পরীক্ষায় যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৫০০ ল্যাপটপ

অর্থনীতি ডেস্ক: রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির ফলে সিআইডির তদন্ত দল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও সকল শাখা অফিসের প্রায় ১ হাজার ৫০০ ল্যাপটপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভংকর সাহা। মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

শুভংকর সাহা বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে ডেক্সটপের পাশাপাশি ল্যাপটপগুলোও চেক করা হবে। অনেক সময় ল্যাপটপগুলো অফিসের পাশাপাশি কর্মকর্তারা বাইরেও ব্যবহার করে থাকেন। আমাদের যে সাইবার অ্যাটাকটি হয়েছে এতে ল্যাপটপে কোনো ঝুঁকি রয়েছে কি না এবং এগুলোতে পরবর্তীতে ব্যবহারে কোনো অসুবিধা রয়েছে কি না সে বিষয়টি জানার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল অফিসের ল্যাপটপগুলোই পরীক্ষা করা হবে। এতে যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে সেটি মোকাবেলায় কোনো সফটওয়্যার বসানোর প্রয়োজন আছে কি না সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে। এ জন্যই ল্যাপটপগুলো নেয়া হচ্ছে।’

ল্যাপটপগুলো নেয়ার ফলে কর্মকর্তাদের কাজে কোনো ধরনের অসুবিধা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাময়িক একটু অসুবিধা তো হবেই। তারপরও প্রত্যেকের যেহেতু ল্যাপটপের পাশাপাশি ডেক্সটপ রয়েছে, তাই কাজে খুব বেশি অসুবিধা হবে বলে মনে হয় না। এখানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ল্যাপটপ রয়েছে।’

ফিলিপাইনের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো তথ্য আদান-প্রদান করছে কি না এবং করে থাকলে সেটা কিভাবে করা হচ্ছে জানতে চাইলে শুভংকর সাহা বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুরোধে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তাদের এন্টি মানি লন্ডারিং টিম চুরির সঙ্গে জড়িতদের বের করতে ও চুরির টাকা আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে আমাদের একটি সহযোগিতামূলক চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করছি। এতে তারা আমাদের কাছে কোনো তথ্য চাইলে সেটার যেটুকু দেয়া সম্ভব তা দিচ্ছি। তাদের কাছেও আমরা কিছু চাইলে তারা আমাদেরকে সহযোগিতা করছে।’

ফিলিপাইনের সিনেটে আজ শুনানি হয়েছে উল্লেখ করে শুভংকর বলেন, ‘দায়ী ব্যাংক ও আভিযোগকারীদের চিহ্নিত করার কাজ করছে ফিলিপাইন ও শ্রীলংকা। যারা টাকা নিয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করে এবং টাকা আদায়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে আমরা আশা প্রকাশ করছি। আমাদের তথ্য মতে শ্রীলংকার ও ফিলিপাইনের ৩৫টি ভুয়া নোটিশে টাকাগুলো চলে গেছে। এদের মধ্যকার চারজন সুবিধাভোগিকে ধরার বিষয়ে দেশগুলো বিশেষভাবে কাজ করছে।’

এছাড়া পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটির কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান শুভংকর সাহা। তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে একটি হচ্ছে সরকার কর্তৃক গঠিত সাবেক গভর্নর ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি, সিআইডি তদন্ত দল এবং অন্যটি করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেনসিক টিম। আমরা সাইবার সিকিউরিটি ও আইটি সিকিউরিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছি। ব্যবস্থাগুলো ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য আগের গভর্নরের সময় থেকেই কাজ করা হচ্ছে। এখন এর নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে কাজ করা হচ্ছে।’

-বাংলামেইল২৪

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like