‘টিভির বদনাম হয়ে গেল’

Shafik-Rehman-wife

স্বামীকে গ্রেপ্তারের পর উদ্বিগ্ন তালেয়া রেহমান

শনিবার সকালে এই সাংবাদিককে ধরে নেওয়ার পর তালেয়া বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের উপস্থিতিতেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “টিভির বদনাম হয়ে গেল, আর (বাসায়) আসতে দেব না।”

রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডের ওই বাড়ি থেকে শফিক রেহমানকে তুলে নিতে ডিবির তিন সদস্য বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এসেছিলেন বলে জানান ডেমোক্রেসিওয়াচের নির্বাহী পরিচালক তালেয়া।

স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা তিনি জানানোর পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম যোগাযোগ করলে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্মকমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেছিলেন, তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না।

তার আধাঘণ্টা পর বিএনপিঘনিষ্ঠ এই সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে পুলিশ।

তালেয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নিজেদের বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিন পুলিশ সদস্য শফিক রেহমানের সাক্ষাৎকার নেওয়ার কথা বলেছিলেন।

অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়াই এত সকালে ‘সাংবাদিকদের’ বাসায় আসার খবর শুনে সন্দেহ হলেও এনিয়ে তখন কাউকে কিছু বলেননি তালেয়া।

“বৈশাখী টিভির কথা বললেও তাদের হাতে ছোট একটি ক্যামেরা ছাড়া অন্য কিছু ছিল না। অবাক হলাম, একটু সন্দেহও হয়েছিল।”

শফিক রেহমানের বাসায় দারোয়ান আব্দুল মতিন মোল্লা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ভোর ৬টায় বাসার গেটে এসে তিনজন মানুষ নক করে নিজেদের বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক পরিচয় দেন।

“এদেরকে বলি এখনও তো কেউ ঘুম থেকে উঠেনি, এরা বলে গেইট খোল। এরপর তাদের ভেতরে ঢুকিয়ে বসতে দিয়ে স্যারের বাসায় খবর পাঠাই।”

ইস্কাটনের বাড়ির কম্পাউন্ডে সামনের দোতলা বাড়িতে ডেমোক্রেসিওয়াচের কার্যালয়, সেখানেই তিন পুলিশ সদস্যকে বসিয়ে চা-নাশতা দেওয়া হয়। পেছনে তিনতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় সপরিবারে থাকেন শফিক রেহমান।

তালেয়া জানান, শফিক রেহমানের দেরি দেখে ওই তিনজন ভেতরের বাড়ির দিকে রওনা হয়।

দারোয়ান মতিন মোল্লা বলেন, ওই তিনজন একটি কার্ড তার হাতে দিয়ে তা তিনতলায় শফিক রেহমানকে পৌঁছে দিতে বলেন।

“স্যার কার্ড দেখে তা ম্যাডামকে দিতে বলেন। আমি কার্ডটি নিয়ে নিচে নামতে নামতে দেখি স্যারও নেমে আসছেন। ওই সময় ওই তিনজনও উপরে উঠতে থাকে। তারা ‘আমরা ডিবির’ লোক বলে কার্ডটি আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। স্যারকে ধরে নিয়ে যায়।”

“আমি আগায় গেলে একজন আমাকে গালি দিয়ে বলে, ‘গুলি করে মেরে ফেলব’।”

শফিক রহমান সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘মৌচাকে ঢিল’র সহকারী সম্পাদক সজীব ওনাসিস দাবি করেন, যে তিনজন শফিক রেহমানকে আটক করতে এসেছিল, তারা দুদিন আগে ভূমিকম্পের পরে বৈশাখীর টেলিভিশনের নাম করে সাক্ষাৎকার নিতে এসেছিল।

শফিক রেহমানকে আটকের খবরে ওই বাড়িতে যান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শফিক রেহমানের বাড়িতে পুলিশের ঢোকা নিয়ে কথা বলেন।

“বৈশাখী টিভির নাম দিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন তুলে নিয়ে যাবে। এটা কোন দেশ!”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like