‘সন্ত্রাসমুখর’ নির্বাচন দেখলাম: নোমান

BNP-Noman

আবদুল্লাহ আল নোমান

তিনি বলেছেন, ‘সরকারের আজ্ঞাবহ’ নির্বাচন কমিশন দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ‘অকার্য্কর করে ফেলার ষড়যন্ত্র’ করছে।

শুক্রবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় নোমান বলেন, “সন্ত্রাসমুখর একটা নির্বাচন দেশে হচ্ছে। এতে সন্ত্রাসীরা অংশগ্রহণ করছে। যারা ভোটার তারা এই নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারছেন না। কেন্দ্রের আশে-পাশেও যেতে পারছেন না। কেউ সাহস করে গেলে বা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী অংশ গেলে তারা সেখানে গুলি খেয়ে মৃত্যুবরণ করছে।”

মঙ্গলবার সারা দেশের ৭১২টি ইউনিয়ন পরিষদের এই ভোট ঘিরে এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। প্রথম দফার ভোটে যে ৬২৯টি ইউপির ফল প্রকাশ করা হয়েছে, তার মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ৪৬৯টিতে এবং ৪৯টিতে বিএনপির প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।

১০৭ ইউপিতে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যাদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী।

মঙ্গলবারের ওই ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও বিএনপি বলেছে, নির্বাচনের নামে তামাশা হয়েছে।

নোমান বলেন, “আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাকে অকার্য্কর করে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে। এটা তারা করেই যাবে।”

জাতীয় প্রেসক্লাবে ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা: নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা’ শীর্ষক এই আলোচনায় আবারও বর্তমান ইসির অপসারণ দাবি করেন এই বিএনপি নেতা।

তিনি বলেন, “এই কমিশনের পরোক্ষ মেসেজ হলো- তোমরা ভোট কেন্দ্রে যেও না। কেন্দ্রে গেলে ভোটটা তুমি দিতে পারবে না। আর যদি ভোট দিতে পারো, সেই ভোট কাউন্ট হবে না। কাউন্ট যেটা হবে সেটা সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী।… তোমার জন্য সেই ব্যালট একটা কাগজ ছাড়া আর কিছু হবে না।”

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন নোমান।

“নির্বাচন কমিশনকে বলব, আপনাদের চাকরি শেষ হলে আপনারা নির্বিঘ্নে সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করা… সেটা পারবেন না। ফখরুদ্দীন, মঈন উ আহমেদ কোথায়? দেশে নাই।

“যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের বলব, এখনো সময় আছে, সাবধান হোন। চিন্তা করুন- জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ কোনো দিন লাভবান হতে পারে নাই। আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া খান, এরশাদ চেষ্টা করেছে, তাদের পেছনের দরজা দিয়েই পালিয়ে যেতে হয়েছে।”

সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না করলে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকেও ‘পেছনের দরজা দিয়ে’ পালাতে হবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান।

ইয়ুথ ফোরামের উপদেষ্টা মো. আতিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের রহমাতুল্লাহ আলোচনা সভায় বক্তব্য্য দেন।

-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Like