পরীক্ষার অবসরই কোরআন শেখার উপযুক্ত সময়

islambg1220160331074609

ভালো ফলাফলের প্রত্যাশায় এবং প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার জন্য কাকভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। এসএসসি পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী শৈশবে কোরআন শিখলেও নানা ব্যস্ততায় কোরআন না পড়তে পড়তে ভুলে গেছে। আবার এমন অনেকই আছে যারা- কোরআন শেখার সুযোগই পায় নাই। এখন পরীক্ষা পরবর্তী অবসর সময় চলছে। এই অবসর সময় কোরআন শেখার জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ।

যারা কোরআন তেলাওয়াত শিখেননি তাদের প্রথম কাজ হলো- কোরআন তেলাওয়াত শেখা। সদ্যসমাপ্ত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে এখন অনেক অবসর সময় রয়েছে। এই সময়কে কাজে লাগানো দরকার।

আসলে কোরআন শেখা খুব কঠিন কাজ নয়। এসএসসি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন আধাঘণ্টা থেকে একঘণ্টা সময় ব্যয় করলে ৩০-৪০ দিনে মাত্র ৩০-৪০ ঘন্টা ব্যয়ে কোরআন শেখা সম্ভব।

মুসলমানের জন্য কোরআন শেখা একটি জরুরি বিষয়। যে কোরআন জানে না- যার মাঝে কোরআনের জ্ঞান নেই, তাদেরকে আল্লাহতায়ালা শিক্ষিত না বলে নিরক্ষর বলেছেন। এ বিষয়ে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের মধ্যে এমন কিছু নিরক্ষর লোক আছে, যারা মিথ্যা আশা ছাড়া কিতাবের (কোরআনের) কিছুই জানে না, তারা শুধু ধারণাই পোষণ করে।’ -সূরা বাকারা : ৭৮

কোরআন শেখার ও শেখানোর গুরুত্ব সম্পর্কে সূরা আর রাহমানের প্রথম ৪ আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘পরম দয়ালু আল্লাহ। তিনি কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি কথা বলতে শিখিয়েছেন।’ উল্লিখিত আয়াতে ‘আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন’- বলার পূর্বে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন কথাটি বলা অত্যন্ত তাৎপর্যমন্ডিত, গুরুত্ববহ ও চিন্তা-গবেষণার বিষয়। আসলে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণের মাপকাঠি হলো কোরআন। আল্লাহতায়ালা মানুষকে বাকশক্তি দিয়েছেন কোরআন শেখা ও শিখানোর জন্য।

আমরা আমাদের সন্তানদের অনেক কিছু বানাতে চাই। নিজেরাও অনেক কিছু হতে চাই বৈকি। তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে আমাদের মনে রাখতে হবে, শ্রেষ্ঠ হওয়ার এবং সন্তানদেরকে সেরা ও আলোকিত মানুষ বানানোর একমাত্র পন্থা হচ্ছে- কোরআন শেখানো ও প্রয়োজনীয় ইসলামি জ্ঞান শিক্ষা দেওয়া। এ প্রসঙ্গে এক হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠ- যে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’

কোরআন শেখা হলো- আনন্দ প্রকাশের মাধ্যম ও পুঞ্জীভূত সম্পদ বিশেষ। সেরা আনন্দের জন্য আর সেরা সম্পদের অধিকারী হওয়ার জন্য কোরআন শেখার কোনো বিকল্প নেই। এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানুষ! তোমাদের কাছে এসেছে উপদেশ (কোরআন) তোমাদের রবের তরফ থেকে এবং অন্তরে যা রয়েছে তার নিরাময় এবং মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত। বল, এ কোরআন আল্লাহর অনুগ্রহে ও তার রহমতে। সুতরাং এতে তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত। তারা যা কিছু সম্পদ পুঞ্জীভূত করে তা অপেক্ষা- এটা কতোই না শ্রেয়!’ -সূরা ইউনুস : ৫৭-৫৮

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘কোনো পিতা তার সন্তানকে উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দেওয়ার চেয়ে উত্তম কোনো জিনিস দিতে পারে না।’ আর উত্তম শিষ্টাচারের মূল উৎস হচ্ছে কোরআনে কারিম। তাই কোরআন না শিখে, না পড়ে, না বুঝে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

দেখুন, আমরা নামাজ আদায় করি। নামাজ কবুল হওয়ার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন সূরা-কেরাত শেখা, কোরআন শেখা। কোরআনে আল্লাহতায়ালা আগে কোরআন তেলাওয়াতের এবং পরে নামাজ কায়েমের নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘ওহিযোগে যা নাজিল করা হয়েছে, তা পড় এবং নামাজ কায়েম করো।’ -সূরা আনকাবুত : ৪৫

একটু বয়স বেশি হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে চক্ষুলজ্জায় অনেকে কোরআন শিখতে পারে না। এ ছাড়া ও কোরআন না শেখার যেসব কারণ আছে তন্মধ্যে অন্যতম হলো- কোরআন শেখার গুরুত্ব সম্পর্কে অসচেতনতা, সময়ের অভাব ও কোরআনকে কঠিন মনে করা।

ইসলামি স্কলারদের অভিমত হলো- প্রকৃত ঈমানদার মুসলিমকে সব বাঁধা অতিক্রম করে কোরআন শিখতে হবে, কোরআন পড়তে হবে, কোরআন বুঝার ও মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে। কারণ, কোরআন শেখা ও তেলাওয়াত করা আল্লাহর আদেশ। কোরআন শেখা ফরজ। আল্লাহর আয়াতকে ভুলে থাকলে কিয়ামত দিবসে অন্ধ হয়ে উঠতে হবে। এ প্রসঙ্গে সূরা ত্বোয়া-হার ১২৪ নম্বের আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘এ পৃথিবীতে যারা সঠিক পথের সন্ধান পেতে চায় না, কেয়ামতের দিন তারা অন্ধ অবস্থায় কবর থেকে ওপরে উঠবে।’

কোরআন পরিত্যাগ করলে বিচারের দিন আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হবে। -সূরা ফোরকান : ৩০

কাজেই আসুন, কোরআন শেখার বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণ করে কোরআন শিখি, প্রয়োজনে প্রাইভেট বা একাকি হলেও শিখি। অভিভাবকরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেই। সেই সঙ্গে সমাজের দায়িত্ব সচেতনরা সমাজ সেবার অংশ হিসেবে কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করে অন্যদেরকে কোরআন শেখানোর ব্যবস্থা করি।

-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like