পরিকল্পিত হামলায় সোহেল খুন, ধারণা পুলিশের

Sohel

নাছিম আহমেদ সোহেল

পাঁচ দিন আগের এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে চকবাজার থানার ওসি আজিজ আহমেদ বলছেন।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ২৩তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে ছাত্রদের দুপক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে চলা উত্তেজনার মধ্যে মঙ্গলবার এক পক্ষের ছুরিকাঘাতে এমবিএ প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ও নগর ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য নাছিম আহমেদ সোহেলের মৃত্যু হয়।

পুলিশ কর্মকর্তা আজিজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ক্যাম্পাস আর বিদায় অনুষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণের দ্বন্দ্বে সোহেলকে খুন করা হয় বলে জানায়।

“বেশ কিছুদিন ধরে প্রতিপক্ষের ছাত্ররা সোহেলকে হুমকি দিয়ে আসছিল। এই ঘটনায় সোহেল থানায় সাধারণ ডায়রি করায় তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে হামলার ঘটনা ঘটে।”

ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই পক্ষের হাতাহাতির পর এক শিক্ষার্থী পকেট থেকে ছুরি বের করে সোহেলকে আঘাত করে, যাকে এর আগে সোহান বলে নিশ্চিত করেন ওসি আজিজ।

তিনি বলেন, “সোহান নামে ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্রই সোহেলকে ছুরি মেরেছে।”

নোয়াখালীর সুধারাম থানার শালগাড়িয়া গ্রামের মো. শফিক উল্লাহর ছেলে মো. ইব্রাহীম ওরফে সোহান চট্টগ্রামের খুলশী থানার হাজী নূর আহমদ সড়কের (আলফালাহ গলির) মঞ্জুর মিয়া কলোনিতে থাকেন।

সোহান বিবিএর শিক্ষার্থী বলে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আহমদ রাজীব চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করলেও কোন সেমিস্টারের, তা জানাতে পারেনি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই হুমায়ুন কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সোহেলের সম্পৃক্ততা বেশি হওয়ায় তার এক সময়ের বন্ধু সোহানসহ অন্যরা ক্ষিপ্ত হয়।

“বন্ধুদের ইগো সমস্যার কারণে পরিকল্পিতভাবে সোহেলকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে।”

প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ‘রাজনৈতিক’ কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়ে হুমায়ুন বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবদের জন্য আবারও রিমান্ডে আনা হবে।”

সোহেল হত্যার পরদিন তার বাবা আবু তাহের সোহানসহ ১৬ জনের পরিচয়সহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।

হামলার পরপর ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম আশরাফ, ওয়াহিদুজ্জামান নিশান, মো. জিয়াউল হায়দার চৌধুরী, এস এম গোলাম মোস্তফা ও তামিউল আলম তামিমকে ওয়াসা ক্যম্পাস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, এদের মধ্যে প্রথম চার জনকে হামলায় অংশ নিতে দেখা যায় বলে পুলিশ বলছে।

ওই পাঁচ শিক্ষার্থীকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি আজিজ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like