জাবির বাতাসে মাদকের ঘ্রাণ : অতিষ্ঠ সাধারণ শিক্ষার্থীরা

2016_04_10_19_47_36_K74I0fhwBtnZyPcfmhBaTizPuBI1Ca_original

শিক্ষা ডেস্ক: জ্ঞানার্জনে প্রতিটি শিক্ষার্থীই লালিত স্বপ্ন নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসে শহরের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। পরিবার থেকে হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে অনেক শিক্ষার্থীই নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না। আবার কেউ কেউ পরিস্থিতির শিকার হয়ে কুপথে পা বাড়ায়। তাদেরই একেকজন হয়ে ‍উঠে মাদকাসক্ত কিংবা রাজনৈতিক-সন্ত্রাসী গ্রুপের সক্রিয় কর্মী। এ সময়টিতে বিশেষত মাদকের কড়াল গ্রাস নিজের উপর থেকেও অনেক শিক্ষার্থীর অধিকার হরণ করে। মাদকাসক্ত হয়ে একেকজন কোমলমতি শিক্ষার্থী অল্প সময়ের ব্যবধানে হয়ে উঠে বন্ধু-স্বজন-পরিবার বিচ্ছিন্ন। বিকৃতি আর বিমূর্ততায় সূর্যোদয়ের আগেই যেন তার সেই লালিত স্বপ্নের যবনিকা ঘটে। ব্যর্থ হয় ভবিষ্যতের প্রয়াস।

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। এই শিক্ষাঙ্গন থেকে বেরিয়ে আসে মেধাবী শিক্ষার্থীরা। কিন্তু সাম্প্রতিক চালচিত্রে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মাদকের ভয়াবহ ছোবল সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। আবাসিক হলগুলো এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে বাতাসে ভাসছে মাদকের ঘ্রাণ। অনেক শিক্ষার্থীকে নাকে হাত দিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু মাদকসেবীদের কিছু বলা যাচ্ছে না। ক্রমশই বাড়ছে তাদের দৌরাত্ম। বরং কিছু বখাটে যুবক মাদকাসক্ত হয়ে মেয়েদের যেতে দেখে নানারকম খিস্তি-কেউর করছে। আপন সম্মান বজায় রাখতে মেয়েটি হয়তো মাথা নিচু করেই হলে ফিরছে। হলগুলোতেও মাদকের আখড়া। প্রতিটি হলেই চলছে প্রকাশ্যে মাদকসেবন। যার গন্ধে আশেপাশের রুমগুলোতে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

2016_04_12_18_20_26_P3Sl2wwzfstBdZ5suTP0zPi5odR1SS_original

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি : মাদকাসক্তের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হলগুলোতে ল্যাপটপ, মোবাইল, মানিব্যাগ, পোশাক চুরির ঘটনাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। গত বছরের ২৪ আগস্ট মীর মশাররফ হোসেন হলের ৩৮তম ব্যাচের নগর অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের এক শিক্ষার্থী আসক্ত অবস্থায় চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন।

চলতি বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট দোকানগুলোতেও বেড়েছে চুরির ঘটনা। একাধিক দোকানি জানান, দোকানে সিগারেট রাখার মত নেই। রাখলে মাদকাসক্ত ছাত্ররা চুরি করে নিয়ে যায়।

সম্প্রতি আল বেরুনী হলের এক শিক্ষার্থী মাদক সংগ্রহের অর্থ যোগাড় করতে না পেরে হলের বিভিন্ন রুম থেকে ল্যাপটপ, মোবাইলসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লে তাকে হল থেকে বের করে দেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া নিয়িমিত শহীদ রফিক-জব্বার হলে মাদকের সঙ্গে বসে জুয়ার আসর। গত ২৮ জুলাই জুয়া খেলায় হেরে ল্যাপটপ বন্ধক রাখা নিয়ে দুই জুয়াড়ির মধ্যে মারামারির ঘটনা হয়।

উদ্বিগ্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার: মাদকের এ করাল গ্রাসে উদ্বিগ্ন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার। হলের মধ্যে যেন কেউ মাদকসেবন করতে না পারে এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে প্রত্যেকটি হল প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ফারজানা ইসলাম।

মাদক নিয়ে কেউ যেন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পারে এজন্য সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করতে নিরাপত্তারক্ষীদের আদেশ দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী বাংলামেইলকে জানান, ভিসির নির্দেশে বিভিন্ন স্পটে রাতে টহল দেয়া হচ্ছে। কোনো জায়গায় শিক্ষার্থীদের জটলা হলে তাদের হলে পাঠানো হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের গেটে তল্লাশি করা হচ্ছে।

জাবি শাখা ছাত্রলীদের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বাংলামেইলকে বলেন, ‘মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি আমরা।’

2016_04_12_18_13_27_nNkT647EXNI1PNC4NVKINsZ36CQf4C_original

বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্য: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বাংলামেইলকে বলেন, ‘মাদকের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তৎপর রয়েছে। প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

জাবি রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকসেবনের প্রবণতা কমে আসবে।’

এদিকে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহসিন কাদের বাংলামেইলকে বলেন, ‘যারা মাদক সরবরাহের ঘটনায় আটক আছেন এবং যাদের রিরুদ্ধে মামলা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মসচেতনতা বাড়াতে পারলে এসব বিষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

-বাংলামেইল২৪

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like