দাড়ি-গোঁফ নিয়েই জন্মেছে বীথি

Bithi_011461772058রাইজিংবিডি: সারা শরীরে বড় বড় লোম নিয়ে জন্মেছে বীথি আক্তার (১২)। কেটে গেছে ১১ বছর। তবে সে সময় লোমের জন্য শারীরিক কোনো সমস্যা অনুভব করেনি সে।

এখন এক মাস ধরে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ। বছর খানেক আগে শুরু হয় মূল সমস্যা। এ সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করায় স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের বিছানা তার সঙ্গী।

বীথির স্তনের আকার অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় শুরু হয় জ্বালাপোড়া। এরপর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করানো হয়। তৃতীয় দফায় দুই দিন ওষুধ খাওয়ানোর পর স্তনের আকার আরো বাড়তে শুরু করে। সঙ্গে বাড়তে থাকে ব্যথা, জ্বালা, যন্ত্রণা। তবে এর আগে সাত বছর বয়সে দাঁত পড়ে যায়। পরে আর সেই দাঁতও গজায়নি।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ভালো ফল না পাওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। স্থানীয় চিকিৎসকরা বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর বীথির বাবা-মা তাকে সেখানে নিয়ে আসেন। ১২ দিন ধরে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বীথি আক্তার। স্তনের ভারে সোজা হয়ে হাঁটাচলা করতে পারে না সে।

টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার জয়ভোগ গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের মেয়ে বীথি। আবদুর রাজ্জাকের তিন ছেলেমেয়ের মধ্যে বীথি বড়। জয়ভোগ পাবলিক উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সে।

বীথি ছাড়াও আবদুর রাজ্জাকের আরো দুই ছেলে আছে। তুষার (১০) চতুর্থ শ্রেণিতে ও বাদল (৭) প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যান্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন) বিভাগের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শুয়ে আছে বীথি। সারা গা কাপড় দিয়ে ঢাকা। লোকজন দেখামাত্রই ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে। পাশে বসে আছেন মা বিউটি আক্তার। চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। বীথি কারো সঙ্গে তেমন একটা কথা বলে না।

দেখা যায়, চোখের নিচ থেকে শুরু করে সারা মুখে দাড়ি-গোঁফের মতো বড় বড় লোম। দাঁতও নেই। নাকে ফুল আর গলায় মালা। সাজতে সে খুব পছন্দ করে।

বীথি জানায়, লোমের জন্য সে কোনো সমস্যা অনুভব করে না। তার সমস্যা বুকে। স্তনে অস্বাভাবিক যন্ত্রণা করে। সহ্য করতে পারে না। অবশ্য দাঁত না থাকলেও সে খেতে পারে।

মা বিউটি আক্তার জানান, বীথির জন্মের পর শরীরে বড় বড় লোম দেখেও তার চিকিৎসা করানো হয়নি। এ বিষয়ে বিউটি আক্তার বলেন, ‘এলাকার লোকজনে বলেছে, আল্লাহ দিয়েছে, তা কমাতে গিয়ে যদি আবার বেড়ে যায়। মেয়ের যদি কিছু হয়ে যায়, সেই ভয়ে চিকিৎসক দেখাইনি।’ তবে এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যান্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন) বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ বুধবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বীথির কী ধরনের রোগ, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কনসালট্যান্ট নিয়োগ করা হয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। আশা করি, আগামী সপ্তাহের শনিবার নাগাদ বীথির এ রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলতে পারব।’

বিউটি আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেছেন, চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের তো টাকা নেই। আমরা তো গরিব। কোথায় পাব টাকা?’

বীথির বাবা আবদুর রাজ্জাক জানান, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বলেছিলেন, এটা হরমোন বেড়ে যাওয়ায় হয়েছে। হরমোন কমে গেলে স্তনের আকার ছোট হয়ে যাবে। এ ছাড়া লোমও ঝরে যাবে। কিন্তু কমেনি, বরং বেড়েছে।

আবদুর রাজ্জাক জানান, তিনি পেশায় একজন মোটরসাইকেল চালক। অন্যের কাছ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে যাত্রী বহন করেন। তাতে কোনো দিনে ১৫০, কোনো দিন ২০০ বা কোনো দিন ২৫০ টাকা আয় হয়। এ টাকায় সংসারই চলে না। মেয়ের চিকিৎসার খরচ বহন করবেন কীভাবে। তিনি তার মেয়ের চিকিৎসার জন্য বিত্তবানদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন। কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি চাইলে ০১৭২০-৩৬৬৭৮৩ নম্বরে বিকাশ করে বীথির চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে পারেন।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like