দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে রায় ‘ঐতিহাসিক’ -শফিউল আলম প্রধান

রাজনীতি ডেস্ক :  খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দেয়া রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন ২০ দলীয় জোট শরিক জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান। রোববার দুপুরে দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের রায়ের পর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন শফিউল প্রধান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এ রায় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। উচ্চ আদালত পক্ষপাতহীন বিচারের পথে হাঁটছে। নাগরিকদের জন্য বিচারালয় শেষ আশ্রয়। হতাশ জাতি আলোর দিশা দেখতে পাচ্ছে।’

এর আগে, সকালে আদালত অবমাননার দায়ে খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন খারিজ করে দিয়ে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন উচ্চ আদালত। জরিমানা অনাদায়ে মন্ত্রীদ্বয়কে সাতদিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে ৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ রায় দেন। এ সময় দুই মন্ত্রী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বিবৃতিতে জাগপা সভাপতি বলেন, ‘আদালতের এ রায়ের পর দুই মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কী করা উচিত এবং ন্যায়বিচার ও সংবিধান কী বলে- দেশবাসী তা দেখতে চায়। ওয়াক্তের আওয়াজ আশা করি সবাই অনুধাবন করবেন। শক্তির উন্মক্ততায় অনেক কিছুকেই অবহেলা করা গেলেও নিয়তিকে উপেক্ষা করা যায় না।’

এদিকে রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু বাংলামেইলকে বলেন, ‘আদালতের ঐতিহাসিক এ রায়ের পর খাদ্যমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকতে পারবেন কিনা, সেটি প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট করা উচিত।’

তিনি দাবি করে বলেন, ‘ওই দুই মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ না দিলে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ব্যাহত হবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর উচিত, অবিলম্বে ওই দুই মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেয়া।’

অন্যদিকে রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় এই দুই মন্ত্রী তাদের নৈতিকতা হারিয়েছেন কিনা কিংবা মন্ত্রী হিসেবে থাকতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।’

-বাংলামেইল২৪

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like