আসামি জামায়াতকর্মী, পুলিশ ধরেছে আরেকজনকে

Police

নাম ও বাবার নামে মিল থাকায় সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে একটি নাশকতার মামলায় জামায়াতকর্মীর বদলে পুলিশ এক ভ্যানচালককে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলাম (৫৫) সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের রোস্তম প্রমানিকের ছেলে।

অপরদিকে প্রকৃত আসামি হলেন জামায়াতকর্মী মন্ডলপাড়ার রোস্তম আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৩৫)।

শহিদুলের পরিবারের অভিযোগ, তারা গ্রেপ্তারের সময় বারবার পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন যে শহিদুল ওই মামলার আসামি নন।

গ্রেপ্তার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আছিয়া খাতুনের অভিযোগ, বুধবার ভোরে পুলিশ বাড়ি থেকে তার স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছে।

“আমরা বারবার পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে তিনি (শহিদুল) ওই মামলার আসামি নন। কিন্তু পুলিশ আমাদের কোনো কথা শোনেনি।

“বয়সের অনেক ব্যবধান থাকা সত্বেও শুধু নাম ও বাবার নামে মিল থাকায় আমার স্বামীকে তারা ধরে নিয়ে গেছে। আমার স্বামী একজন ভ্যান চালক। আমরা আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিবার। কোনোদিন মামলায় পড়িনি।”

এ বিষয়ে স্থানীয় দৌলতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য প্রতিবেশী আলতাফ হোসেন বলেন, “শহিদুল ইসলাম আমাদের দলীয় কর্মী। ২৫ বছর যাবত সে এই এলাকায় বসবাস করছে। বিষয়টি পুলিশকে অবগত করা হলেও কোনো লাভ হয়নি।”

মামলার আসামি জামায়াতকর্মী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী সাজেদা খাতুন জানান, তার স্বামী শহিদুল নিরাপরাধ হলেও তার নামে নাশকতার মামলা দেওয়া হয়েছে।

“হাই কোর্ট থেকে জামিন নিয়ে সিরাজগঞ্জ কোর্টে কয়েকবার তিনি হাজিরাও দিয়েছেন। দুবছর আগে তিনি মালয়শিয়া চলে গেছেন।”

এ বিষয়ে মামলার বাদী এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম সিরাজ ও মামলার আসামি থানা জামায়াতের আমির সেলিম রেজা বলেন, প্রকৃত আসামিকে বাদ দিয়ে নিরীহ মানুষকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো অপরাধ; অথচ পুলিশ তাই করেছে।

এনায়েতপুর থানার ওসি আকরাম হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় নাম ও ঠিকানা যাচাই-বাছাই করেই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এতে আমাদের কিছু করার নেই।”

শাহজাদপুর সার্কেলের এএসপি আবুল হাসনাত বলেন, “ঘটনাটি সত্য হলে তা হবে অত্যন্ত বেদনাদায়ক। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে।”

সিরাজগঞ্জের এসপি মিরাজ উদ্দিন আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, যেহেতু ওই ব্যক্তি হাজতে চলে গেছে, সেহেতু এখন তা খতিয়ে দেখে তারপর ব্যবস্থা নিতে হবে।

“তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে সে অনুযায়ী পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের ১১ মার্চ জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীরা এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

একই দিন আশপাশের খামার গ্রাম, গোপিনাথপুর, রুপসী, দ্বাদশপট্টি এলাকায় বেশ কয়েকটি মন্দিরের মূর্তি ভাংচুর হয়।

এ ঘটনায় ওই বছরের ১২ মার্চ ৩৫৭ জনের নাম উল্লেখসহ ১৫/১৬শ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

জামায়াতকর্মী রোস্তম আলীর ছেলে শহিদুল ইসলামকে এ মামলার এজাহারে ১৮১ নম্বর আসামি করা হয়।

তদন্ত শেষে পুলিশ গত বছর ২১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে, যাতে ওই জামায়াতকর্মীর (শহিদুল ইসলাম) নামও রয়েছে।

-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like