বাংলাদেশে নাইজেরিয়ানদের প্রতারণার নতুন ফাঁদ

naijerian-04.04নিউজ ডেস্ক : পুরস্কার প্রদানের নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার ফাঁদ পেতেছে নাইজেরিয়ান নাগরিকদের একটি চক্র। সম্প্রতি বাংলাদেশি এক ব্যবসায়ীর ৩৮ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় তিন নাইজেরিয়ান তরুণ ও ২ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন : মো. আওয়ালু আদামু, অডিবোভাহেমেন জেমস, অলোরুফেমু ডিনেল ও দুই বাংলাদেশি মোহাম্মদ আদামু ও জয়ন আরা রিয়া।

সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে ধানমন্ডিস্থ পিবিআই সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্পেশালাইজড ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আহসান হাবীব পলাশ।

তিনি বলেন, ‘তারা পুরস্কারের প্রতারণা বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে বাংলাদেশি মেয়েদের কণ্ঠ ব্যবহার করে যোগাযোগ করতো। বাংলাদেশি কয়েকজন যুবক ও তরুণীর যোগসাজশ থাকায় প্রতারণায় সুবিধা পাচ্ছে প্রতারক চক্রটি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বৈধ ও অবৈধভাবে বসবাসকারী নাইজেরিয়ান কয়েকজন নাগরিক স্ক্যাম (এসএমএস ও ইমেইলের মাধ্যমে) প্রতারণা করে আসছে। গত ২৭ মার্চ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে পল্টন থানায় এক ব্যবসায়ী মামলা করেন। মামলা নং ৪১।’

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পুরস্কারের কথা বলে তার কাছ থেকে ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার ৭৮৯ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। মামলা দায়েরের পরই তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

তদন্তের প্রেক্ষিতে পিবিআই জানতে পারে, প্রতারক চক্রটির কয়েকজন সদস্য রাজধানীর শাহআলী থানাধীন এলাকায় অবস্থান করছে। এরই প্রেক্ষিতে রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে শাহআলীর নবাবেরবাগ এলাকা থেকে ওই ৪ নাগরিক এবং বাংলাদেশি এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি ল্যাপটপ, ৮টি মোবাইল, ব্যাংকের চেক ও অ্যাকাউন্ট তথ্য, সিম ও পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়।

পিবিআই সদর দপ্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, দেশের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় চক্রটি এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিল।’

প্রতারকরা মূলত মোবাইল ব্যবহার করে গ্রাহকদের পুরস্কারের প্রলোভন দেয়। কোকাকোলা লটারি, ইউনাইটেড নেশনস পুরস্কার, আইসিসি টুর্নামেন্ট পুরস্কার, ইউএনডিপি পুরস্কার প্রাপ্তিসহ বিপুল পরিমাণ অর্থ পুরস্কারের বার্তা পাঠায়। সেখানে ইমেইল ঠিকানাও দেয়া হয়।

প্রতারকরা কাস্টমস ডিউটি, অর্থ মন্ত্রণালয় হতে টাকা ছাড়, মানি লন্ডারিং মামলায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ভীতি, ফিসিং (ভুয়া ওয়েব পেইজ), সিওটি (কস্ট অব ট্রান্সফার), ৫ শতাংশ ভ্যাট ও অ্যান্টি টেরোরিজম ইত্যাদি খাতে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন অংকের টাকা আদায় করে।

পিবিআই’র এ কর্মকর্তা আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান তিনি।

-বাংলামেইল২৪

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like