কেবল ঘোষণায় পর্যটন বর্ষ

2016সুজাউদ্দিন রুবেল, কক্সবাজারটাইমসডটকম, ১৩ এপ্রিল :  বিদেশি পর্যটক টানতে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের লক্স্যে ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করে সরকার। অনেকটা ঢাকঢোল পিটিয়ে বছরের শুরুতে এ নিয়ে কিছু অনুষ্ঠান আর প্রচার-প্রচারণা হলেও, এখন তা অনেকটাই স্থিমিত।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘোষণার চার মাস পরেও পর্যটন বর্ষ উদযাপন নিয়ে সরকারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। এদিকে পর্যটনমন্ত্রী বলছে, পর্যটন বর্ষ সফল করতে কাজ চলছে। তবে এটি গতি নিয়ে সময় লাগবে।

বিশ্বজুড়ে দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতেই ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করে সরকার। ব্যাপক ঢাকঢোল পিটিয়ে যার সূচনা হয় বছরের শুরুতে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য, ২০১৬-১৮ সাল পর্যন্ত এই তিন বছরে ১০ লাখ বিদেশি পর্যটককে দেশে নিয়ে আসা।

এজন্য গেল জানুয়ারি মাসে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আয়োজন করা হয় ৩ দিনব্যাপী বিচ কার্নিভাল। কিন্তু সে পর্যন্তই; এরপর দৃশ্যমান আর কোন কর্মসূচি বা প্রচারণাই নাই পর্যটন বর্ষকে ঘিরে। বছরের চার মাস পেরোতে চললেও বিদেশি পর্যটন আগমনের হার একেবারেই হতাশাজনক।

হোটেল কক্স-টুডে’র ম্যানেজার আবু তালেব শাহ বলেন, দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের ‘মহাপরিকল্পনার’ অংশ হিসেবে সরকারের নেওয়া এই উদ্যোগের বিষয়ে তারা ‘কিছুই জানেন না’। ঘোষণার পর প্রায় চার মাস পেরোতে চললেও পর্যটন বর্ষ উদযাপন নিয়ে সরকারের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।

ভিস্তা বে রিসোর্টের ম্যানেজার কলিম উল্লাহ বলেন, পর্যটন বর্ষ ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে বিদেশি পর্যটক আগমন ঘটানো। কিন্তু পর্যটন বর্ষ ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ, এর কোনো কার্যকারিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

লং বীচ হোটেলের অপারেশন প্রধান মোহাম্মদ তারেক বলেন, বছরের শুরুতে যখন পর্যটন বর্ষ ঘোষণার পর বিচ কার্নিভাল হয়েছে, তখন খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এরপর যেমন প্রচার-প্রচারণার প্রয়োজন ছিল তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এখন পর্যটন বর্ষ শুধু মুখেই বলতে গেলে আছে, কাগজে-পত্রে কিংবা প্রচার-প্রচারণায় নেই।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অফ কক্সবাজারের সভাপতি এম রেজাউল করিম বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যটন নির্ভর অবকাঠামো উন্নয়ন করা উচিৎ। এ দেশে পর্যটন একটি রুগ্ন শিল্প। কারণ, যে ধরনের নীতিমালা হওয়া উচিৎ তা এখানে নেই। আর এজন্য বিভিন্ন মেয়াদী পরিকল্পনা নেওয়া উচিৎ।

হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পর্যটন বর্ষ শুধু ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ, এটি বাস্তবায়নে পরিকল্পনা কিংবা কোনো সমন্বয় নেই। এছাড়াও হোটেল পর্যটন ব্যবসার সাথে যারা জড়িত তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জন্য সরকারকে উদার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। কক্সবাজার প্রতি না, সারা বাংলাদেশে পর্যটনের যে সুন্দর সুন্দর স্পটগুলো রয়েছে যেখানে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলেই বিদেশি পর্যটকরা বাংলাদেশের প্রতি আকৃষ্ট হবে।
তবে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, পর্যটন বর্ষকে ঘিরে ২০১৬ সালে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স, কার্নিভাল ও প্যাকেজ ট্যুর আয়োজনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

পর্যটন বর্ষ শুধু ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ কেন এমন প্রশ্নের জবাবে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, পর্যটন বর্ষের কাজ চলছে। তবে এটি গতি নিয়ে সময় লাগবে। এটি একদিনে বলা যাবে না। পর্যটন শিল্পটায় শিল্প হিসেবে আমাদের দেশে নতুন করে মাত্র অনুধাবন হচ্ছে। এটি যখন পরিপূর্ণ অনুধাবন হবে তখন দেখা যাবে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ছাড়াও প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন, টেকনাফ সৈকত, ইনানী পাথুরে সৈকত, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, রামুর ঐতিহ্যবাহি বৌদ্ধ বিহার ও মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে পর্যটকরা বেড়াতে যান। এসব স্থানে গড়ে ওঠা চার শতাধিক হোটেল, হোটেল ও রিসোর্টে প্রতিদিন থাকার ব্যবস্থা রয়েছে প্রায় দেড় লাখ পর্যটকের।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like