বহুমুখি চাপে টনক নড়লো ইসির

দেশ ডেস্ক : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়ম রোধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভূমিকা নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে পরবর্তী ধাপের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে করার জন্য ফের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইসি। আগামী ১৩ এপিল সকাল সাড়ে ১১টায় ইসির কনফারেন্স রুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন মহল ইসির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছে। এসব কারণে এ বৈঠক আহবান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সতর্ক করে ইসি আরেকটি নির্দেশনা দেয়ার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে।

ইসি সচিবালয়ের উপ-সচিব মো. সামছুল আলম বলেন, ‘তৃতীয় ধাপের ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করবে ইসি। এ ব্যাপারে তাদেরকে দ্রুত চিঠি পাঠানো হবে।’

ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরে এ পর্যন্ত সারাদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৪১ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৫ সহস্রাধিক।

এমতাবস্থায় সামনের চার ধাপে প্রাণহানির সংখ্যা আরও ব্যাপকহারে বাড়বে বলে নির্বাচন কমিশন থেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে সর্বমহলের আস্থাহীনতায় পড়ছে নির্বাচন কমিশন। ভোটার, প্রার্থী, সরকারি দল, বিরোধী দলসহ সব মহলই অভিযোগের আঙ্গুল তুলছে নির্বাচন কমিশনের দিকে। বিএনপি ছাড়াও প্রকাশ্যে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করেছে ক্ষমতাশীন ১৪ দলীয় জোটের বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি।

এছাড়া সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে সরকারি দলসহ বিভিন্ন মহলের কড়া সমালোচনায় আরও বেশি বেকায়দায় পড়ে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের বক্তব্য ইসিকে অশ্বস্তিতে ফেলেছে বলে মনে করছে কমিশনের কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত তার দেয়া এক বক্তব্যে বলেছেন, ‘এ কেমন ইসি। নড়েও না চড়েও না।’ এছাড়া গতকাল রোববার ইসিকে ঈঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দেয়া বক্তব্যের পরপরই নড়েচড়ে বসতে চাইছে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন।

আর তাই সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কঠোর হচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ইসি কর্মকর্তারা জানান, ইউপি ভোটের প্রথম দুই ধাপের সহিংসতা-অনিয়ম সবাই দেখেছে। সব রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এর প্রতিকার চাওয়া হচ্ছে। সবাই ইসিকে দুষছেন। এমন পরিস্থিতিতে গত দুই দিনে কয়েকবার বৈঠক করেছেন কমিশনাররা। এরই মধ্যে ফের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের ডেকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেবে সিইসি। এছাড়া মাঠ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে সতর্ক করে একটি চিঠি দেয়া হতে পারে।

ইউপি নির্বাচনের প্রধম ধাপের ভোটের আগের দিন সিইসি বলেছিলেন, ‘সহিংসতার দায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকালী বাহিনী ও মাঠ কর্মকর্তাদের।’ প্রথম ধাপের ভোটে ২৪ জন নিহতের পর এক নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন, ‘সব সহিংসতার দায় নেবে না ইসি।’

এর পরে দ্বিতীয় ধাপের ভোটকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় নিহত হয় ১৬ জন। সহিংসতা রোধে কঠোর না হয়ে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটির পক্ষ থেকে দায় এড়ানোর চেষ্টাকে কঠোর সমালোচনার চোখে দেখছে সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলো। আর তা থেকেই একটু নড়েচড়ে বসার চেষ্টা করছে ইসি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) মিলনায়তনে গত ৩ মার্চ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে তিনি বলেন, ‘ভোট কেন্দ্র দখল, জালভোট ও কারচুপির কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের কিছু ঘটলে শেষ বুলেট থাকা পর্যন্ত নির্বাচনের অনিয়ম ঠেকাতে হবে।’

এর পরও স্থানীয় পর্যায়ের এ ভোটকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও অনিয়মের জন্য ইসির কঠোর না হওয়াকে দায়ী করছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ধাপে সাড়ে ৬০০ ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ছয় ধাপে দেশের সাড়ে চার হাজার ইউপিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রথম দুই ধাপের ভোট সম্পন্ন হয়েছে।

-বাংলামেইল২৪

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like