প্রিমিয়ারে ব্যবসা অনুষদে ক্লাস শুরু

Premier-bg20160425141311

চট্টগ্রাম ডেস্ক :  প্রতিপক্ষের উপর্যপুরি ছুরিকাঘাতে এমবিএ’র ছাত্র নাসিম আহমেদ সোহেল নিহত হওয়ার ২৬দিন পর সোমবার থেকে খুলেছে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন অনুষদ (দামপাড়া ক্যাম্পাস)।  শুরু হয়েছে ক্লাস। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় কম।

সোমবার দুপুর ১২টায় দামপাড়া ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের দুইতলার প্রবেশমুখের গ্রিলের দরজাটি সামান্য খোলা। ওই জায়গায় অবস্থান নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন নিরাপত্তারক্ষী। তারা শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখেই একজন একজন করে ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছেন। পরিচয়পত্র ছাড়া কেউ ভেতরে ঢুকতে পারছে না।  এছাড়া ক্যাম্পাসের নিচে অবস্থান করছেন ১২ জন পুলিশ সদস্য।

শ্রেণিকক্ষগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কিছু কিছু শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি থাকলেও অধিকাংশই শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে রয়েছে।

ছাত্র নিহতের জের ধরে ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবর্ত্তক মোড়ের মূল ক্যাম্পাস ও দামপাড়া ক্যাম্পাসে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়। বিশেষ করে দামপাড়া ক্যাম্পাসেই বেশি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দামপাড়া ক্যাম্পাসের প্রায় ৯০ভাগ সংস্কার কাজই ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। যেগুলো বাকি রয়েছে তার কাজ চলছে পুরোদমে। ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটি তলায় শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে।

ক্যাম্পাসের চতুর্থ তলায় শিক্ষক কক্ষে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের সঙ্গে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আহমেদ রাজিব চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘প্রায় একমাস পর ক্যাম্পাস খুলেছে। শিক্ষার্থীরা এসেছে। যথারীতি ক্লাস হচ্ছে।  অপ্রীতিকর ঘটনার পর থেকে ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রায় একমাসের শিক্ষাজটে পড়েছেন। এজন্য অতিরিক্ত ক্লাস নেবেন শিক্ষকরা। ক্লাস এতদিন বন্ধ থাকলেও পরীক্ষার শিডিউল পেছানো হবে না। পূর্বনির্ধারিত সময়েই সকল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সবমিলিয়ে এই একমাসের শিক্ষাজট পুষিয়ে দেওয়া হবে। ’

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনও জমা দেওয়া হয়নি। ক্লাস শুরুর কয়েকদিনের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে স্বাক্ষ্য নেওয়ার পর এটি দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১১হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে এই অনুষদেই পড়েন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী। পাঁচটি বিভাগের অধীনে ৮টি সেমিস্ট্রারে বিবিএ শ্রেণিতে রয়েছেন পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী। অন্যদিকে এমবিএ শ্রেণিতে রয়েছেন প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী। তাই স্বাভাবিকভাবেই সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেক শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ তলায় কথা হয় মার্কেটিং বিভাগের ৮ম সেমিস্টারের ছাত্র এম সালাউদ্দিন আকাশ, তৌহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইশানের সঙ্গে।

তারা বলেন, ‘এরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির কারণে একজন ছাত্র মারা গেল। আমরাও ক্ষতিগ্রস্থ হলাম। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক তা আমরা চাই না। আমরা সুষ্ঠু ও শিক্ষাবান্ধব ক্যাম্পাস চাই। ’

‘ঘটনার পর পরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিয়েছেন। এবার আশা করবো প্রশাসনও ব্যবস্থা নেবে। যাতে ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা আর না ঘটে।’

পঞ্চম তলায় কথা হয় বিবিএ ৫ম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ফাইরাজ ফারিহা, নুসরাত জাহান আর শাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে।

তারা সবাই একযোগে বলেন, সামান্য একটা পলিটিক্যাল ইস্যুকে ঘিরে হত্যাকাণ্ডের মতো এতবড় ঘটনা ঘটে গেল। এর ফলে একটা পরিবার যেমন সবকিছু হারিয়েছে। তেমনি আমরাও পিছিয়ে পড়েছি। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের। এরকম কিছু আমরা চাই না।’

ক্যাম্পাসের পঞ্চম তলায় বসেন ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মুহাম্মদ মুয়াজ্জম হোসেন। তিনি বলেন, ‘ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে হরতাল আর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর খুলেছে বলে প্রথমদিন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। পুরোদমে ক্লাস শুরু হতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে।’

শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে না দাবি করে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর জন্য যা যা পদক্ষেপ সবকিছুই নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আতঙ্কের কিছু নেই।’

-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like