টাকার উৎস ‘ব্যাপার না’ অংয়ের

চীনা বংশোদ্ভূত এই জাঙ্কেট অপারেটর এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির টাকা থেকে ‘ধার উসুল’ হিসাবে পাওয়া ৪৬ লাখ ডলার ফেরত দিয়েছেন।

ফিলিপিন্সে জাঙ্কেট অপারেটর হিসেবে বড় বড় জুয়াড়িকে অর্থ ধার দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্যাসিনোয় তাদের গ্যারান্টার হওয়া এবং থাকা, ভ্রমণসহ নানা ধরনের সেবা দিয়ে থাকেন কিম অং।

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় অং ফিলিপিন্সের সিনেট কমিটির শুনানিতে দুইজনের নাম বলেছেন, যাদের একজন বাজিতে হেরে তার কাছ থেকে ধার নেওয়া এক কোটি ডলার ওই চুরি যাওয়া অর্থ থেকে পরিশোধ করেন বলে দাবি তার।

শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিম অং বলেন, বিত্তশালী জুয়াড়িদের সঙ্গে লেনদেনের সবসময় দুটি বিশেষ নিয়ম মানতে হয়- যে কোনো সময় জুয়াড়িদের টাকা বের করতে বলা যাবে, কিন্তু জিজ্ঞেস করা যাবে না সেই টাকা কোত্থেকে এসেছে।

“ক্যাসিনোয় আমরা সবসময় বলি, ‘কথা বলার আগে টাকা বের করো’।”

ক্যাসিনোয় টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া অসম্মানজনক জানিয়ে অং বলেন, “বিষয়টি জানতে চাইবেন না, চাওয়াটা অসম্মানজনক।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় কোনোভাবে জড়িত নন বলে সিনেটের শুনানিতে দাবি করেছেন চীনা বংশোদ্ভূত এই ব্যবসায়ী।

অংয়ের ভাষ্যমতে, বেইজিংয়ের শুহুয়া গাও এবং ম্যাকাওয়ের ডিং জিজে নামে দু্ই ব্যক্তি এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন।

গাও প্রায়ই ফিলিপিন্সে যাওয়া-আসা করেন এবং গত আট বছর ধরে জুয়ার মক্কেল (জাঙ্কেট এজেন্ট) এনে দেন। এই মহলে পরিচিতি রয়েছে তার। ম্যাকাওয়ের ব্যবসায়ী ডিংকেও তিনিই তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

তাদের পাসপোর্টের অনুলিপিও সিনেট কমিটিতে দিয়েছেন তিনি।

অং বলেন, গাও একবার সোলায়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোতে এক সপ্তাহের মধ্যে ৪৫০ মিলিয়ন ফিলিপিনো পেসো (প্রায় এক কোটি ডলার) হেরে ওই অর্থ তার কাছ থেকে ধার করেছিলেন।

ধারের অর্থ হিসেবে পাওয়া ওই এক কোটি ডলারের পাশাপাশি নিজের দুটি ক্যাসিনোর অ্যাকাউন্টে থাকা আর ৫৫ লাখ ডলার ফেরত দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশের দুদিনের মধ্যে বৃহস্পতিবার ৪৬ লাখ ডলার ফিলিপিন্সের মুদ্রা পাচার কর্তৃপক্ষের (এএমএলসি) কাছে ফেরত দিয়েছেন অং।

মঙ্গলবারের শুনানিতে তিনি বলেন, “আমাকে ১৫ দিন থেকে এক মাস সময় দিন, আমি পরিশোধ করে দেব।”

১৫ বছর আগেও কিম অং একবার সিনেট ব্লু রিবন কমিটির শুনানির মুখোমুখি হয়েছিলেন বলে ফিলিপিন্সের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। অবৈধ মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সে সময় ৩৯ বছর বয়সী অংকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এক সিনেটরের সঙ্গে মাদক চোরাচালানিদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে ।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ সময় সাধারণ জিনস ও পোলো শার্ট পরে থাকা কিম অংকে দেখলে মোটেই বিত্তশালী মনে হবে না কারও। ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলার এক রেস্তোরাঁর পেছনের কক্ষে বসে রয়টার্সকে বলেন তার উত্থানের কাহিনী।

শৈশবেই ফিলিপিন্সে আসেন অং। এখনও চীনা নাগরিকত্ব থাকা ৫৪ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীর আসল নাম কাম সিং অং।

১১ বছর বয়সে মা তাকে ম্যানিলা নগরীতে নিয়ে আসেন। সেখানে একটি তামাক কোম্পানিতে কাজ করা বাবার সঙ্গেই থাকতেন অং। এক সময় কলেজের পড়ালেখা বাদ দিয়ে বাবার সঙ্গে একই কারখানায় কাজ শুরু করেন তিনি।

পরে ওই কোম্পানির মালিকের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করেন তিনি। এক পর্যায়ে নিজেই টি-শার্টের কারখানা দেন। আস্তে আস্তে ম্যানিলায় বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁও খোলেন অং; যা তাকে ফিলিপিন্সের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়তা করে বলে রয়টার্সের ওই সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়।

এতে বলা হয়, ম্যানিলার উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লার্ক বিমানঘাঁটির একটি ক্যাসিনো রিসোর্টে জাঙ্কেট অপারেটর হিসেবে প্রথম জুয়া ব্যবসায় নামেন অং। পরে কয়েকজনকে নিয়ে তিনি ফিলিপিন্সের ক্যাগায়ন প্রদেশে ‘ইস্টার হাওয়াই লেইজার কোম্পানি’ নামে হোটেল ও ক্যাসিনো ব্যবসা গড়ে তোলেন।

ইস্টার হাওয়াইকে ক্যাগায়ানের সবচেয়ে বড় চাকরি যোগানদাতা প্রতিষ্ঠান দাবি করে অং রয়টার্সকে বলেন, স্থানীয় প্রায় এক হাজার মানুষ সেখানে কাজ করেন।

এছাড়া টেলিফোন রিসিভার হিসেবে কাজ করেন প্রায় ৩০০ চীনা, যাদের মাধ্যমে চীন (দেশটিতে জুয়া নিষিদ্ধ) থেকে জুয়াড়িরা বাজিতে অংশ নেন।

-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like