‘ভোটের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা তিনগুণ বেড়েছে’

sonkha loghu

রাজনীতি ডেস্ক :আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা অন্তত তিন গুণ বেড়ে গেছে, এক রিপোর্টে এ অভিযোগ করেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের একটি সংগঠন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ।

আজ এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি অভিযোগ করে, এবছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ – এই প্রথম তিন মাসে, গত বছরের এই একই সময়ের তুলনায়, তাদের ওপর হামলার সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দুদের লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

এজন্যে মূলত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেই দায়ী করা হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ঢালাওভাবে অভিযোগ না করে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ তুলে ধরলে তারা ব্যবস্থা নেবেন।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তের উপস্থাপিত এই রিপোর্টে বলা হয়, সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার লংঘনের পরিস্থিতি গত বছরের তুলনায় এ বছর আরো ভয়াবহ পর্যায়ে গেছে। শুধুমাত্র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত ৮ হাজার ২শ’র বেশী ব্যক্তি পরিবার ও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মি. দাশগুপ্ত বলেন, ইউপি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের বাইরে অন্য দলগুলোকে তেমন দেখা যাচ্ছে না, আর বিভিন্ন এলাকাতে আওয়ামী লীগের একাধিক ‘বিদ্রোহী প্রার্থী সক্রিয় রয়েছে।

বিবিসি বাংলাকে পরে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনের আগে এই সহিংসতাগুলোর অধিকাংশের সাথেই যুক্ত বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তারা সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থেকে প্রশাসনকে ব্যবহার করে এগুলো ঘটাচ্ছে।

তবে এসব বক্তব্যকে ঢালাও অভিযোগ বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ মাহবুবুল আলম হানিফ।

hanif m

হানিফ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এভাবে ঢালাও অভিযোগ করার সুযোগ নেই। তবে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসে, সেটা অবশ্যই সরকার যুক্তি সহকারে বিবেচনা করে আইনগত পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া কোথাও যেন কেউ হয়রানির শিকার না হয় বা কাউকে যেনো ক্ষতিগ্রস্ত করা না হয়, সে ব্যাপারে আমাদের দলীয়ভাবেও কঠোর নির্দেশনা দেয়া আছে।”

এদিকে সরকারের দু’জন সিনিয়র মন্ত্রীও বলেছেন, এর আগে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কিছু অভিযোগ এসেছিল, সেগুলো খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তবে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে বিবৃতিতে বলা হয় – ‘গত বছর অর্থাৎ ২০১৫ সালে সংখ্যালঘুদের ‘একাধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন’ মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ছিল ১৫৬২টি। এ বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটেছে ৯ হাজার ৫৬৬টি।’

এসময় ১০ জন নিহত এবং ৩৬৬টি জন আহত হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া একাধিক ধর্ষণ, জমিজমা দখল, দেশত্যাগের হুমকির ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়।

রিপোর্টে জমিজমা ঘরবাড়ি মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ৬ শতাধিক।

মি, দাশগুপ্ত বলেন, এ সব ঘটনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীরা রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাকে ব্যবহার করেছে। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে ‘তুমি দেশে থাকলে ভোটটা আমার, চলে গেলে জমিটা আমার’ এই মানসিকতা কাজ করছে প্রভাবশালীদের মধ্যে।

পত্রপত্রিকা রিপোর্ট এবং নিজস্ব জরিপ – উভয় ধরণের সূত্র থেকেই তারা এসব তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলে জানান  দাশগুপ্ত।

-বিবিসি বাংলা

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like