন হন সংস্কৃত বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাপস সরকার। এ ঘটনায় ১৭ এপ্রিল হাটহাজারী থানায় হত্যা মামলা করেন তাপসের সহপাঠী হাফিজুল ইসলাম। এতে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়। দুই পক্ষই চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী।

মামলাটি হাটহাজারী থানার উপ-পরিদর্শক হাবিবুর রহমান তদন্ত করার পর আদালতের আদেশে ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট মামলাটি পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেয়।

-বাংলামেইল২৪

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like