ছাত্রলীগের সমাবেশে অস্ত্রের মহড়া, পুলিশ নির্বিকার

Chittagong-bg20160416130021

চট্টগ্রাম ডেস্ক : প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাসিম আহমেদ সোহেল হত্যার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা সমাবেশে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যোগ দিয়েছিল দুই যুবক।  সংঘর্ষ শুরুর পর দুই রাউণ্ড গুলির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেই অস্ত্র ব্যাগে ভরে প্রকাশ্যে নির্বিঘ্নে সবার সামনে দিয়ে তারা চলে যায়।

ঘটনার সাতদিন পার হলেও পুলিশ এখনও অবৈধ অস্ত্রধারী দুজনকে গ্রেফতার করতে পারেনি।  গ্রেফতারের জন্য দৃশ্যমান কোন উদ্যোগও নেয়া হয়নি।  এমনকি এ ঘটনায় থানায় কোন মামলাও হয়নি।

প্রকাশ্য সমাবেশে অস্ত্রের মহড়াটি চলেছে গত ৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।  চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের বিবদমান দুই অংশের মধ্যে মেয়রপন্থী অংশটি ওই সমাবেশের ডাক দিয়েছিল।সেদিনের সংঘর্ষ, গোলাগুলি এবং প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ার একটি ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বাংলানিউজের কাছে এসেছে।

সাতদিনেও অবৈধ অস্ত্রধারীরা গ্রেফতার না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর কোতয়ালি থানার ওসি মো.জসিম উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, দুই রাউণ্ড গুলি হয়েছিল এটা ঠিক।  অবৈধ অস্ত্র নিয়ে কেউ সমাবেশে এসেছিল এটাও ঠিক।  কিন্তু এ ঘটনায় যেহেতু কেউ মামলা করেনি, কাউকে সেভাবে গ্রেফতারও করা যায়নি।

‘আসলে কারা অস্ত্র নিয়ে এসেছিল সেটা আমরা এখনও শনাক্ত করতে পারিনি।  পলাশ নামে একজন যুবকের কথা আমরা শুনেছি।  কিন্তু সেটা এখনও নিশ্চিত নয়।  অস্ত্রসহ তাকে গ্রেফতারের আগে আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারব না। ’ বলেন ওসি।
অবৈধ অস্ত্রধারী দুই যুবক গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ আছে মেয়রপন্থী ছাত্রলীগের মধ্যেও।

মেয়রপন্থী অংশের নেতা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত বাংলানিউজকে বলেন, আমরা শহীদ মিনারে সোহেল হত্যার বিচার চাইতে সমাবেশ করতে গিয়েছিলাম।  সেখানে মারামারি করতে যাইনি।  আমাদের ভেতরে ঢুকে যারা অস্ত্রবাজি করেছে তারা গ্রেফতার হোক, এটা আমরা অবশ্যই চাই।  পুলিশকেই এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থী নাছিম আহমেদ সোহেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ২৩তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে ছাত্রদের দুইপক্ষের মধ্যে চলা উত্তেজনার মধ্যে গত ২৯ মার্চ ছুরিকাঘাতে মারা যান।  নিহত সোহেল মেয়রপন্থি অংশের নেতা ছিলেন। তার হত্যার প্রতিবাদে ডাকা সমাবেশটি নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে পণ্ড হয়ে গিয়েছিল।  সমাবেশে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি সেখানে যাননি।

বাংলানিউজের কাছে থাকা ভিডিও ফুটে দেখা যায়, সমাবেশ চলাকালে পাল্টপাল্টি স্লোগানে এক পর্যায়ে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।  এর মধ্যেই দুই রাউণ্ড ফাঁকা গুলির আওয়াজ শোনা যায়।  তারপর নেতাকর্মীদের মধ্যে ছোটাছুটি শুরু হয়।

শহীদ মিনার আর ফায়ার স্টেশনের মাঝামাঝি জায়গা থেকে গুলির আওয়াজ ভেসে আসে।  এরপর ভিড়ের মধ্যে দুই যুবক একটি ব্যাগ নিয়ে শহীদ মিনারের বাম পাশে আসে।  এদের একজন সাদা গেঞ্জি এবং আরেকজন লাল-কালো চেক শার্ট পরিহিত।  দুজনের মুখে মাস্ক লাগানো ছিল।

সাদা গেঞ্জি পরা যুবক তার কোমর থেকে একটি এলজি বের করে সেটি অপর যুবকের মেলে ধরা ব্যাগে ঢুকিয়ে দেয়।  এরপর সবার সামনে দিয়ে ওই ব্যাগ নিয়ে তারা রাইফেল ক্লাবের দিকে চলে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুই যুবক যাবার সময় রাইফেল ক্লাবের সামনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মীর প্রতিরোধের মুখে পড়ে।  তারা দুই যুবককে চড়-থাপ্পড় দেয়।  তবে অস্ত্র নিয়েই দুই যুবক সেখান থেকে দৌঁড়ে চলে যেতে সক্ষম হয়।

পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সূত্রে সাদা গেঞ্জি পরিহিত যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে।  সূত্রমতে, ওই যুবক ২০১২ সালে কনস্টেবল পদে পুলিশে যোগ দিয়েছিল।  দামপাড়া পুলিশ লাইনের রিজার্ভ শাখায় কর্মরত ছিল ওই যুবক।  শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং কর্মস্থলে নিয়মিত অনুপস্থিতির করণে ২০১৪ সালে তাকে বরখাস্ত করা হয়।  বরখাস্তের পর ছিনতাই করতে গিয়ে পাঁচলাইশ থানায় একবার গ্রেফতারও হয়েছিল ওই যুবক।

জেল থেকে বেরিয়ে এ যুবকের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক এক সহ-সম্পাদকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হয়।  গত মেয়র নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার অগ্রভাগে থেকে ওই গ্রুপে সে নিজের পরিচিতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।  তারপর মেয়র গ্রুপের যুবলীগের পদপ্রত্যাশী এক নেতার অনুসারী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে মিছিল-মিটিংয়ে যাওয়া শুরু করে।  বর্তমানে ওই যুবক নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়রপন্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত বাংলানিউজকে বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সঙ্গে যুক্ত একজন গুলি করেছিল বলে আমরাও শুনেছি।  কিন্তু এটার বিষয়ে প্রমাণ পাইনি।  আমরা চাই, পুলিশ তদন্ত করে এটা বের করুক।

কোতয়ালি থানার ওসি মো.জসিম উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, অস্ত্রধারী দুই যুবকের ছবি আমরা খুঁজছি।  ছবি পেলে তাদের শনাক্ত করা যাবে।  তারপর তাদের আমরা গ্রেফতার করব।

-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like