ফেঁসে যাচ্ছেন খোকাসহ প্রশাসকরা

khokoasm20160403172203অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে বিভক্ত উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে কমিটি। এছাড়া ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রমে কমিটির অসন্তোষ, জবাব দিতে ওয়াসার এমডিকে দশদিনের সময় দিয়েছে কমিটি।

রোববার (০৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়।

কমিটিতে উত্থাপিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সাদেক হোসেন খোকা দায়িত্ব পালনের সময় সিটি করপোরেশনের দোকান, খালি জায়গা বরাদ্দ, ভবন নির্মাণ ও দরপত্র আহ্বানে অনিয়ম করেছেন।

বৈঠকে শেষে কমিটি সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বাংলানিউজকে জানান, শুধুমাত্র সাদেক হোসেন খোকাই না, অনির্বাচিত যে সকল সরকারি কর্মকর্তারা (প্রশাসক) দায়িত্বে ছিলেন তাদের বিরুদ্ধেও বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।  সকল অভিযোগ আমরা তদন্ত করছি। তাতে দেখা গেছে, খোকা দায়িত্বে থাকাকালে দোকান বরাদ্দসহ নানা ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছেন। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন বিভক্ত হওয়ার পর দক্ষিণের ৪০ জন এবং উত্তরের ৪২ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কর্মকর্তারা ট্যাক্স আদায়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম করেছেন। তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে, শাস্তিও হয়েছে কয়েকজনের।

বাদশা জানান, তবে আমরা খোকার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আইনজীবীদের একটি প্যানেলের কাছে পাঠিয়েছি। তারা দেখে যে সুপারিশ করবে, সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নবম বৈঠকে ২০১৫ সালের জুন মাসে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার সময়কালের কর্মকাণ্ড তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি।

সংসদীয় কমিটি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আকরাম আল হোসেনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন মার্কেটে ২৬টি দোকান ও খালি জায়গা বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম মানা হয়নি। ওই সব স্থান বরাদ্দের জন্য সাবেক মেয়র খোকা সুপারিশ করেছেন। এসব জায়গা ও দোকান বরাদ্দের কারণে চলমান মামলার জন্য সিটি করপোরেশনের অনেক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

মালিটোলার ফজলুল করিম কমিউনিটি সেন্টারের নিচে, লেডিস হকার্স মার্কেট,  জিন্দাবাহার লেন, সিদ্দিকবাজার জামে মসজিদ ও মাদ্রাসা, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২, ধোলাইখাল রোড, নর্থ-সাউথ রোডের পাশে পতিত জমি, সূত্রপুর থানার পূর্ব দিকে লোহার ব্রিজ, সুন্দরবন স্কয়ার মার্কেট, সায়েদাবাদ দরবার শরিফের রাস্তার প্রবেশপথ, ৭৫নং ওয়ার্ড কমিউনিটি সেন্টারের খালি জায়গা, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গ্রামীণ ফোনের যন্ত্রপাতি বসানোর জায়গা, গুলিস্তানে ঢাকা ট্রেড সেন্টার, ল্যাব এইড হাসপাতালের সংযোগ সেতু, ঢাকা নিউ মার্কেটের ১নং গেট, ঢাকা মেডিকেলের ১নং গেট, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের খালি জায়গা, স্কয়ার হাসপাতালের দুই ভবনের মধ্যের সংযোগ, চকবাজার পাবলিক টয়লেট, নিমতলী মার্কেটের পূর্ব পাশে জায়গা বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রমনা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ পাওয়া মাসুদ কর্পোরেশনকে নিয়ম বহির্ভুতভাবে কাজ দেওয়া হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যে চুক্তি করা হয় তাতে সিটি কর্পোরেশনের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। দিলকুশায় বহুতল বিশিষ্ট কার পার্কিং কাম বাণিজ্যিক ভবন সানমুন স্টার টাওয়ার নির্মাণের সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের অনুমতি না নিয়ে আর্থিক বিধি লঙ্ঘন করা হয়েছে। ওই ভবন নির্মাণের সময় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল অনুসরণ করা হয়নি। এ ভবন নির্মাণের চুক্তিতেও সিটি করপোরেশনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এ কাজের জন্য মন্ত্রণালয় সাদেক হোসেন খোকা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়ী করেছে।

কমিটি ‘আরবান পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেনন্টাল হেলথ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ এর আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ আরো ৫টি সিটি করপোরেশন- চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটের হিসাব ও রাজস্ব বিষয়ক কার্যক্রম অটোমেশন/ কম্পিউটারাইজেশনের কাজটি আরো বেগবান করার সুপারিশ করে। তাছাড়া গুড গভার্নেন্সের লক্ষ্যে হোল্ডিং ট্যাক্স বকেয়ার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান ট্যাক্স আদায়েরও সুপারিশ করে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আগের নিয়োগকৃত আইন কর্মকর্তা পরিবর্তন করে নতুন আইন কর্মকর্তা নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।

কমিটি ঢাকা ওয়াসা বাস্তবায়িত ‘পলিউশান কন্ট্রোল মেজারস অব গুলশান-বারিধারা লেক বাই ডাইভার্টিং দ্য ড্রেনেজ আউটলেটস’ শীর্ষক প্রকল্পে ব্যয় করা অর্থের যথার্থ ব্যবহার এবং উপযোগিতার সঠিক তথ্যাদি পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করে।

ফজলে হোসেন বাদশা ওয়াসার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বলেন, ওয়াসা আমাদের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছে যে, গুলশান-বারিধারা লেক দূষণমুক্ত হয়েছে, তারা সফল।  কিন্তু আমরা কমিটি মনে করি, সেটা হয়নি। এজন্য দশদিন সময় দিয়েছি গুলশান-বারিধারা লেক সরেজমিন পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন দিতে। তার পরে কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে কমিটির লোক যাবেন নাকি অন্য কোনো সংস্থা দিয়ে তদন্ত করা হবে। তবে প্রকল্পের টাকা শেষ হলেও আমরা মনে করেছি, লেকটি দূষণমুক্ত হয়নি।

কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য মো. রহমত আলী, ফজলে হোসেন বাদশা এবং রহিমা আকতার বৈঠকে অংশ নেন।

-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like