মশাল কার, এখনই ‘সিদ্ধান্ত’ দিচ্ছে না ইসি

রাজনীতি ডেস্ক : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের দু’পক্ষের শুনানি করলেও মশাল প্রতীক কার- তা নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত দিতে চাচ্ছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দলের ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রচেষ্টার পাশাপাশি সংক্ষুদ্ধ অংশের আদালতে যাওয়ার আভাসের মধ্য দিয়ে মশালের বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার কৌশল নিচ্ছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

এ বিষয়ে ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মশাল কার এ সিদ্ধান্ত এখনই নয়। কারণ, কোনো পক্ষই আমাদের রেজাল্ট চায়নি। আমার জানা মতে, তৃতীয় ধাপে দু’পক্ষ প্রার্থী দেয়নি। এ কারণে এ ধাপের নির্বাচনে প্রতীক নিয়ে সমস্যা হবে না। এ জন্য ইসি এখন মশালের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবে না।’

বুধবার (৬ এপ্রিল) দিনভর দুই ধাপে জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু ও মঈনুদ্দীন খান বাদলের নেতৃত্বাধীন দু’পক্ষের শুনানি চলে নির্বাচন কমিশনে।

তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠেয় ৬২১ ইউপির মধ্যে জাসদের চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে ৩৬ জন। এর মধ্যে ইনু-শিরীন অংশের ২৭ জন। আম্বিয়া-প্রধান অংশের ৯ জন। একই ইউনিয়নে উভয় অংশের কোনো প্রার্থী নেই। সবাই আলাদা আলাদা ইউনিয়নে। তাই উভয় অংশকেই মশাল প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এতে খুব বেশি ঝামেলা হবে না বলেই মনে করে নির্বাচন কমিশন। তবে চতুর্থ ধাপের আগেই প্রতীকের বিষয়ে সমাধানে না পৌঁছালে বিষয়টি জটিল হয়ে যাবে বলে মনে করছে ইসি কর্মকর্তারা।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, চতুর্থ ধাপের প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের সময় শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল)। চতুর্থ ধাপকে কেন্দ্রে করে দু’পক্ষ থেকে প্রার্থী মনোনয়নে প্রত্যয়নপত্র দিতে আলাদা আলাদা ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচন করে ইসিকে জানানো হয়েছে। এ ধাপের নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা না দিলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এরই প্রেক্ষিতে জাসদের মশাল জটিলতাকে আপাতত কোনো সমস্যা হিসেবে না দেখে তা ঝুলিয়ে রাখার পক্ষে মত দিতে চাচ্ছে ইসি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘তৃতীয় ধাপের মনোনয়নপত্র বাছাই শেষ হয়েছে। মশাল প্রতীক দেয়ার বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছে। তারা এখনো পর্যন্ত কোনো মতামত চায়নি। শুনানিতে এসে দু’পক্ষের কেউ কোনো দাবি জানায়নি। তাহলে আগ বাড়িয়ে ইসি কেন সিদ্ধান্ত দেবে? অপেক্ষা করেন। এখন তো কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমাদের কাছে শুনানিতে কেউ কোনো প্রেয়ার না দিলে আমরা কী দেব তাদের?’ জাসদে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কোনো বিতর্কেও জড়াতে চান না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অপর এক ইসি কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা নিয়ে আগ বাড়িয়ে কিছু করতে গেলে বিতর্ক বাড়বে। মশাল নিয়ে তাদের যদি কোনো জ্বালা না থাকে আমাদের কী করার আছে? এ মুহূর্তে চুপচাপ বসে থাকলেই তো ভালো।’

ইউপি নির্বাচনের শুরুতে শরীফ নুরুল আম্বিয়াকে, পরে ইনু নেতৃত্বাধীন জাসদ শিরীন আখতারকে ও বাদল নেতৃত্বাধীন জাসদ নাজমুল হক প্রধানকে দলীয় প্রার্থী প্রত্যয়নের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি উল্লেখ করে ইসিতে চিঠি দেয়া হয়। ফলে মশাল প্রতীক কার হাতে যাবে এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ কারণে শুনানির ডাক দেয় ইসি। তবে দু’পক্ষ এখনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না চাওয়ায়, ইসির পক্ষ থেকে প্রতীকের বিষয়টি ঝুলিয়েই রাখা হচ্ছে।

এদিকে শুনানি শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় সিইসি অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সামনে জাসদের বিষয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে তড়িঘড়ি করে শেরেবাংলানগরস্থ ইসি কার্যালয় ত্যাগ করেন।

জাসদের দু’পক্ষের বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে জানিয়ে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দু’টি পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। দু’পক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে, তাদের বক্তব্য পর্যালোচনা করবো। আরো কিছু বিষয়ে তথ্য প্রয়োজন হলে কাগজপত্র চাইব।’

এ অবস্থায় কোন পক্ষের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরে জাসদের দলীয় প্রার্থীর প্রত্যয়ন নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে সিইসি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘এ নিয়ে পরে দেখা যাবে।’

অন্যদিকে শুনানি শেষে জাসদের দু’পক্ষই মশাল প্রতীকের দাবি করে বলেছেন, নির্বাচন কমিশনার যথাযথ ও সুবিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।’

একাংশের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘ইসির প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আশা করি তারা সুবিবেচনা করবেন।’

পরে একাংশের কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দীন খান বাদল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জানিয়েছি- মশাল প্রতীক আমাদের। এখন প্রত্যাশা, ইসি যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে।’

এদিকে সাংবাদিকদের অনুপস্থিতিতে ইসির সম্মেলন কক্ষে রুদ্ধদ্বার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ইসির জনসংযোগ শাখা থেকে জানানো হয়, শুনানিতে সাংবাদিক প্রবেশের সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে সিইসির সভাপতিত্বে তিন নির্বাচন কমিশনার, সচিবসহ সংশ্লিষ্টরাই শুধু শুনানিকালে উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ জাসদের জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে দু’ভাগ হয়ে যায় দলটি। তার পর থেকেই চলমান ইউপি নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতর জটিলতা দেখা দেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মূল জাসদ চিহ্নিত করতে গত ৪ এপ্রিল ইনু ও বাদলকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার জন্য চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী আজ দলটির দু’পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে শুনানি শেষ হলেও মশাল কার তা এখনো জানায়নি নির্বাচন কমিশন।

-বাংলামেইল২৪

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like