চৌফলদন্ডীতে আ.লীগের মনোনয়ন চেয়ে সাড়া ফেলেছেন আবুল কালাম

12992790_515131581999833_1430755487_nনিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজারটাইমসডটকম, ১২ এপ্রিল : জেলা শহরের অতি নিকটবর্তী ও অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনার কারণে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডী ইউপি নির্বাচনে কে হচ্ছেন ‘নৌকা প্রতীকের প্রার্থী’ তা নিয়ে সরব আলোচনা চলছে ইউনিয়নের সর্বত্রই।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তপসীল মতে, চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ জুন।
সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটারদের অভিমত, স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী নির্বাচিত হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডও ব্যাপকতর রূপ পাবে। এছাড়া জেলার বহুল আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য, প্রবীন রাজনীতিবিদ ও কক্সবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর নিজ ইউনিয়ন হওয়ায় ‘নৌকার মাঝি’ কে হচ্ছেন, তা আলোচনায় অন্যমাত্রা যোগ করেছে।
সাধারণ ভোটারদের ধারণা, এমনিতেই সুদীর্ঘ ৪ দশকেরও বেশী সময় ধরে জনগণের সুখে-দু:খে পাশে থাকার কারণে এ ইউনিয়নে মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর রয়েছে নিজস্ব একটি বিশাল ভোট ব্যাংক। এর পাশাপাশি চৌফলদন্ডী ইউপি নির্বাচনে এলাকার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এমন তারুণ্য নির্ভর ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হলে জয় সহজতর হবে। এছাড়া দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে এ ইউনিয়নে মোস্তাক আহমদ চৌধুরীর সমর্থন ও পরামর্শ অন্যতম ভূমিকা পালন করবে। ফলে তার সমর্থন কার দিকে যায়, তা নিয়েও আলোচনার ঝড় তুলেছে নির্বাচনী মাঠে।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তৃণমূল নেতা-কর্মীর পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মাঝে ঘামঝরা গণসংযোগ চালাচ্ছেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী। তারা দলীয় নেতা-কর্মীদের কাছে যেমন ধর্ণা দিচ্ছেন, যাচ্ছেন সাধারণ ভোটারদের মাঝেও। তুলে ধরছেন, প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলেও এলাকায় কিভাবে উন্নয়ন কর্মকান্ড সাধন করবেন তার চিত্রও। ফলে বিষয়টি সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটারদের মাঝেও আলোচনার ঝড় তুলেছে।
চৌফলদন্ডী ইউপি নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে যে কয়জন প্রার্থী আলোচিত ঘামঝরা প্রচারণা চালাচ্ছেন তারা হলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুজিবুর রহমান, চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক তরুণ সমাজ সেবক আবুল কালাম আজাদ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ওয়াজ করিম বাবুল ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মনির।12968508_515131551999836_599923934_n
তবে নির্বাচনী মাঠে কে হচ্ছেন ‘নৌকার মাঝি’ তা দেখতে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তের দিকে মুখিয়ে আছেন সাধারণ ভোটাররা।
চৌফলদন্ডীর সাধারণ ভোটার ও সচেতন মহলের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে এ ইউনিয়নে যে কয়জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন, তাদের প্রচার-প্রচারণায় ও গণসংযোগের মাধ্যমে বেশ আলোচিত হচ্ছেন তরুণ সমাজ সেবক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। তিনি ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেই রয়েছেন। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশী সময় সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটানোর পর গত ৪/৫ বছর ধরে এলাকায় নিয়মিত অবস্থান করছেন। সেই থেকে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে কাজ করছেন। কক্সবাজার শহরে রয়েছে তার নিজস্ব আবাসিক হোটেল সহ বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
এলাকাবাসী ও সাধারণ ভোটাররা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে পুরো ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় আবুল কালাম আজাদ চষে বেড়িয়েছেন। হাটে-বাজারে ও ষ্টেশনে গণসংযোগের পাশাপাশি পাড়ায়-মহল্লায় করেছেন উঠোন বৈঠকও। মতবিনিময় সভা করেছেন দলের তৃণমূল নেতা-কর্মী ছাড়াও পুরো ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সহ সমাজ কমিটির সাথে। তার এ প্রচারণা ও গণসংযোগ সচেতন মহল সহ সাধারণ ভোটারদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।
ইতিমধ্যে চৌফলদন্ডীর পশ্চিম পাড়া, মাইজপাড়া, দক্ষিণ পাড়া, উত্তর পাড়া, রাখাইন পাড়া, হিন্দু পাড়া, হায়দার পাড়া, ঘোনার পাড়া, সিকদার পাড়া, কালু ফকির পাড়া, পুকুরিয়ার ঘোনা ও নতুন মহাল সহ পুরো ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ প্রচার-প্রচারণায় চষে বেড়িয়েছেন।
রাখাইন পাড়ার ক্যজ মং বলেন, দলীয় কোন পদ-পদবী না থাকলেও আমি আওয়ামী লীগের সাধারণ একজন সমর্থক ও কর্মী। এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করেন এবং জনগণের সুখে-দু:খে পাশে থাকেন এবং অতীতেও ছিলেন; এমন তারুণ্য নির্ভর প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হউক।
তিনি জানান, যে কয়জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন চেয়ে মাঠে রয়েছেন; তাদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করছেন। ইতিমধ্যে তিনি পুরো ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা চষে বেড়িয়েছেন। তাতে সাধারণ ভোটারদের মাঝে তিনি বেশ সাড়াও ফেলেছেন।
কালু ফকির পাড়ার মো. শাহেদ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সুখে-দু:খে পাশে ছিলেন এমন প্রার্থীকে আমরা ভোট দেবো। সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জনবান্ধব নেতাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে জয়লাভ অনেকটা সহজতর হবে।
বসেই নেই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকা অন্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও। তারাও তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি গণসংযোগ চালাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। দলীয় মনোনয়ন পেতে তারাও চেষ্টা চালাচ্ছেন যারপর নাই মতো অবস্থায়।
এব্যাপারে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে ৩/৪ বছরের বেশী সময় ধরে এলাকাবাসীর মধ্যে কাজ করছি। ইতিমধ্যে এলাকাবাসীর সঙ্গে আমার একটা আত্মার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আমি দলীয় মনোনয়ন পেলে নিশ্চিত বিজয়ী হতে পারবো।

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like