ক্রিকেটের নতুন গল্প তৈরি করছে আফগানরা!

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দুর্ধর্ষ দলকে হারানোর পর আনন্দে উদ্বেলিত আফগান শিবির

ক্রীড়া ডেস্ক: ক্রিকেটে এশিয়ার একটা ঐতিহ্য রয়েছে। ফুটবলে যেমনটি রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার। গোটা ফুটবল দুনিয়াকে মোহিত করে রাখতে জুড়ি নেই ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলির। অথচ পাওয়ার ফুটবল বলতে আমরা কিন্তু বুঝি ইউরোপকেই। ক্রিকেটে গুটিকয়েক দেশ খেলে বলে এখানে ওভাবে মহাদেশভিত্তিক বিভাজন চলে না। তবে এশিয়া যে একটা বড় জায়গা দখল করে আছে সেটা কী আর বলতে হয়। এশিয়া না বলে এখানে দক্ষিণ এশিয়া বলাই ভালো। দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে আরও একটি শক্তি যোগ হতে চলেছে, আফগানিস্তান। আরব্য রজনীর গল্পের মতোই আফগানদের ক্রিকেট উত্থান। ক্রিকেটে এরকম দ্রুতগতিতে বোধহয় আর কোন দেশই এতটা উন্নতি করতে পারেনি, যতটা পেরেছে আফগানিস্তান।

টি২০ বিশ্বকাপে আফগানরা আবার বুঝিয়ে দিল নিজেদের সামর্থের কথা। সুপার টেনে যেখানে বাংলাদেশকেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। সেখানে আফগানরা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর সুখস্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরতে পারছে। এটা কী কম বড় অর্জন? তারা যাদের হারিয়েছে সেই উইন্ডিজের কাছে কিন্তু হেরেছে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং শ্রীলংকা।

এটা লেখা থাকবে যে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং শ্রীলংকার বিপক্ষে হেরেছে আফগানিস্তান। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা-শ্রীলংকাকে কতটা ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল আফগানরা সেটা লেখা থাকবে না! ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও যথেষ্ট ভালো খেলেছে আসগর স্ট্যানিকজাইরা। একটা ধারাবাহিকতা ছিলই।

সুপার টেনে আসাটাও আফগানদের জন্য সহজ ছিল না। প্রথম রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল টেস্ট খেলুড়ে দল জিম্বাবুয়ে। সাহসী আফগানদের সামনে জিম্বাবুয়েনরাও কোন বাধা হতে পারেনি। তবে বিশ্বকাপে এসেই যে আফগানরা এমন সাফল্য পেলো তা কিন্তু নয়। বছর দুয়েক ধরেই ধারাবাহিকতা দেখিয়ে আসছে দলটি। জিম্বাবুয়ের মাটিতে তারা জিম্বাবুয়েকে  হারিয়েছে ওয়ানডে এবং  টি২০ সিরিজে। বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সিরিজ জিতেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে আস্তে আস্তে নতুন ক্রিকেট পরাশক্তির আবির্ভাব যে হতে চলেছে এটা স্বীকার নিতে দোষ নেই! যাদের খেলার মতো মাঠ তো দূরের কথা, অনুশীলন করার মতোও কোন জায়গা নেই। তাদের এমন সাফল্যকে রূপকথা না বলে উপায় আছে! একটু অনুশীলনের জন্য আফগানদের যেতে হয় সীমান্ত এলাকা পেশোয়ারে। মাঠ না থেকেও যাদের এরকম সাফল্য আর নিজস্ব মাঠ থাকলে কী হবে! সঠিক পরিচর্যা এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পেলে এই আফগানিস্তান যে সত্যি সত্যি পরাশক্তি হয়ে উঠবে এতে কোনও সন্দেহ নেই।

-বাংলামেইল২৪

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like