জেহাদ-যুদ্ধের হুমকি হেফাজতের

hefajot_islam_meeting__12__641527677

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করা হলে জেহাদ ও যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। একইসঙ্গে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা হবেনা’ বলে হুমকিও দিয়েছেন দলটির এক নেতা।
 
শুক্রবার (২৫ মার্চ) দুপুরে জুমার নামাজের পর নগরীর আন্দরকিল্লায় শাহী জামে মসজিদের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে হেফাজত নেতারা এসব হুমকি দেন। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রক্ষার দাবিতে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে হেফাজত।

২৭ মার্চ হাইকোর্টে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল নিয়ে করা রিটের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।  ওই শুনানিকে কেন্দ্র করে হঠাৎ হেফাজতে ইসলাম রাজপথে সরব হয়ে উঠেছে।

বিক্ষোভ সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, আমাদের এবারের সংগ্রাম রাষ্ট্রধর্ম রক্ষার সংগ্রাম।  ইসলাম রক্ষার জন্য কোটি কোটি তৌহিদি জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেবে।  ২৭ তারিখ শুনানি আছে।  রাষ্ট্রধর্ম বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র কোটি কোটি তৌহিদি জনতা প্রতিহত করবে।

‘যদি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া হয়, তাহলে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে কঠিন, কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আমরা প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেব। ’ বলেন বাবুনগরী।

জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, আমরা কারও পক্ষে কারও বিপক্ষে বলব না।  আমরা শুধু ইসলামের পক্ষে বলব। কাউকে গদিতে বসানো আর কাউকে গদি থেকে নামানো আমাদের কাজ নয়।  কোন দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা আমাদের কাজ নয়।

তিনি বলেন, ইসলাম সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সমর্থন করেনা। ইসলামে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের স্থান নেই।

‘ফুল অনেক আছে, কিন্তু জাতীয় ফুল শাপলা।  মাছ অনেক আছে, কিন্তু জাতীয় মাছ ইলিশ।  ফল অনেক আছে, কিন্তু জাতীয় ফল কাঁঠাল।  ভাষা অনেক আছে কিন্তু আমাদের জাতীয় ভাষা বাংলা।  তাহলে ধর্ম অনেক থাকলেও রাষ্ট্রধর্ম কেন ইসলাম হবেনা ?’ বলেন জুনায়েদ বাবুনগরী।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম যদি বাতিল হয় তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে, সাংগঠনিকভাবে কোন মুসলমান তার মুসলমান পরিচয় নিয়ে থাকতে পারবেনা।  কোন মুসলমান মুসলমান থাকতে পারবেনা।

জুনায়েদ বাবুনগরী হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষদেরও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রক্ষার আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম।  রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকলে সবার জন্য শান্তি আসবে।  হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য শান্তি হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাঈনুদ্দিন রুহী বলেন, এবারের সংগ্রাম ইসলাম রক্ষার সংগ্রাম।  শাপলা চত্বরে রক্ত দিয়েছি।  প্রয়োজনে আরও রক্ত দেব।  ইসলামকে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করে ছাড়ব ইনশাল্লাহ।

তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আগুন নিয়ে খেলবেন না। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রী, র‌্যাব-পুলিশের প্রধান সবাই মুসলমান। আসুন সবাই মিলে ইসলাম রক্ষা করি।  রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা হবেনা। চট্টগ্রাম থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়া হবে।

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের ষড়যন্ত্রের পেছনে আছে পাশের রাষ্ট্র ভারত।  রাষ্ট্রধর্ম যদি বাতিল করা হয় তাহলে চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশের নাস্তিকদের বিরুদ্ধে জেহাদের ডাক দেয়া হবে।

কেন্দ্রীয় অর্থ সচিব ইলিয়াছ ওসমানি বলেন, প্রয়োজনে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে হলেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রক্ষা করা হবে।

হেফাজতের ঢাকা মহানগর কমিটির যুগ্ম সচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নিয়ে ষড়যন্ত্র বন্ধ না হলে বাংলাদেশে আরেকবার যুদ্ধের ঘোষণা দেয়া হবে।  বুকের তাজা রক্ত দিয়ে প্রয়োজনে শাহাদাৎ বরণ করব।  তবুও বাংলাদেশকে নাস্তিকমুক্ত করে ছাড়ব।

হেফাজত নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার বলেন, বাংলাদেশের মাটি রবীন্দ্রনাথ আর সূর্য সেনের মাটি নয়।  এই মাটি হাজী শরীয়তউল্লাহর মাটি।  এই মাটিতে ইসলাম নিয়ে ষড়যন্ত্র চলবেনা।

হেফাজতের উত্তর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইছহাক বলেন, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলের ষড়যন্ত্র আসলে বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।  যারা রাষ্ট্রধর্ম বাতিলের দাবি তুলছে তারা একদিন সংবিধান থেকে জাতির পিতা বাতিলেরও দাবি তুলবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজত নেতা কামরুল ইসলাম কাশেমী, আ ন ম ওয়াহেদ উল্লাহ, আনোয়ার হোসেন রব্বানি, জয়নাল আবেদিন কুতুবি, জুনায়েদ জহুর, অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন, জালাল উদ্দিন, সেলিমউল্লাহ, সাব্বির আহমেদ, আব্দুর রব, আশরাফ বিন মাহমুদ, মো.অলিউল্লাহ, ওসমান কাশেমি।

সমাবেশের পর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল বের করে হেফাজত।  সিটি করপোরেশন চত্বর পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি থাকলেও তারা পুলিশের বাধা অগ্রাহ্য করে জামালখানে খাস্তগীর স্কুলের সামনে পর্যন্ত মিছিল নিয়ে যায়। সেখানে মুনাজাতের মধ্য দিয়ে মিছিল শেষ হয়।

সমাবেশ ও মিছিলে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া হেফাজত নেতা মুফতি হারুন ইজাহারের মুক্তি দাবি করে ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে। এছাড়া সমাবেশ শুরুর আগে ঘাটফরহাদবেগ এলাকা থেকে কয়েক’শ যুবক এসে আন্দরকিল্লা মোড় দখলে নেয়। এসময় পুরো এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে মিছিলের পর আবারও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

-বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like