পিটিয়ে আহত করার পর, কিশোরীকে বিয়ে করল পুলিশ

dinajpurmp.black দিনাজপুর প্রতিনিধি, কক্সবাজারটাইমসডটকম: বিয়ে করতে অসম্মতি প্রকাশ করায়, তামান্না আক্তার (১৬) নামে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার পর, বিয়ে করলেন দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ওয়্যারলেস অপারেটার মোস্তফা কামাল। তামান্না আক্তার (১৬) দিনাজপুর শহরের পাটুয়াপাড়া এলাকার জাহিদুল ইসলামের কন্যা।

২৭শে এপ্রিল (বুধবার) রাতে জেলা শহরে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার কার্যালয়ে কোতোয়ালি থানার ওয়্যারলেস অপারেটর মোস্তফা কামালের সঙ্গে ১৬ বছরের ওই কিশোরীর বিয়ে হয়। বাংলাদেশে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

এ দিকে মেয়েটির বাবা জাহিদুল ইসলাম ২৮শে এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) বলেন, ওই পুলিশ সদস্যের পক্ষ থেকে বার বার বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছিল।
“মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আপসের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা দেন মোহরে বিয়ের ব্যবস্থা হয়েছে।”

এ বিয়ের বর মোস্তফা কামাল দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওয়্যারলেস অপারেটর। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় এর আগে ওই শিক্ষার্থীকে তিনি তুলে নিয়ে পিটিয়ে জখম করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।

মাথায় রক্তাক্ত জখমসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠিপেটার আঘাত নিয়ে গত ২৬শে এপ্রিল (মঙ্গলবার) দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয় মেয়েটি। সে খবর সংবাদপত্রে ও আসে। সে সময় তার বাবা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ সদস্য মোস্তফা কামাল তার মেয়েকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে আহত করে।

এ দিকে ঐ পুলিশ সদস্যের সঙ্গে মেয়েটির বিয়ের ব্যবস্থা করে পুলিশ আরেকটি ‘অপরাধ’ করেছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফা বেগম ফেন্সি।

তিনি বলেন, “ভিকটিম আপস করলে আমাদের করার কিছু থাকে না। অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে থানা আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে ১৬ বছরের কিশোরীর সঙ্গে
বিয়ের ব্যবস্থা করে আরেকটি অপরাধ করেছে।”

এ দিকে দিনাজপুর-কোতোয়ালি থানার ওসি এ কে এম খালেকুজ্জামান জানায়, বিয়েতে পুলিশের কোন ভূমিকা ছিল না। “দুই পরিবারের অভিভাবকরা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে বিয়ে দিয়েছে।”

ওই পুলিশ সদস্যকে আগেই প্রত্যাহার করা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “ভিকটিমের পরিবার মামলা করলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত ছিল।”

বাল্যবিয়ের এ ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করলে দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান  বলেন, “আগে খবর পেলে বাল্যবিয়ে বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এখন যেহেতু বিয়ে হয়ে গেছে, করার আর কী আছে?”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন এলাকাবাসী জানান, পুলিশের উপরে দেশে কে আছে? কারণ ওই পুলিশ এতো বড় ধরনের অন্যায় করা সত্ত্বেও ওই কনস্টেবলের কোন কিছুই হল না। এবং মেয়েটি এবং তার পরিবারে উপর যে অত্যাচার চালনো হয়েছে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যেখানে সরকারি আইন অনুযায়ী মেয়েদের বিবাহর বয়স ১৮ বছন ধার্য করা হয়েছে। সেখানে ওই পুলিশ কনস্টেবল কী ভাবে ১৬ বছরের কিশোরীকে বিবাহ করল তা আশ্চর্যের বিষয়। এখন তাদের মনে একটাই সন্দেহ বিরাজ করছে “তা হলে পুলিশ কী আইনের ঊর্ধ্বে”?

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like